‘বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্প্রসারণে বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন আবশ্যক’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৮ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্প্রসারণে যোগাযোগ ও বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন আবশ্যক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশে উৎপাদিত ভোজ্যতেল অথবা আমাদানিকৃত ভোজ্যতেলের কমপক্ষে ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হলে তা ভারতে রফতানি করতে কোনো বাধা নেই।’

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে বাংলাদেশের ভোগ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বিএসটিআই এর সনদের সত্যয়ন যেন ভারতে গ্রহণযোগ্য হয়, তা নিয়ে ভারত সরকার কাজ করছে। আশা করি- এ বিষয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে।’

বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, সমুদ্র পথে ঢাকা হতে দিল্লীতে পণ্য পরিবহনের খরচ অত্যন্ত বেশি, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা কমিয়ে আনতে দু’দেশের ব্যবসায়ী সমাজকে নিজ নিজ দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বেনাপোল এবং পেট্রপোলসহ বাংলাদেশের সকল স্থলবন্দরসমূহের ভৌত অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন আবশ্যক। কারণ এ ধরনের সেবার অনুপস্থিতির কারণে পণ্য পরিবহনে দীর্ঘসূত্রিতার ফলে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়াও ভারতীয় হাইকমিশনার পণ্য পরিবহনে রেলপথ ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার পণ্য আমদানি-রফতানিতে রেলপথের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোরা দেন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের রেল ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

পাশাপাশি সিরাজগঞ্জে রেলওয়ের একটি কনন্টেইনার ডিপো স্থাপনেরও প্রস্তাব করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি জানান, বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ নৌবন্দর ব্যবহারের ভারত অত্যন্ত আগ্রহী। তবে এজন্য বিদ্যমান নৌপথের বেশকিছু জায়গা নাব্যতা বৃদ্ধিতে ড্রেজিং করা খুবই জরুরি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নীতিমালার সংস্কার প্রয়োজন।

এ সময় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ভারতীয় বিনিয়োগ বাংলাদেশে আকর্ষণ এবং এদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য তিনি দু’দেশের ব্যবসায়ীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারত এবং বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ এসেছে প্রায় ৬৪৫.৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি দু‘দেশের বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে বাংলাদেশ থেকে ওভেন গার্মেন্টস, নিটওয়্যার, টেক্সটাইল ফাইবার, হোম টেক্সটাইল প্রভৃতি পণ্য আরও বেশি হারে আমদানির জন্য ভারতীয় উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, সরকার দেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও নানাবিধ সুবিধা সম্বলিত বিনিয়োগ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এবং এ ধরনের সুযোগ গ্রহণ করে অটোমোবাইল, তথ্য-প্রযুক্তি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পুঁজিবাজার, ঔষধ, খাদ্য ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং হালকা প্রকৌশল প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

ডিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন, ২০১৭ সাল হতে বাংলাদেশের প্রতি টন পাটজাত পণ্যে ভারতে রফতানির ক্ষেত্রে ১৯ থেকে ৩৫১.৭২ মার্কিন ডলারের এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যার ফলে ভারতের বাজারে আমাদের পাট রফতানি কমে এসেছে। এ অবস্থা নিরসনে দ্রুততার সঙ্গে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন তিনি।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আরও বলেন, ২০২০ সাল থেকে ভারত সরকারের চালু করা ‘কাস্টমস রুলস ২০২০’ আইনের কারণে ‘সাফটা’ ও ‘আপটা’ এর আওতায় ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা গ্রহণ হতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

রিজওয়ান রাহমান বলেন, দিল্লীতে বাংলাদেশের রফতানিমুখী পণ্য সমুদ্রপথে পরিবহনের খরচ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহের চেয়ে তুলনামূলক বেশি, যা দু’দেশের বাণিজ্য সম্প্রারণের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা।

এমএএস/এএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]