টাকা ছাড়াই পণ্য মেলে অদল-বদল স্টোরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০১ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২১

মুদ্রা বা অর্থ আবিষ্কারের পর পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় বিনিময় প্রথা। তবে রাজধানীর বুকে চালু আছে এই প্রথা। অনেকেই অর্থের অভাবে কিনতে পারছেন না ভালো পোশাক, হাড়ি-পাতিল, বাসন কিংবা বিয়ের শাড়ি। তারা নগদ টাকা ছাড়া সমপরিমাণ অর্থের খাদ্যদ্রব্যের বিনিময়ে পছন্দসই পণ্য কিনতে পারবেন রাজধানীর একটি দোকান ‘অদল-বদল স্টোর’ থেকে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন পরিচালিত অদল-বদল স্টোরটির অবস্থান মিরপুর ১০ নম্বরে।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে দোকানটি ঘুরে দেখা গেছে, শার্ট, কোট, টাই, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, পানির ফিল্টার, ব্যাগ, শো-পিচ, হাঁড়ি-পাতিল, বই, জুতাসহ বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে একটি কম্পিউটারও আছে দোকানটিতে। রয়েছে কনের জন্য বেনারসি ও কাতান, বরের শেরওয়ানিও সাজিয়ে রাখা আছে। পণ্যের গায়ে উল্লেখ আছে দাম।

jagonews24

দোকানটি পরিচালনাকারী বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবক রাখী জানান, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর থেকে অস্থায়ী এই দোকানটির যাত্রা শুরু হয়। এটি নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের জন্য পণ্যের বিনিময়ে পণ্য কেনার দোকান। এই স্টোরে কোনো ক্রয়-বিক্রয় হয় না। নিজের কাছে থাকা যেকোনো খাদ্যদ্রব্য বিনিময় করে সমমূল্যের অন্য কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস নেয়া যায় এখান থেকে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র স্বেচ্ছাসেবক সুলতানা জান্নাত বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরে এই দোকানটি চালু করি আমরা। আমাদের এটা তো অদল-বদল। আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার টাকা মূল্যের বদল করা জিনিস পেয়েছি।’

jagonews24

অনেকেই তাদের ব্যবহৃত কাপড়, গ্লাস, প্লেট, খেলনা ইত্যাদি আমাদের বিদ্যানন্দের শাখায় দিয়ে আসেন। সেগুলো আমরা রিফাইন করি। ধুয়ে, মুছে পরিষ্কার করে সেগুলো অদল-বদলে এনে রাখি।

এগুলো যে কেউ নিতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে তাকে চিনি, লবণ, আলু, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপেসহ বেশ কিছু পণ্যের বিনিময়ে এগুলো নিতে পারবেন বলে জানান সুলতানা জান্নাত। দাতার দেয়ার এসব পণ্য বিদ্যানন্দের ‘এক টাকায় আহার’ কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয় বলে জানান তিনি।

jagonews24

একদিনে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা সমমূল্যের পণ্য ও এক মাসে দুইবার পণ্য নেয়া যাবে দোকানটি থেকে। দোকানটি থেকে কেনা যাবে বিয়ের শাড়ি, শেরওয়ানি। তবে সেক্ষেত্রে বিয়ের প্রমাণ দেখাতে হবে বর কিংবা বধূকে।

সুলতানা জান্নাত বলেন, ‘আমাদের এখানে বেশ কিছু বিয়ের শাড়ি, শেরওয়ানি আছে। সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করে বিক্রি করি। বিয়ে হবে সেই প্রমাণ দিয়ে সংশ্লিষ্টদের এ জিনিসগুলো কিনতে হবে। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিয়ের শাড়ি এক থেকে দুই হাজার টাকা মূল্যের সমপরিমাণ পণ্যের বিনিময়ে পাওয়া যাবে এখানে।

একইভাবে কম্পিউটার কিনতে কোন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, আসলেই প্রয়োজন আছে কি না সেই প্রমাণ দিতে হবে। আবার ৫০০ টাকা সমমূল্যের সব কাচের গ্লাস একজন নিয়ে নেবেন তাও হবে না। যার সত্যিকারের প্রয়োজন তিনিই সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এখান থেকে পণ্য নেবেন।

jagonews24

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক সুলতানা জান্নাত আরও জানান, অদল-বদল স্টোরের কার্যক্রম আপাতত ঢাকা ও চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের স্টোর স্থায়ী হলেও ঢাকারটি শুরু হয়েছে অস্থায়ীভাবে। ভালো সাড়া পাওয়া গেলে এটিও স্থায়ীভাবে চালানো হবে এবং সম্প্রসারণ করা হবে।

দোকানটিতে এসে বেসরকারি চাকরিজীবী সাদ মোহাম্মদ জানান, আমি কিছু চিনি-তেলের বিনিময়ে খাতা, কলম নেব। এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতেই হয়।

এসএম/এআরএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]