বিক্রি ভালো না, তবুও আলহামদুলিল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৫ পিএম, ১০ মে ২০২১ | আপডেট: ০৪:৪২ পিএম, ১০ মে ২০২১

সম্পদের শুদ্ধিতা আনতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা জাকাত দিয়ে থাকেন। বছরের যেকোনো সময় জাকাত দেয়া গেলেও অতিরিক্ত সওয়াবের আশায় বড় একটি অংশই বেছে নেন পবিত্র রমজান মাসকে।

সম্পদের জাকাত হিসেবে গরিবের মাঝে বিতরণ করা হয় নগদ অর্থের পাশাপাশি পরিধেয় কাপড়। যে কারণে রোজা এলেই বেড়ে যায় জাকাতের কাপড় বিক্রি। জাকাতদাতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ব্যবসায়ীরাও নেন বাড়তি প্রস্তুতি।

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে এবার পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ভিন্ন। ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেও জাকাতের কাপড় খুব একটা বিক্রি হয়নি। তারপরও একেবারে অখুশি না ব্যবসায়ীরা।

jagonews24

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার আগে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে এবার দোকান খোলার আশা অনেকেই ছেড়ে দিয়েছিলেন। সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে রোজার মধ্যে মার্কেট খুলে দিয়েছে। মার্কেট খোলার কারণে কিছুটা বিক্রি হয়েছে।

রাজধানীতে জাকাতের পোশাক যে কয়টি মার্কেটে পাইকারি বিক্রি হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট মোড়ে অবস্থিত পীর ইয়ামেনি মার্কেট। এই মার্কেটটির নিচতলায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান জাকাতের শাড়ি ও লুঙ্গি পাইকারি এবং খুচরা বিক্রি করেন।

সোমবার (১০ মে) সরেজমিনে এই মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা থরে থরে জাকাতের শাড়ি, লুঙ্গি সাজিয়ে রেখেছেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সামনে শোভা পাচ্ছে ‘এখানে জাকাতের শাড়ি বিক্রি করা হয়’ আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের শোভা পাচ্ছে ‘এখানে জাকাতের লুঙ্গি বিক্রি করা হয়’।

jagonews24

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মার্কেটটিতে বছরের সবসময় জাকাতের শাড়ি ও লুঙ্গি বিক্রি করা হয়। তবে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় রোজার মাসে বিক্রির পরিমাণ অনেক বেশি হয়।

তারা জানান, রোজার সময় বিক্রি বাড়লেও জাকাতের কাপড়ের দাম বাড়ে না। সাধারণ সময়ে যে দামে জাকাতের কাপড় বিক্রি করা হয়, রোজার মাসেও সেই দামেই বিক্রি করা হয়। আর জাকাতের কাপড় বিক্রির ক্ষেত্রে খুব একটা দরদাম করা হয় না।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার জাকাতের যেসব শাড়ি বিক্রি হচ্ছে, তার মধ্যে নিম্নমানের শাড়ির দাম প্রতি পিস ২৫০-৩০০ টাকা। এর থেকে একটু ভালো মানের শাড়ির দাম ৩২০-৩৫০ টাকা। জাকাতের স্ট্যান্ডার্ড মানের শাড়ির দাম ৪০০-৪৫০ টাকা। কয়েক বছর ধরেই জাকাতের শাড়ি এমন দামে বিক্রি হচ্ছে।

শাড়ির মতো জাকাতের লুঙ্গির দামও গত কয়েক বছরে খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। গত কয়েক বছরের মতো এবারও নিম্নমানের লুঙ্গির দাম প্রতি পিস ১৮০-২৩০ টাকা। এর থেকে ভালো মানের লুঙ্গির দাম ২৮০-৩২০ টাকা। ৩০০-৩২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া লুঙ্গিগুলোই যাকাতের কাপড় হিসেবে সব থেকে স্ট্যান্ডার্ড মান করা হয়। তবে ক্রেতারা চাইলে শাড়ির মতো বেশি দামের লুঙ্গিও যাকাত হিসেবে দিতে পারেন।

jagonews24

বিক্রি পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জেরিন টেক্সটাইলের গোলাম মাওলা বলেন, এবার জাকাতের কাপড় খুব একটা বিক্রি হয়নি। তারপরও যা বিক্রি হয়েছে, তাতেই আলহামদুলিল্লাহ। এবার কিছু বিক্রি হবে এমন আশাই তো ছেড়ে দিয়েছিলাম। এরপরও তো কিছু বিক্রি হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনার এই পরিস্থিতিতে মানুষ কম বের হচ্ছে। তবে ত্রাণের পরিমাণ বেড়েছে। আর জাকাত হিসেবে শাড়ি, লুঙ্গির বদলে এখন বেশিরভাগ মানুষ নগদ টাকা দিচ্ছে। করোনার এই পরিস্থিতি জাকাত হিসেবে নগদ টাকা দেয়ার পরিমাণ বেড়েছে।

চাঁদপুর শাড়িঘরের মো. লোকমান হোসেন বলেন, ঈদের তো আর খুব একটা বাকি নেই। জাকাতের কাপড় মোটামুটি বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। আবার ভালো বিক্রি হবে না, এটা ধরে নিয়েই কম মাল উঠিয়েছিলাম। গত বছরও আমাদের বিক্রি ছিল না। তবে তার আগে ২০১৮, ২০১৯ সালে খুব ভালো বিক্রি করেছিলাম। ২০১৯ সালের সঙ্গে তুলনা করলে এবার চার ভাগের এক ভাগও বিক্রি হয়নি। তারপরও যা বিক্রি হয়েছে, আমরা তাতেই খুশি।

লাকি শাড়ি বিতানের মো. শাহীন বলেন, যারা জাকাত দেন, করোনায় তাদের অনেকের আয় কমে গেছে। এর একটা নেতিবাচক প্রভাব আমাদের ব্যবসায়ও পড়েছে। তারপরও এবার কিছু বিক্রি হয়েছে। এতে খরচের টাকা কোনো রকমে তুলতে পেরেছি। দোয়া করেন পরিস্থিতি যেন সহসাই আগের মতো হয়ে যায়। আমরা চাই সবাই ভালো থাকুক।

এমএএস/এএএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]