প্রণোদনার ঋণ অনুদান হিসেবে পেতে চান ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২১

করোনার ধাক্কা মোকাবিলায় ছোট–বড় অনেক প্রতিষ্ঠান প্রণোদনার ঋণ পেয়েছে। এই প্রণোদনা ঋণের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অনুদান হিসেবে ঘোষণার দাবি করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।

রোববার (১৮ এপ্রিল) এনবিআর-এফবিসিসিআইয়ের যৌথভাবে আয়োজিত বাজেটসংক্রান্ত পরামর্শ সভায় এ প্রস্তাব করা হয়।

ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা বক্তব্য দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

সভায় এফবিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, করোনার ধাক্কা যদি আরেক প্রান্তিক অব্যাহত থাকে, তাহলে এ দেশের ছোট-বড় শিল্পমালিকরা বিপাকে পড়তে পারেন। করোনার ধাক্কা সামাল দিতে বড় শিল্পমালিকদের ছাড় করা টাকার ৫ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অনুদানে রূপান্তর করা উচিত। এছাড়া কৃষি খাতে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রণোদনার অর্থ পেয়েছে, তাদেরও ৫০ শতাংশ অনুদান হিসেবে ঘোষণা দেয়ার দাবি জানান তিনি।

একইসঙ্গে আগামী দুই বছরের মধ্যে আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর ও আগাম ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানায় এফবিসিসিআই।

সংগঠনটি মনে করে, করোনার সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য কমে গেছে। আবার সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই সময়ে অগ্রিম আয়কর ও আগাম ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়বে। এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্পোরেট কর কমানোর সুপারিশ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।

একই অনুষ্ঠানে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পখাত তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ নতুন সভাপতি ফারুক হাসান দাবি করেন, আগামী পাঁচ বছর উৎসে কর দশমিক ২৫ শতাংশ করার। বর্তমানে দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর দিতে হয়। এছাড়া পোশাক রফতানিতে নগদ সহায়তার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার দাবি জানান বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।

সভার শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। কেউ অযৌক্তিক প্রস্তাব দেননি। তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো দরকার। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো মানে দেশকে শক্তিশালী করা। এটা দেশের স্বার্থে করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিলে একদিকে রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে।

বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া বাংলাদেশকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যদি দেশকে উজাড় করে দেন, তাহলে ঠকবেন না। এই দেশকে ২০৩০ সালের মধ্যেই ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই।

২০২০ সালে ২৫ মার্চ পাঁচ হাজার কোটি, ৫ এপ্রিল ৬৭ হাজার ৭৫০ কোটি এবং পরে আরও মিলিয়ে ২৩টি প্যাকেজে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। এ অর্থের সিংহভাগই ঋণ হিসাবে বিতরণ করা হয়। খাত ভিত্তিক বিতরণ হওয়া এ প্রণোদনা ঋণের একটি অংশ অনুদান চান ব্যবসায়ীরা।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী বলেন, বাঙ্গালির স্বাভাবিক খাদ্য মুড়ি। এ খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতে সহযোগিতা করতে হবে।

আগামী বাজেটে মুড়ির ভ্যাট মওকুফ চেয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ১৫ শতাংশ হারে মুড়ির উপর ভ্যাট দিতে হচ্ছে। করোনা সময়ে মুড়ির উপর ভ্যাট শুনতেও খারাপ লাগে। র-সুগার আমদানির উপর এখন পার কেজিতে ২৭ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়। এটি কমানো জরুরি। এছাড়া কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোরও দাবি জানান তিনি।

ই-কমার্স খাতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির দাবি জানায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, উদীয়মান এই খাতের বিকাশে ভ্যাট প্রত্যাহার করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ডিজিটাল লেনদেন ভ্যাট মুক্ত করার দাবি জানান। সাইবার সিকিউরিটির ডিভাইস ও সফটওয়্যার ডিউটি ফি ন্যূনতম পর্যায়ে আনার দাবি করা হয়। পাশাপাশি আইটি খাতের সফটওয়্যার রফতানি বাড়াতে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল চায় বেসিস।

ইএআর/জেডএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]