ধসের মধ্যেই শেয়ারবাজার, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যুক্তিসঙ্গত না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০১ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

টানা ধস দেখা দিয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা পাঁচ কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকল শেয়ারবাজার। টানা দরপতনের পাশাপাশি লেনদেনেও খরা দেখা দিয়েছে।

শেয়ারবাজারে এমন টানা দরপতন দেখা দিলেও তাকে স্বাভাবিক ও যুক্তিসঙ্গত মনে করছেন না বিশেষজ্ঞ ও বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বর্তমানে সুদের হার বেশ কম। দেশের অর্থনীতিও ভালো অবস্থানে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে এমন টানা দরপতন দেখা দেয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

তাদের পরামর্শ, বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরতে হবে। অকারণে প্যানিক সেল করা ঠিক হবে না। আর যেমন তেমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করে, ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এখন বেশকিছু ভালো কোম্পানির শেয়ার দাম কমে গেছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানি বাছাই করে দীর্ঘমেয়াদের জন্য বিনিয়োগ করতে পারেন।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার লেনদেন শেষে সূচকের বড় পতন হলেও লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে। এতে প্রথমদিকে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও দেখা দেয়। প্রথম ১৫ মিনিটের লেনদেনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২ পয়েন্ট বেড়ে যায়। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় লেনদেনের প্রথম দেড় ঘণ্টা সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকে।

তবে বেলা সাড়ে ১১টার পর একের পর এক প্রতিষ্ঠানের দাম কমতে থাকে। ফলে নিম্নমুখী হতে থাকে সূচক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পতনের এই মাত্রা বাড়তে থাকে। এতে লেনদেন শেষে ধসে পরিণত হয় শেয়ারবাজার।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে পতনের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ১৫৬টি। আর ১১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম কমায় একদিনেই তিন হাজার কোটি টাকার ওপরে মূলধন হারিয়েছে ডিএসই। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৪ কোটি টাকা। যা আগের কার্যদিবস শেষে ছিল ৪ লাখ ৬০ হাজার ৮০ কোটি টাকা। এ হিসেবে বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৭৬ কোটি টাকা।

অপরদিকে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৩৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২০৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ারবাজারের এই দরপতন সম্পর্কে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, এই দরপতনের যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ আমি দেখি না। বিনিয়োগকারীরা কেন আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করছে আমি বুঝি না। অনেক ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ার দাম কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এখন দেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থানে রয়েছে। সুদের হারও বেশ কম। এই সবকিছুই পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। আমি মনে করি, দাম কমে যাওয়ায় এখন বিনিয়োগকারীদের কেনা উচিত। তবে যেই-সেই কোম্পানির শেয়ার কেনা যাবে না। অবশ্যই ভালো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। ব্যাংকে টাকা রাখলে এখন যে রিটার্ন পাওয়া যাবে, শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে তার থেকে বেশি রিটার্ন পাওয়া যাবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মো. শাকিল রিজভী জাগো নিউজকে বলেন, এখন বাজার খারাপ হওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। তবে এখন একটি কোম্পানির আইপিও আবেদন চলছে। এতে কিছু বিনিয়োগকারী টাকা তুলে নিয়ে আইপিও আবেদন করছেন। বাজারে নেতিবাচক প্রবণতার জন্য এটি একটি কারণ হতে পারে। তারপরও ব্যাংকের সুদহার এখন বেশ কম। এটা পুঁজিবাজারের জন্য ভালো সংবাদ। আমাদের ধারণা আগামী সপ্তাহ থেকেই হয়ত বাজার ভালো হবে।

এদিকে মূল্য সূচকের বড় পতন হলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৯১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৪৬৭ কোটি ৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ১২৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১৮৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ৩৭ কোটি ৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৩৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, রবি, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন, সামিট পাওয়ার, গ্রামীণফোন এবং লাফার্জহোলসিম।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৮১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৯টির এবং ৫১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এমএএস/এআরএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]