দ. আফ্রিকান ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

আইপি সুরক্ষা, রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট (আরওআই) প্রযুক্তির মতো নানাবিধ সুবিধার কারণে বিনিয়োগকারীদের কাছে অন্যান্য সমমানের বাজারগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। তাই প্রযুক্তি এবং জ্ঞান স্থানান্তরের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)।

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সঙ্গে ‘বাইল্যাটের্যাল ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অপরচুনিটিজ ইন দ্য অনগোয়িং গ্লোব্যাল প্যানডেমিক’ শীর্ষক একটি ক্লাউড সম্মেলনে অংশ নিয়ে এ আহ্বান জানান দেশের ব্যবসায়ীরা।

গতকাল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দ্বিমুখী বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার বাজার প্রবেশ সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়।

সম্মেলনে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি নাইজেল ওয়ার্ড এবং সিইও পলেসা ফিলি মহামারি-পরবর্তী পরিস্থিতিতে উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এ বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মশতবার্ষিকী। আজকের আয়োজনটি তার নিরলস প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং এটি বিশ্বব্যাপী ৫১টি দেশে ১২৯টি অংশীদার সংস্থার সাথে আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততারই একটি অংশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যকার ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের বিষয়টি উল্লেখ করে ফজলে ফাহিম জানান, ফার্মা, আইসিটি, এফএমসিজি, হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস এবং ব্যাংকিং ও শিপিংয়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে দু’দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক সংস্থা একসাথে কাজ করে অগ্রগতি অর্জন করতে পারে।

সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি পরিপূরক হিসাবে এফবিসিসিআইয়ের অ্যাডভোকেসির অবিচ্ছিন্ন অংশগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা যখন স্বাভাবিকতার দিকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছি, তখন আমাদের অর্থনৈতিক বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী। কেননা জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক রিজার্ভ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমাদের অর্থনীতি শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এফবিসিসিআই তার সক্রিয় অ্যাডভোকেসি এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে বিস্তৃত পরিসরে আর্থিক ও অ-আর্থিক ব্যবস্থাসহ আর্থ-সামাজিক এজেন্ডা নিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য একটি শক্তিশালী রোডম্যাপ প্রণয়নে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, আইপি সুরক্ষাসহ আমাদের আরওআই প্রযুক্তির মতো অর্থনৈতিক রূপকারের কারণে বিনিয়োগকারীদের কাছে অন্যান্য সমমানের বাজারগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি এবং জ্ঞান স্থানান্তরের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের উৎপাদন প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এগিয়ে রাখাসহ, ডোমেস্টিক কনজিউমার বেস, আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশ, বিনাশুল্কে ভারত, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াতে বাণিজ্য সুবিধা এবং এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট সুবিধাসহ আরও অনেক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যৌথ উদ্যোগের উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা খনন, ইলেক্ট্রনিক্স, অটোমোবাইল ও মোটরবাইক শিল্পের উপাদান উৎপাদন, কৃষি, ফিশারি ও সমুদ্র অর্থনীতি সহযোগিতা, শিপিংয়ে সেবা সহযোগিতা, পর্যটন, উচ্চশিক্ষা এবং অর্থ খাতে দ্বিপক্ষীয় ভ্যালু চেইন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।

দ্বিমুখী বিনিয়োগ এবং বাজারে প্রবেশ সুবিধার গুরুত্ব উল্লেখ করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘ডারবান চেম্বার তার সদস্যদের এফবিসিসিআইয়ের সদস্যদের সাথে সংযুক্ত করে কাজ করতে সক্ষম এবং আগ্রহী। সাফল্য অর্জন করা সম্ভব এমন সব প্রকল্পগুলোতে উভয় প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা আবার নতুন করে সচল করে ভালো কিছু অর্জন করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

আগ্রহের কয়েকটি ক্ষেত্রের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে ডিসিসিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমাদের সদস্যদের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবসাকে সুবিধাজনক করে তোলা ডারবান চেম্বারের অন্যতম মূল লক্ষ্য এবং বাংলাদেশে আমাদের সদস্যদের জন্য দারুণ কিছু ব্যবসায়িক সহযোগিতা এগিয়ে আসার সম্ভাবনা দেখতে পেয়ে আমরা আনন্দিত।

তিনি আরও বলেন, ডিসিসিআই এবং এফবিসিসিআইয়ের কারিগরি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দলগুলোর জন্য আমাদের সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করতে কার্যকর ও জোরালো চুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ঘুরে দাঁড়ানোর এই সময়ে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে আমরা আমাদের দক্ষিণ-আফ্রিকার অংশীদার এবং ডিসিসিআইয়ের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করবো এমনটাই আশা করছি।

এফবিসিসিআই সভাপতি শিপবিল্ডিং, অটোমোবাইল শিল্প, রাসায়নিক এবং সমুদ্র অর্থনীতিতে একসাথে কাজ করার লক্ষ্যে কীভাবে উভয়পক্ষের যুক্ত হওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে ডিসিসিআইকে আবারও আশ্বস্ত করেন।

এসআই/এইচএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]