বন্ধের আগে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩০ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২১

করোনাভাইরাস সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আগামীকাল (১৪ এপ্রিল) থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এই বিধিনিষেধের মধ্যে বন্ধ থাকবে ব্যাংক। ফলে শেয়ারবাজারেও লেনদেন হবে না।

শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ হওয়ার আগে মঙ্গলবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বড় উত্থান হয়েছে।

দুই বাজারেই মূল্য সূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। সেই সঙ্গে দামবৃদ্ধির তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট।

বিনিয়োগকারীরা বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়ায় শেয়ারবাজারে এই উত্থান হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়াননি। বরং অনেকে কম দামে কেনার চেষ্টা করেছেন। তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতে কিছু বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ান। এতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয় এবং ঋণাত্মক হয়ে পড়ে সূচক। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই চিত্র বদলে যায়। বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ কমায় ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠে সূচক।

প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেন বাদ দিলে বাকি দুই ঘণ্টাজুড়েই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে। এতে দিনের লেনদেন শেষে বড় উত্থান হয় সবকটি সূচকের।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ‘ডিএসই-৩০’ সূচক ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসইর ‘শরিয়াহ্’ সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বাজারটিতে দিনভর লেনদেনে অংশ নেয়া ২২৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দামবৃদ্ধির তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৩টির। আর ৫৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মূল্য সূচকের উত্থানের সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৪৯৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনেদেন বেড়েছে ১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৪০ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিডি ফাইন্যান্সের ২৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ২২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রবি।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, লাফার্জহোলসিম, জিবিবি পাওয়ার, এশিয়া প্যাসেফিক ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স এবং বেক্সিমকো ফার্মা।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৮৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২১৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬২টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, বিনিয়োগকারীরা বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। আতঙ্কে বিক্রির চাপ বাড়াননি। তারই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে।

তিনি বলেন, এখন অনেক কোম্পানির শেয়ার দাম বেশ কম রয়েছে। সুতরাং কঠোর বিধিনিষেধের পর বাজার ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা অহেতুক প্যানিক সেল না করলে বাজার খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এদিকে, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মূখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বিএসইসির সিদ্ধান্ত ছিল ব্যাংক খোলা থাকলে শেয়ারবাজারে লেনদেন চলবে। ব্যাংক বন্ধ থাকলে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ শেয়ারবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য ব্যাংক খোলা থাকা প্রয়োজন। তাই যতদিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে ততদিন শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ থাকবে। ব্যাংক খুলে দেয়া হলে শেয়ারবাজারেও লেনদেন চালু করা হবে।

এমএএস/এসএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]