ফুরিয়ে আসছে রিটার্ন দাখিলের সময়: কোথাও ফাঁকা, কোথাও ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৩ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০

আয়কর রির্টান দাখিলের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় কর অঞ্চলগুলোতে করদাতা-সেবাগ্রহীতাদের আনাগোনা বেড়েছে। চলমান মহামারির মধ্যেও বেশ কিছু কর অঞ্চলে ছিলো করদাতাদের উপচেপড়া ভিড়। আবার কোথাও কোথাও একদমই ফাঁকা।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচা, বিজয়নগরের বিভিন্ন কর অঞ্চলে ঘুরে দেখা মিলেছে এমন চিত্রের।

করদাতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্যের সত্যতাও মিলেছে।

কর কর্মকর্তারা জানান, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দেয়া যাবে। শেষ সপ্তাহে করদাতাদের চাপ সামলাতে বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছেন তারা।

jagonews24

করোনা সংক্রমণ রোধে নেয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। সেগুনবাগিচার কর অঞ্চল ১, ৭, ৮,১০, ১১ ও বিজয়নগরের কর অঞ্চল ১৪ ঘুরে দেখা গেছে মাস্ক ছাড়া মিলছে না সেবা। কিছু কর অঞ্চলে তাপমাত্রা মেপে সেবা প্রার্থীদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে।

আর রিটার্ন জমা শেষে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে করদাতাদের আহ্বান জানানো হচ্ছে। এছাড়া, করদাতাদের উৎসাহ দিতে দেয়া হচ্ছে আয়কর নিরুপণ এবং আয়কর সংক্রান্ত তথ্যকণিকা ও প্রীতি উপহার।

সেগুনবাগিচার নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর অঞ্চল-১০ এ গিয়ে দেখা গেছে, ৩টি অস্থায়ী রিটার্ন বুথ বসানো হয়েছে। দুপুরের দিকে ভীড় কম থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে কর দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন সেবা গ্রহীতারা। বিজয়নগরে আত-ত্বরীক টাওয়ারে কর অঞ্চল-১৪ ঘুরে দেখা গেছে, ভবনের নিচতলায় স্থাপন করা হয়েছে ৬টি আলাদা রিটার্ন গ্রহণ বুথ। প্রতিটি বুথে সার্কেল নম্বর লেখা রয়েছে। করদাতারা লাইনে দাঁড়িয়ে নিজ নিজ সার্কেলে রিটার্ন দাখিল করছেন। এছাড়া তথ্য ও সেবা কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সেবা নিচ্ছেন তারা।

রিটার্ন বুথগুলো মনিটরিং করছেন কর কমিশনার। এছাড়া, সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। করদাতাদের কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তোপখানার সারিকা টাওয়ার ও তার পাশের ভবনে চারটি কর অঞ্চলে প্রায় ২০টি রিটার্ন বুথ বসানো হয়েছে। সেগুনবাগিচার কর অঞ্চল ৭ ও ১১-তে সেবাগ্রহীতার ভিড় ছিল। কর অঞ্চল ১ এবং ৮ ছিল প্রায় ফাঁকা।

jagonews24

সেগুনবাগিচার নগর উন্নয়ন অধিদফতর কর অঞ্চল-১০ এ দুপুরে ভিড় কম ছিল। করদাতাদের সেবা দিতে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ব্রুশিয়ার। ব্রুশিয়ারে করমুক্ত আয়সীমা, ন্যূনতম কর, ব্যক্তি করদাতার সারচার্জ, রেয়াতের হার, কোন খাতে বিনিয়োগ রেয়াতযোগ্য, বেতন খাতে করযোগ্য আয় নিরূপণ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতার করযোগ্যতা ও কৃষি খাতের আয় নিরূপণের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া আয়কর আইনে রিটার্ন দাখিলের ব্যর্থতা এবং জরিমানাও তুলে ধরা হয়েছে।

বিজয়নগর কর অঞ্চল-১৪ এ দায়িত্বরত ঢাকার কর কমিশনার খন্দকার মো. ফেরদৌস আলম বলেন, ‘এবার মেলার আদলে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এখানে সব ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে। একজন সেবাগ্রহীতা সর্বোচ্চ ১ মিনিটের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন। খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। আশা করি এবার গতবছরের চেয়ে বেশি রিটার্ন দাখিল হবে।’

কর অঞ্চল ১০ এ রিটার্ন জমা দেয়া সরকারি কর্মকর্তা আমিনুল জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবারের মেলার পরিবেশ ভালো। আরামেই ঝামেলা ছাড়া রিটার্ন জমা দেয়া গেছে। এখন করোনার সাথেই আমাদের থাকরে হবে। তাই যতটা সম্ভব দেখেশুনেই সবাই রিটার্ন দিতে এসেছেন।’

এসএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]