‘প্রতিটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ১০-১৮% লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা আছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২০

বর্তমানে যে কয়টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড আছে তার সবগুলোর ১০-১৮ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা আছে বলে মন্তব্য করেছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পারসোনাল ফাইন্যান্স বিষয়ক অনলাইন পোর্টাল ‘আমার টাকা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে যাচ্ছে। মাথাপিছু আয় বাড়ার কারণে ডিসক্লোজার (প্রদর্শিত) আয় বেড়ে যাচ্ছে। ডিসক্লোজার আয় বাড়লে সেভিংস রেট (সঞ্চয়ের হার) বেড়ে যায়। সেভিংস রেট বাড়ার কারণে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়। দেশে সেভিংস বাড়ার কারণে বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, সারাবিশ্বে এমনকি ভারতেও মিউচ্যুয়াল ফান্ড হচ্ছে অল্টারনেটিভ ইনভেস্টের জায়গা। যারা ভালো বোঝেন না, তাদের জন্য সারাবিশ্বে হচ্ছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এই মুহূর্তে আমি দেখেছি আমাদের দেশে যত মিউচ্যুয়াল ফান্ড আছে, সবগুলোর সক্ষমতা আছে ১০-১৮ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার এবং কেউ কেউ দিচ্ছেও। ১০-এর ওপরে তারা রিটার্ন দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এখানেও আমাদের নতুন অল্টারনেটিভ প্রডাক্ট তৈরি করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি বন্ড পপুলার করার জন্য। সরকারিভাবে বন্ড পপুলার করার চেষ্টা চলছে। আমাদের সুকুক বন্ড প্রাইভেট সেক্টর থেকে আসবে। এগুলোর রিটার্নও ভালো হবে।

jagonews24

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, বন্ড মার্কেটে বীমা কোম্পানি ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। বন্ড মার্কেটে সিকিউড করে বীমা কোম্পানি অনেক রেভিনিউ জেনারেট করতে পারে। সারাবিশ্বে বীমা খাত যেমন ক্রেডিট ইন্স্যুরেন্স করে বিপুল প্রিমিয়াম আয় করে, বাংলাদেশেও ব্যাংক ইন্স্যুরেন্স এবং ক্রেডিট ইন্স্যুরেন্স করে বীমা খাতে প্রচুর টাকা আয় করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আমাদের যদি এক-দেড় বছর সময় দেন বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ইসলামিক সুকুক বন্ডে বড় ধরনের সুখবর আসবে। আমাদের বাংলাদেশি ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ওয়ার্ল্ড ওয়াইড আমাদের সঙ্গে বসবেন। দুবাই, সাংহাই, হংকং, লন্ডন ও নিউইয়র্ক, সেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা কীভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা যায় আমাদের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলবে। আমরা চাই এখানে বড় ধরনের বিনিয়োগ আসুক। বিলিয়ন বললে কম হবে, ঠিক মতো করতে পারলে অনেক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ চলে আসবে।

‘আমার টাকা’র সম্পাদক জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন- বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়াম্যান ড. মো. মোশাররফ হোসেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অফ ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) নির্বাহী প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, আমরা বীমা কোম্পানিগুলোর খরচ কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছি। আগের কোম্পানিগুলো ৬৫-৭০ শতাংশ খরচ করতো। আমরা একটাকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পদক্ষেপ নিয়েছি। এসব উদ্যোগ নেয়ার ফলে সম্প্রতি আমরা বীমা কোম্পানির শেয়ারে বড় একটা প্রতিক্রিয়া দেখতে পারছি।

অনুষ্ঠানে ‘আমার টাকা’র পক্ষ থেকে জানানা হয়, পোর্টালটি সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ব্যাংকিং, বীমা, আবাসান, আয়কর ও কেনাকাটা সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্যপূর্ণ ফিচার প্রকাশ করবে। এছাড়া থাকবে এসব বিষয়ের ওপর গুরুত্বপূর্ণ নানা টিপস।

এমএএস/এমএসএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]