সূচকের সামান্য উত্থানে শেষ হল লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৫ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২১

শুরুতে বড় উত্থানের আভাস পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত মূল্যসূচকের সামান্য উত্থানের মধ্য দিয়ে বুধবার (২১ এপ্রিল) শেয়ারবাজারের লেনদেন শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসেই মূল্যসূচক বাড়ল।

মূল্যসূচকের টানা উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনেও ভালো গতি দেখা যাচ্ছে শেয়ারবাজারে। তবে বুধবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আগের দিনের তুলনায় কম লেনদেন হয়েছে। তারপরও মাত্র আড়াই ঘণ্টার লেনদেনে বাজারটিতে সাতশ কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে।

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। দুই দফায় বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে।

এই কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শেয়ারবাজারে আড়াই ঘণ্টা লেনদেন চলছে। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে এ পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে পাঁচদিন। এই পাঁচদিনই মূল্যসূচক বেড়েছে।

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বুধবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। এতে পাঁচ মিনিটের লেনদেনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২১ পয়েন্ট বেড়ে যায়।

প্রথম এক ঘণ্টার লেনদেনের চিত্র দেখা মনে হচ্ছিল দিনশেষে সূচকের বড় উত্থান হবে। কিন্তু শেষ ঘণ্টার লেনদেনে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের দাম কমতে থাকে। এতে আটকে যায় সূচকের বড় উত্থান। এমনকি এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল পতনের তালিকায় নাম লেখাবে শেয়ারবাজার। অবশ্য দিনের লেনদেন শেষে তা হয়নি।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪২৩ পয়েন্টে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে কঠোর বিধিনিষেধের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসই প্রধান সূচক বাড়ল ১৬৩ পয়েন্ট।

প্রধান সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক। এই সূচকটি আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

প্রধান মূল্যসূচক বাড়লেও দিনের লেনদেন শেষে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান পতনের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫৭টির এবং ৬৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৭৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ১ হাজার ২৯৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৫২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১২৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মার ৪৩ কোটি ২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৩৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- রবি, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, লাফার্জহোলসিম বাাংলাদেশ, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, সামিট পাওয়ার এবং অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৪২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৬টির এবং ৪৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এমএএস/এআরএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]