অটোমোবাইল খাতের উন্নয়নে শিল্প ও শিক্ষাখাতের সমন্বয় জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩২ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২১

শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, অটোমোবাইল খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। যা এ শিল্পকে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে শিল্প ও শিক্ষাখাতের সমন্বয় খুবই জরুরি।

রোববার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘অটোমোবাইল শিল্পের উন্নয়ন : বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ডিসিসিআইর প্রেসিডেন্ট রেজওয়ান রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নওকি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পায়নের মাধ্যমে একটি দেশের তার উন্নয়নের সর্বোচ্চ বা বৃহত্তর পর্যায়ে যায়, আমাদের সরকার সেই লক্ষ্যে দেশের শিল্পায়ন ও শিল্পের বিকাশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে শিল্পায়ন জন্য আমরা বিদেশে বিনিয়োগকারীদের শিল্প বিনিয়োগের সুবিধার্থে সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করছি।

তিনি বলেন, দেশে উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত পণ্যের রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের সরকার শিল্পনীতি সহায়তাসহ সকল প্রকার সহযোগিতা করে আসছি।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারি ধাক্কা বাংলাদেশ অর্থনীতিতে লাগলেও গত বছরে জিডিপি ৫.২৪ শতাংশে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। করোনা মহামারি দ্বিতীয় ঢেউ চলছে, দেশে লকডাউনের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ ব্যবস্থায় শিল্প কলকারখানা চালু রাখছি।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যেমাত্রায় পৌঁছানোর এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হতে সার্বক্ষণিক শিল্প কারখানার চালু রাখার কোনো বিকল্প নেই।

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বব্যাপী জাপানে অটোমোবাইল খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের সেই উদাহরণ অনুসরণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের অটোমোবইল খাতের বিকাশকে ত্বরান্তিত করতে হালকা প্রকৌশল শিল্পকে এগিয়ে আসতে হবে।

ওয়েবিনারের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালায় অভাব, সহায়ক শুল্ক কাঠামো না থাকা, স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত কাঁচামালের যোগান না থাকা, দক্ষ মানবসম্পদ ও বেকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের অনুপস্থিতির কারণে আমাদের অটোমোবাইল শিল্পে কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি উল্লেখ করেন, এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় ১০ বছর মেয়াদি ‘বাংলাদেশ অটোমোবাইল সেক্টর রোডম্যাপ ২০২১-২২’ এবং ‘অটোমোবাইল-ম্যানুফেকচারিং ডেভেলপমেন্ট পলিসি’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা দ্রুততম চূড়ান্তকরণ করা একান্ত অপরিহার্য।

এতে অন্যদের মধ্যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের অর্থনৈতিক ও ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক ইউনিটের প্রধান জন ডি. ডানহাম, প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুজ্জামান, উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান, বারভিডার প্রেসিডেন্ট আব্দুল হক, সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ ও জাইকা প্রতিনিধি হায়াকাহ ইউকো বক্তব্য দেন।

এনএইচ/এমআরএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]