অন্যের জমি নিজেদের দেখিয়ে প্রকল্প অনুমোদন, এখন আরও টাকা চায় বাপক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৩৭ এএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২১

সড়ক ও জনপথের (সওজ) জমি নিজেদের দেখিয়ে তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছ থেকে পঞ্চগড়ে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন নিয়েছিল বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বাপক)। প্রকল্পের কাজ শুরু করতে গেলে সওজ মামলা ঠুকে দেয় এবং তারা জমি ফিরে পায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘পঞ্চগড়ে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ’ নামের প্রকল্পটি ২০১৮ সালের নভেম্বরে ২২ কোটি ৪৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা খরচে অনুমোদন দিয়েছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা রয়েছে। অথচ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চললেও এখনো প্রকল্পের ভৌত কাজ শুরুই করতে পারেনি বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাপক। এখন বাপক ব্যক্তিগত জমি কিনে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায়। এ জন্য তারা প্রকল্পের খরচ বৃদ্ধিসহ সংশোধন চেয়ে আবেদন করেছে পরিকল্পনা কমিশনে।

প্রকল্পটির ওপর প্রথম পিআইসি সভা বাপকের প্রধান কার্যালয়ে ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভা সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) জমিটি পর্যটন করপোরেশনের নিজস্ব জমি হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ডিপিপি অনুমোদন পরবর্তী পঞ্চগড়ে বাপক তাদের দাবি করা সেই নিজস্ব জমিতে পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করলে সওজের সঙ্গে জটিলতা দেখা দেয়ায় জমির মালিকানা নিয়ে মামলা হয়। বাপক মামলায় হেরে যায় এবং জমির মালিকানা সওজের নামে বহাল থাকে।

অনুমোদিত প্রকল্পের অধীন পঞ্চগড়ে পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন এখন। কিন্তু প্রকল্পের জমির অধিগ্রহণ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে জমির অধিগ্রহণের ব্যয়সহ প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে নতুন করে জমি বন্দোবস্ত/অধিগ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। নতুন জমি বন্দোবস্ত প্রদানের জন্য পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসককে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর চিঠি দেয়া হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে এক একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি নির্বাচন করেন। প্রস্তাবিত জমিটি অবস্থানগত কারণে সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

জমিটি পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের বাম পাশে অবস্থিত ডাঙ্গা শ্রেণির জমি। এ জমির বিপরীতে রাস্তার অপর পার্শ্বে পণ্যবাহী ট্রাক মাপার ‘ওজন স্কেল’ এবং পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস অবস্থিত। জমিটি পঞ্চগড় শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে দুই কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। শহরের উপকণ্ঠে উপযুক্ত খাস জমি না পাওয়ায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি নির্বাচন করা হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।

পিডি/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]