এসআর গ্রুপের ৩২ কোটি টাকার গোপন বিক্রি, ভ্যাট গোয়েন্দার মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৮ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২০

এসআর গ্রুপের তিনটি রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে ৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পেয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতর। এ কারণে প্রতিষ্ঠান তিনটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো- বিজয়নগরের সুং ফুড গার্ডেন, ধানমন্ডির গার্লিক এন জিঞ্জার, ইম্পেরিয়াল এবং যমুনা ফিউচার পার্কের গার্লিক এন জিঞ্জার।

নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের (মূল্য সংযোজন কর) মহাপরিচালক ড. মইনুল খান সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ভ্যাট গোয়েন্দার অনুসন্ধানে এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকার গোপন বিক্রির তথ্য উদ্ঘাটন করা হয়। এর মাধ্যমে এসআর গ্রুপ তিনটি রেস্টুরেন্টে সাত কোটি ১৩ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে আজ তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা।

Vat-2

এর আগে একই গ্রুপের ফুড ভিলেজ ও ফুড ভিলেজ প্লাস নামক দুটি হাইওয়ে রেস্টুরেন্টের ২০০ কোটি টাকার বিক্রির তথ্য গোপন ও এর বিপরীতে ২৬ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করা হয়।

ড. মইনুল খান আরও বলেন, দি গ্রেট কাবাব ফ্যাক্টরির রাজধানীর গুলশান-২, যমুনা ফিউচার পার্ক ও ধানমন্ডি এলাকায় তিনটি অভিজাত রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধেও প্রায় ১৫ কোটি টাকার গোপন বিক্রির তথ্য উদ্ঘাটন করা হয়। এতে ওই ব্যবসায়ী গ্রুপটির বিরুদ্ধে প্রায় তিন কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা হয়।

ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল রাজধানীর নিকুঞ্জ-১ এর ৪৬ নম্বরের লেকড্রাইভের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ভ্যাট গোয়েন্দার উপপরিচালক নাজমুন নাহার কায়সার ও ফেরদৌসী মাহবুব নেতৃত্ব দেন। এতে এসআর গ্রুপের মালিকানাধীন এই তিনটিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ও গোপনকৃত বিক্রয় তথ্য পাওয়া যায়। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে আজ এই তিনটি রেস্টুরেন্টের ভ্যাট ফাঁকির হিসাব চূড়ান্ত ও সেই সূত্রে ভ্যাট আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Vat-3

ভ্যাট গোয়েন্দার প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, সুং ফুড গার্ডেন (বিআইএন-০০১৩১৬২৯৭-০২০৮) নামীয় প্রতিষ্ঠানটি দাখিলপত্রে বিক্রয়মূল্য প্রদর্শন করেছে ছয় কোটি ৩৪ লাখ টাকা। কিন্তু অভিযানে জব্দকৃত কাগজপত্র থেকে প্রাপ্ত প্রকৃত মূসক আরোপযোগ্য বিক্রয়মূল্য পাওয়া যায় ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এখানে ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে দুই কোটি ৩২ লাখ টাকা। এই ভ্যাট যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ভ্যাট আইন অনুযায়ী মাসিক দুই শতাংশ হারে সুদ বর্তায় এক কোটি দুই লাখ টাকা।

গার্লিক এন জিঞ্জার, ইম্পেরিয়াল (বিআইএন-০০২১২৮৮৬২-০১০১) নামীয় প্রতিষ্ঠানটি দাখিলপত্রে বিক্রয়মূল্য প্রদর্শন করেছে তিন কোটি ৪৬ লাখ টাকা। কিন্তু জব্দকৃত তথ্যে দেখা যায়, তাদের প্রকৃত মূসক আরোপযোগ্য বিক্রয়মূল্য ১৫ কোটি সাত লাখ টাকা। এখানে ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে এক কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এই ভ্যাট যথাসময়ে পরিশোধ না করায় মাসিক দুই শতাংশ হারে সুদ ৯০ লাখ টাকা আদায়যোগ্য হয়েছে।

Vat-3

অন্যদিকে গার্লিক এন জিঞ্জার (বিআইএন-০০১২১৫৮৮৩-০২০১) নামীয় প্রতিষ্ঠানটি দাখিলপত্রে বিক্রয় ঘোষণা দিয়েছে দুই কোটি ৩৩ লাখ টাকা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এর প্রকৃত ভ্যাট আরোপযোগ্য বিক্রয়মূল্য সাত কোটি ৫২ লাখ টাকা। এখানেও ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে ৭৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এই ভ্যাট যথাসময়ে পরিশোধ না করায় একইভাবে মাসিক দুই শতাংশ হারে সুদ আরোপযোগ্য ২৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গার্লিক এন জিঞ্জার ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেট এবং বাকি দুটি ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে পাঠানো হবে। এই তিনটিসহ এ পর্যন্ত মামলা দায়েরকৃত অন্য পাঁচটি রেস্টুরেন্টে মোট বিক্রির তথ্য গোপন পাওয়া গেছে ২৪৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আর এতে ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এমএএস/বিএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]