নকল সিগারেটে সয়লাব বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১৯ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২০

নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেটে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বেঁধে দেয়া মূল্যের চেয়ে কমে এসব সিগারেট বিক্রি করায় মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আর নিরাপদে সিগারেট পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে কুরিয়ার সার্ভিসকে। ভ্যাট গোয়েন্দা, কুমিল্লা, সিলেট ও যশোর ভ্যাট কমিশনারেটের অভিযানে সম্প্রতি নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট ধরা পড়লেও মূল হোতারা থাকছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

সিলেটের লালা বাজার, ইসলামপুর বাজার, শাগলী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে কমে সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। এনবিআর প্রতি ১০ শলাকা নিম্ন মানের মূল্য ৩৯ টাকা, মধ্যম মানের ৬৩ টাকা, উচ্চ মানের ৯৭ টাকা ও প্রিমিয়াম সিগারেটের মূল্য ১২৮ টাকা বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা কোম্পানিগুলো নকল ব্যান্ডরোল লাগিয়ে এর চেয়ে কম দামে বাজারে সিগারেট সরবরাহ করছে।

যেমন ২০ শলাকার সিটি গোল্ড প্রিমিয়াম সিগারেটের প্যাকেটে মূল্য ৭৮ টাকা লেখা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে এক্সপ্রেস ও রমনা ব্রান্ডের সিগারেট। এর চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে রমনা ব্র্যান্ডের সিগারেট, ৩৫ টাকায়। এছাড়া দেশ গোল্ড, দেশ ব্লাক, দেশ গ্রিন, সিটি গোল্ড, সেনর গোল্ড ব্র্যান্ডের সিগারেট কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

গত ১৬ আগস্ট নকল সিগারেট জব্দের ঘটনায় কোতয়ালি থানায় ৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ২টি মামলা করে সিলেট ভ্যাট কমিশনারেট। এক মামলায় নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত ডারবি ও পূরবী ব্র্যান্ডের সিগারেট উৎপাদন, বাজারজাত ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব সিগারেট নাইওরপুলের এসএ পরিবহনে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়। রাজশাহী থেকে সিলেটে এই সিগারেটের চালান পাঠানো হয়েছিল।

অপর মামলায় পার্টনার ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট উদ্ধার দেখানো হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, কুমারপাড়ারের এ জে আর পার্সেল থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার জাল সিগারেটের চালানটি উদ্ধার করা হয়। গাজীপুর থেকে চালানটি সিলেটে পাঠানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট ভ্যাটের কমিশনার হোসাইন আহমেদ বলেন, নকল সিগারেট বিক্রি বন্ধে প্রতি সপ্তাহে দুইবার স্থানীয় বাজারগুলোতে এবং গোডাউনে অভিযান চালানো হচ্ছে। এমনকি কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতেও অভিযান চালানো হচ্ছে। কারণ নকল সিগারেটের বেশিরভাগই কুরিয়ারের মাধ্যমে আসে। আগের চেয়ে সিলেটে নকল সিগারেটের বিক্রি ও সরবরাহ বহুলাংশে কমেছে।

এদিকে ২৩ আগস্ট ভ্যাট গোয়েন্দা রাজধানীর শান্তিনগরের এসএ পরিবহনের ডিপোতে অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়া ও বগুড়া থেকে আসা নকল ব্যান্ডরোল লাগানো তিন লাখ ৯০ হাজার পিস সিগারেট জব্দ করে। চেজার ও সেনর গোল্ড ব্র্যান্ডের সিগারেটের দুটি চালানই নোয়াখালীর চৌমুহনীতে যাওয়ার কথা ছিল।

নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের (মূল্য সংযোজন কর) মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, ভ্যাট গোয়েন্দা চট্টগ্রাম, যশোরে অভিযান চালিয়ে একাধিক নকল সিগারেট কারখানা সিলগালা করেছে। পাশাপাশি কুরিয়ার সার্ভিসেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নকল সিগারেটের বাজারজাত রোধের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব সুরক্ষায় ভ্যাট গোয়েন্দা সর্বদা তৎপর।

দেশের রাজস্ব আয়ের সিংহভাগ আদায় হয় সিগারেট খাত থেকে। প্রতিবছর বাজেটে মানভেদে সিগারেটের ন্যূনতম মূল্যও নির্ধারণ করে দেয়া হয়। সে অনুযায়ী সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা দিয়ে সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন থেকে স্ট্যাম্প-ব্যান্ডরোল নিতে হয়। কিন্তু নকল কোম্পানিগুলো ব্রান্ডরোল না নিয়েই বাজারে সিগারেট বিক্রি করছে। এতে সরকার প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

এমএএস/এমএসএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]