বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী নরওয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৬ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০

বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে নরওয়ে। বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ইসপেন রিকটার এসভেনডসেন এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে একশতটি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে অনেক দেশ বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ট্যাক্সসহ বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এ মুহূর্তে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ খুবই আকর্ষণীয় স্থান। নরওয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে বেশি লাভবান হবে।

তিনি বলেন, নরওয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। নরওয়ে বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা পারস্পরিক দেশ সফরের মাধ্যমে এ সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেন। নরওয়েতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি হচ্ছে। এছাড়াও ওষুধ, সিরামিক পণ্য, ফার্নিচার, হিমায়িত মৎস্য, চামড়াজাত পণ্য এবং হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য করার সুযোগ রয়েছে, এ রফতানি আরও বাড়ানো সম্ভব।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পণ্যের একটি বড় বাজার। পার্শ্ববর্তী চীন ও ভারতও পণ্যের বড় বাজার। বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য এসব দেশে রফতানি করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। এখানে তুলনামূলক কম মূল্যে বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফলভাবেই কোভিড-১৯ মোকাবিলা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের জিডিপি গ্রোথ ৫.২৪ ভাগ হবে, যা এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের উন্নতিতে নরওয়ে খুশি। বাংলাদেশে নরওয়ের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। নরওয়ে টেলিফোন খাতে বড় বিনিয়োগ করেছে। নরওয়ের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রচুর চাহিদা নরওয়েতে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা খুবই আকর্ষণীয়। আগামীতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা বসে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করবে। উভয় দেশের সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।

উল্লেখ্য, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ নরওয়েতে ৬৮.১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ৫১.৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য।

আইএইচআর/জেএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]