বিএসইসির ২ কমিশনার আমাদের জীবন নরকে পরিণত করে : এলআর গ্লোবাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৪ পিএম, ০৮ মে ২০২১

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক দুইজন কমিশনারের কাছ থেকে নানা হয়রানি হওয়ার কথা তুলে ধরে তহবিল ব্যবস্থাপক এলআর গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলাম বলেছেন, বিএসইসির সাবেক দু’জন কমিশনার আমাদের জীবন হেল (নরক) করে দিয়েছিল। তবে এখন আমরা সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন কমিশন আমাদেরকে সাহায্য করছে।

শনিবার (৮ মে) ঢাকার প্রগতি সরণিতে অবস্থিত অ্যামচেম কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিয়াজ ইসলাম।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে বিএসইসির দু’জন কমিশনার আমাদের জীবন হেল করে দিয়েছিল। পাঁচ বছর আমরা ব্যাকফুটে ছিলাম। তবে এখন সেই অবস্থা নেই। আগের বিএসইসিতে লিডারশিপের অভাব ছিল। বর্তমান কমিশনের বিষয়ে আমরা খুবই আশাবাদী।

এ সময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিএসইসির সাবেক দুই কমিশনারের নাম জানতে চাওয়া হয় এবং এলআর গ্লোবালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর কোনটিই কি সঠিক নয়? এমন প্রশ্ন করা হয়।

উত্তরে রিয়াজ ইসলাম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছিল তার ৯৯ শতাংশ ফেব্রিকেটেড (বানোয়াট)। আমরা কোটেও গিয়েছিলাম। আর বিএসইসির সাবেক দুই কমিশনার এখন নেই, তাই তাদের নাম বলতে চাচ্ছি না।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো শেয়ারবাজারে কেন ভালো করতে পারছে না এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কি-না এমন দু’টি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখানে পেশাদারিত্বের অভাব আছে। আমি মনে করি, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কম থাকার জন্য এটিও একটি কারণ।

এর আগে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যদিও গত কয়েক বছর আমাদের খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে কিন্তু ঐকান্তিক চেষ্টা, স্বচ্ছ বিনিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সুচারু কর্মসম্পাদনের মধ্য দিয়ে আমরা তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি বলেন, অংশীজনরা যে আস্থা এলআর গ্লোবালের ওপর রেখেছেন, সেজন্য সবাইকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। সর্বোচ্চ সততা বজায় রেখে সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অবিচল থেকে সেরা কাজ করে যাওয়ার যে প্রতিশ্রুতি আমাদের রয়েছে, তা আমরা পূরণ করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে বিনিয়োগের যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে এলআর গ্লোবাল অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে চায়। আর সেজন্য কিছু বিষয়ে এলআর গ্লোবাল মনোযোগ দিচ্ছে। দেশের অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের জন্য এই সুযোগ কাজে লাগাতে বিএসইসিকে শতভাগ সহযোগিতা দিয়ে যেতে চায়, যাতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেয়া সংস্কারমূলক কাজগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারি এবং বাজারে তা ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে।

এ সময় বিএসইসির নতুন কমিশনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা, তাদের জরিমানা করা, বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বিদেশে রোড শো করা, আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানো, বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন, নতুন নতুন পণ্য চালু করা, বাজারকে স্থিতিশীল করতে ২১ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন, সামগ্রিকভাবে স্বচ্ছ এবং বিনিয়োগবান্ধব একটি পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান কমিশন।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তথ্য আর বিনিয়োগ সম্পর্কিত জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। এলআর গ্লোবাল এই ঘাটতি পূরণে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে চায়। এজন্য তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করবে।

রিয়াজ ইসলাম বলেন, যাত্রা শুরুর পর থেকে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এলআর গ্লোবাল দেশের অন্যতম সেরা অ্যাসেট ম্যানেজার হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। এলআর গ্লোবালের দায়িত্বে থাকা ফান্ডগুলো বাজারের তুলনায় বছরে গড়ে ৫ শতাংশ ভালো ফল দেখিয়েছে, ডিভিডেন্ড দিয়েছে ৪৬.৬০ শতাংশের বেশি।

এমএএস/এআরএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]