চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ নৌ-করিডোর : মেয়াদ ও খরচ দুটোই বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৮ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ নৌ-করিডোর দেশের অভ্যন্তরীণ ও ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ নৌযান এ করিডোরের মধ্যে দিয়ে চলাচল করে। দৈনিক প্রায় দুই লাখ যাত্রী এসব জলপথ ব্যবহার করেন।

মূল নদী ও শাখাগুলো খননের মাধ্যমে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার নৌপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নাব্য সংরক্ষণসহ উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ‘বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন প্রকল্প-১ (চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ ও সংযুক্ত নৌপথ খনন এবং টার্মিনালসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ)’ নামে একটি প্রকল্প ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বরে তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত খরচে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলছে, আগামী একনেক সভায় প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন হতে যাচ্ছে। সংশোধনীতে প্রকল্পের খরচ বাড়ছে ১৪৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং সময় বাড়ছে দেড় বছর। ফলে তিন হাজার ২০০ কোটি থেকে খরচ বেড়ে হচ্ছে তিন হাজার ৩৪৯ কোটি ৪২ লাখ।

প্রকল্প ঋণ হিসেবে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে তিন হাজার ৫২ কোটি ৮০ লাখ এবং বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ২৯৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন সময় বাড়িয়ে করা হচ্ছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্পটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিআইডব্লিউটিএ বলছে, ওয়ার্কস ও সার্ভিস প্যাকেজগুলো বিভিন্ন লটে বিভক্ত করা, প্যাকেজের মোট সংখ্যার পরিবর্তন, নতুন আইটেমের অন্তর্ভুক্তি, কিছু প্যাকেজের ব্যয় বৃদ্ধি, প্রকল্প বাস্তবায়নকালীন মেয়াদে অতিরিক্ত জনবলের সংস্থান, বিভিন্ন আইটেমের ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তঃখাত সমন্বয়, আইটেমগুলোর পুরোনো কোডগুলোকে নতুন অর্থনৈতিক কোডে রূপান্তর করা, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, প্রকল্পের সমাপ্তি, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কিত বিষয়াদি এবং প্রকল্পের সমাপ্তিকাল বৃদ্ধি।

প্রকল্প সূত্র বলছে, প্রকল্পের প্রধান কাজ হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম নৌ-করিডোরের আশুগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে মূল নদী ও শাখাগুলো ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার নৌপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নাব্য সংরক্ষণ করা। বিভিন্ন ধরনের নৌসহায়ক সরঞ্জাম স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সারাবছর নিরবচ্ছিন্নভাবে নৌযান চলাচলের নিশ্চয়তা বিধান করা। এ নৌ-করিডোর বরাবর ছয়টি স্থানে নৌযানগুলোর ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা।

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত স্থানগুলো হচ্ছে ষাটনল, চরভৈরবী, চাঁদপুর, মেহেন্দীগঞ্জ, সন্দ্বীপ ও নলচিরা। এই নৌ-করিডোরের তিনটি ফেরি ক্রসিং এলাকায় (চাঁদপুর-শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর-ভোলা এবং ভেদুরিয়া-লাহারহাট) সংরক্ষণ ড্রেজিং করা। চারটি যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণ ও উন্নয়ন (শ্মশানঘাট, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর ও বরিশাল) এবং দুটি কার্গো টার্মিনাল নির্মাণ ও উন্নয়ন (পানগাঁও ও আশুগঞ্জ) করা।

এছাড়া বিভিন্ন স্থানে (ভৈরব বাজার, আলু বাজার, হরিণা, হিজলা, মজু চৌধুরী, ইলিশা, ভেদুরিয়া, লাহারহাট, বদ্দারহাট, দৌলতখাঁ, চেয়ারম্যান ঘাট (চরবাটা), সন্দ্বীপ, তজুমদ্দিন, মনপুরা ও তমুরুদ্দিন) ১৫টি লঞ্চ ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ করা। দুটি মাল্টিপারপাস ভেসেল এবং আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি।

পিডি/বিএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]