ওয়ালটনের শেয়ারের দামের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২৫ এএম, ২৩ অক্টোবর ২০২০
ফাইল ছবি

ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের বিডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা (ইলিজিবল ইনভেস্টর) নীতিমালা অনুসারে দাম প্রস্তাব করেছে কিনা সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

পাশাপাশি ওয়ালটনের পরে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে টাকা তোলার উদ্দেশ্যে বিডিং করা অন্য কোম্পানিগুলোর বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বুধবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

তিনি জানান, বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে কোনো কোম্পানির বিডিংয়ে ৬০ টাকার বেশি যেসব কোম্পানির দর প্রস্তাব করেছে, ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জারি করা বিএসইসির সার্কুলার অনুসারে হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে ব্যাখ্যা তলব করা হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজসহ পরবর্তী অন্য সব কোম্পানিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা যে দাম প্রস্তাব করেছে, তাদের ব্যাখ্যা তলব করা হবে। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের খরচ মেটাতে পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য গত ৭ জানুয়ারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে বিডিংয়ে অংশ নেয়ার অনুমোদন দেয়।

অনুমোদনের ফলে কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণে গত ২ মার্চ বিকাল ৫টা থেকে ৫ মার্চ বিকাল ৫টা পর্যন্ত যোগ্য বিনিয়োগকারীরা বিডিংয়ে অংশ নেন। এ সময়ের মধ্যে বিডিংয়ে অংশ নেন ২৩৩ জন। এসব বিনিয়োগকারীরা সর্বনিম্ন ১২ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৬৫ টাকা করে ওয়ালেটনের শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেন।

এর মধ্যে সব থেকে বেশি সংখ্যক যোগ্য বিনিয়োগকারী প্রতিটি শেয়ারের জন্য ২১০ টাকা দাম প্রস্তাব করেন। এ দামে ১৪ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক বিনিয়োগকারী প্রস্তাব করেন ১৫০ টাকা করে। এ দামে ১০ বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনার আগ্রহ দেখান।

তবে বিডিংয়ে বরাদ্দকৃত ৬০ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ারের জন্য ৩১৫ টাকার ওপরে বিডিং হয়। ফলে কাট-অফ প্রাইস হিসাবে ৩১৫ টাকা নির্ধারিত হয়। এর ওপর ভিত্তি করে কোম্পানিটি ১৫ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৬টি সাধারণ শেয়ার ২৫২ টাকা মূল্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর (অনিবাসী বাংলাদেশিসহ) নিকট বিক্রি করে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় ওয়ালটনের শেয়ার।

শেয়ার লেনদেনের শুরুর পর প্রথম ৮ কার্যদিবস দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে হল্টেড হয়। দফায় দফায় দাম বেড়ে কোম্পানিটির ১০ টাকার শেয়ার দাম এক হাজার ৯ টাকা পর্যন্ত উঠে।

তবে এর পর থেকেই দাম কমতে শুরু করে। এমনকি মাঝে ক্রেতা সংকটও দেখা দেয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দাম ৩০ টাকা ৯০ পয়সা কমে ৭৫৫ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

এমএএস/এএইচ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]