বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারানোর শীর্ষে জিল বাংলা সুগার মিলস

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১১ এএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২১

বড় উত্থানের মাধ্যমে গত সপ্তাহ পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়েছে। প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় তিনশ পয়েন্ট। দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

শেয়ারবাজারে সপ্তাহটি খুব ভালো কাটলেও জিল বাংলা সুগার মিলসের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের জন্য সপ্তাহটি ভালো ছিল না। বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে আগ্রহী না হওয়ায় সপ্তাহজুড়েই শেয়ার দাম কমেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারিয়ে ডিএসইতে দাম কমার শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে কোম্পানিটি।

এর আগে শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় গত সেপ্টেম্বরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়।

বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নির্দেশে বলা হয়, ডিএসইতে জিল বাংলা সুগার মিলসের শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেন ও দামের তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। এ কারণে কমিশন মনে করে, বাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা প্রয়োজন।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের ৯ জুলাই জিল বাংলা সুগার মিলসের শেয়ারের দাম ছিল ৩১ টাকা ৬০ পয়সা, যা বাড়তে বাড়তে ১৪ সেপ্টেম্বর ২১৩ টাকা ১০ পয়সায় ওঠে। এ হিসেবে দুই মাসে প্রায় ৫৭৫ শতাংশ বাড়ে কোম্পানিটির শেয়ার দাম। এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়।

দেড় মাস লেনদেন বন্ধ থাকার পর ১ নভেম্বর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার আবার লেনদেন শুরু হয়েছে। লেনদেনে ফিরে চার কার্যদিবস কোম্পানিটির শেয়ার দাম কিছুটা কমে ১৪২ টাকা ২০ পয়সায় নেমে আসে। তবে এরপর আবার দাম বেড়ে ২০৩ টাকা ৩০ পয়সায় ওঠে।

তবে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের প্রতিটিতেই কোম্পানিটির শেয়ার দাম কমেছে। বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কিনতে আগ্রহী না হওয়ায় গত সপ্তাহজুড়ে শেয়ারের দাম কমেছে ২১.৪১ শতাংশ। টাকার অঙ্কে দাম কমেছে ৪২ টাকা ৮০ পয়সা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ১৫৭ টাকা ১০ পয়সা, যা তার আগের সপ্তাহ শেষে ছিল ১৯৯ টাকা ৯০ পয়সা।

শেয়ারের এমন দাম হলেও ১৯৮৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি কবে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়েছে সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য ডিএসইর ওয়েবসাইটে নেই। তবে ডিএসইর ওয়েবসাইটে ২০১৫ সাল থেকে কোম্পানিটির লাভ-লোকসানের তথ্য রয়েছে।

সেই তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০১৯ এই পঁচ বছরের প্রতিটি বছরেই কোম্পানিটি বড় অঙ্কের লোকসান করেছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে ১০৩ টাকা ৯০ পয়সা, ২০১৮ সালে ৮০ টাকা ৮২ পয়সা, ২০১৭ সালে ৫৪ টাকা ৯ পয়সা, ২০১৬ সালে ৬২ টাকা ৫৬ পয়সা এবং ২০১৫ সালে ৫৬ টাকা ৮৯ পয়সা শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে।

জিল বাংলা সুগার মিলসের পরই গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারানোর তালিকায় ছিল ন্যাশনাল পলিমার। সপ্তাহজুড়ে এই কোম্পানিটির শেয়ার দাম কমেছে ২০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স। সপ্তাহজুড়ে এই কোম্পানিটির শেয়ার দাম কমেছে ১৬ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এছাড়া গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারানোর শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় থাকা- এডিএন টেলিকমের ১৫.০৮ শতাংশ, পিপলস ইন্স্যুরেন্সের ১৩.৩৫ শতাংশ, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের ১২.৬১ শতাংশ, নর্দান ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ১২.২৪ শতাংশ, সোনালী আঁশের ১১.৯৯ শতাংশ, দুলামিয়া কটনের ১১.২৮ শতাংশ এবং মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের ১১.২৮ শতাংশ দাম কমেছে।

এমএএস/এমএইচআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]