ভ্যাট ফাঁকির দায়ে ২ ফার্নিচার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২১

রাজধানীর মিরপুরের রোকেয়া সরণির দুই ফার্নিচার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির দায়ে পৃথক মামলা করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতর। প্রতিষ্ঠান দুটি প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটো হলো- মিরপুরের শেওড়াপাড়ার জৈনপুর ফার্নিচার ও হোমউড ফার্নিচার।

নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের (মূল্য সংযোজন কর) মহাপরিচালক ড. মইনুল খান সোমবার (২৫ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল গত ২৮ ডিসেম্বর আকস্মিক অভিযান চালায়। এতে সংস্থার সহকারী পরিচালক মাহিদুল ইসলাম নেতৃত্ব দেন।

অভিযানকালে গোয়েন্দা দল দেখতে পান, প্রতিষ্ঠান দুটি নিবন্ধিত হলেও যথাযথ ভ্যাট চালান প্রদান করে না। গোয়েন্দা দল উপস্থিত কাউন্টার থেকে ডুপ্লিকেট কাগজপত্র পান।

প্রতিষ্ঠান দুটির প্রাঙ্গণ থেকে গোয়েন্দা দল বাণিজ্যিক কাগজপত্র জব্দ করে আনে। একজন গ্রাহকের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে গোয়েন্দা দল জব্দকৃত কাগজপত্রের সাথে তাদের রিটার্নের তথ্য যাচাই করে এবং দেখতে পায় যে, তারা প্রকৃত বিক্রয় হিসাব গোপন করে কম মূল্য প্রদর্শন করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে।

jagonews24

জৈনপুর ফার্নিচার মার্চ ২০১৮ থেকে মার্চ ২০২০ পর্যন্ত দুই বছরে ভ্যাট দিয়েছে মাত্র ৫৩ হাজার টাকা। এই হিসাবে জৈনপুর ফার্নিচার মাসিক ভ্যাট প্রদান করে মাত্র ২০০০ টাকা। কিন্তু এই সময়ে বিক্রি গোপন করেছে ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এতে ভ্যাট আরোপযোগ্য হয়েছে ৫৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। সময়মতো সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা না দেয়ায় ওই টাকার ওপর মাসভিত্তিক ২ শতাংশ হারে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা সুদসহ মোট ৮১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা আদায়যোগ্য।

অপরদিকে, হোমউড ফার্নিচার গেল বছরের আগস্ট নভেম্বর পর্যন্ত চার মাসে ভ্যাট দিয়েছে মাত্র ৩২ হাজার টাকা। এই হিসাবে মাসিক ভ্যাট প্রদান করে মাত্র ৮০০০ টাকা। কিন্তু এই সময়ে বিক্রি গোপন করেছে ৭৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এতে ভ্যাট ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায়যোগ্য।

প্রতিষ্ঠান দুটি মোট বিক্রি গোপন করেছে ৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এতে ভ্যাট আদায়যোগ্য ৬৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। সময়মতো সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা না দেয়ায় ওই টাকার ওপর মাসভিত্তিক ২ শতাংশ হারে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা সুদ টাকা আদায়যোগ্য। সেই মোতাবেক প্রতিষ্ঠান দুটি মোট ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে ৯৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

ভ্যাট আইন অনুসারে ভ্যাট ফাঁকির দায়ে সোমবার (২৫ জানুয়ারি) প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। চূড়ান্ত বিচারাদেশের জন্য সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট (ঢাকা পশ্চিম) মামলা দুটো প্রেরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরের জন্য ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এমএএস/এমএসএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]