শিগগিরই চূড়ান্ত হচ্ছে খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপনের প্রবিধানমালা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ০৫ মে ২০২১ | আপডেট: ১০:০০ পিএম, ০৫ মে ২০২১

খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপনে ধর্মীয় অনুভূতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে আঘাত আসে এমন কিছু প্রচার না করাসহ নিজ পণ্যের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি, প্রতিযোগী পণ্যের নিন্দা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ বন্ধের শর্ত রেখে নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন) প্রবিধানমালা-২০২১ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ প্রবিধানমালা নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর ধারা ৮৭-এর ক্ষমতাবলে ধারা ৪১ ও ধারা ৪২-এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রণীত। খসড়া প্রবিধানমালাটি সম্প্রতি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে মতামত প্রদানের জন্য প্রকাশিত হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইন কর্মকর্তা শেখ মাে. ফেরদৌস আরাফাত জাগো নিউজকে বলেন, আগামী ২০ মের মধ্যে সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে মতামত প্রদান করতে পারবেন। তদের মতামতের প্রেক্ষিতে খসড়াটি চূড়ান্ত করে দ্রুত আইন মন্ত্রণালয় দেয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।

খসড়া প্রবিধানমালা শর্তে বলা হয়েছে, খাদ্যপণের বিজ্ঞাপনের ভাষা, দৃশ্য, চিত্র, কিংবা নির্দেশনা ধর্মীয় অনুভূতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবােধ এবং রাজনৈতিক অনুভূতির প্রতি কড়াদায়ক হতে পারবে না। এছাড়া বিজ্ঞাপনে নােংরা ও অশ্লীল উক্তি, সংলাপ, জিংগেল ও গালিগালাজ ইত্যাদি পরিহার করিতে হবে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনে প্রতিযােগী পণ্যের তুলনা না নিন্দা এবং নিজ পণ্যের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করা যাবে না।

বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনগণকে প্রতারণার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রবিধিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, বিজ্ঞাপনে কোনাে বর্ণনা বা সার প্রচার করা যাবে না, যাতে জনগণ প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে প্রতারিত হয়। মানুষের বিশ্বাস ও সরলতাকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। সঙ্গে কোনাে ডাক্তার, পুষ্টিবিদ বা খাদ্য সম্পর্কিত কোনাে বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞাপনে উপস্থিত থাকতে পারবেন না

এছাড়া প্রবিধিমালার শর্তে মোড়কীকরণ পণ্যের বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষার ব্যবহার, খাদ্যের মান ও উপকরণের তালিকা না প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক, তাজা, খাঁটি, আসল, প্রচলিত, ঐতিহ্যবাহী, ঘরের তৈরি, জেনুইন ইত্যাদি বিশেষণযুক্ত ট্রেড মার্ক ব্যবহার করা যাবে না।

এতে বলা হয়েছে, আমদানি খাদ্য বা খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নাম ও পূর্ণ ঠিকানা ছাড়াও আমদানিকারকসহ, পুনঃমােড়কজাতকারক, বিতরণকারী এবং এজেন্টের নাম ও পূর্ণ ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।

অন্যদিকে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প ও শিশু খাদ্যের বিষয়ে বলা রয়েছে, মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশু খাদ্য বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য এবং ব্যবহারের সরঞ্জামাদির কোনাে বিজ্ঞাপন মুদ্রণ, প্রদর্শন, প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে না। এমনকি কোনাে ব্যক্তি এমন কোনাে লিফলেট, হ্যান্ডবিল বা অনুরূপ কোনাে দলিল বিতরণ করতে পারবে না, যাতে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প ও শিশু খাদ্যর বিজ্ঞাপন রয়েছে। এসব পণ্য বিক্রয় বা বিতরণকারী কোম্পানি উপহার সামগ্রী, কুপন, বিনামূল্যে কোনাে সামগ্রী প্রদান বা প্রদানের জন্য কোনােরূপ প্রস্তাব করতে পারবে না। প্রচারের জন্য সেমিনার, কনফারেন্স, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, বৈজ্ঞানিক সভা, শিক্ষা সফর বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আয়োজন করতে পারবে না। এ বিধান লংঘন করলে আইনের ধারা ৪১ ও ৪২ এর লংঘন বলিয়া গণ্য হবে বলে প্রবিধানমালার খসড়ায় বলা হয়েছে।

এনএইচ/এমএসএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]