‘বড়দের ইকো সিস্টেমে ছোটরা মিলে গেলে রফতানিতে জোয়ার আসবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৬ পিএম, ০৬ জুন ২০২১

বড় উদ্যোক্তাদের ইকো সিস্টেমের সঙ্গে ছোট উদ্যোক্তারা মিলে গেলে এবং পণ্যে বৈচিত্র্য আনলে আগামীতে রফতানি আয়ে জোয়ার আসবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী।

রোববার (৬ জুন) ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রিজম প্রকল্পের টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট কম্পোনেন্ট এবং ইকোনমিক রিপোটার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯ অন সিএমএসএমইস অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিং দেয়ার রিকভারি : এভিডেন্স ফ্রম বিএসসিআইসি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাস্টেটস’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।

কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষিতে সরকারঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের প্রসঙ্গ টেনে আহসান খান চৌধুরেী বলেন, ‘আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ যেটা পেয়েছি, আমি নিজে ব্যবসায়ী আকারে প্রণোদনা থেকে উপকার পেয়েছি। এসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প) সেক্টর যদি এখান থেকে উপকার নেন, আমার মনে হয় ভালো হবে। যদি কোনো পরিকল্পনা ডিফারেন্ট লেগে থাকে, সেটাও কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে আমার মনে হয় প্রণোদনাটা আসা দরকার।’

তিনি বলেন, যদি একটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে, তার একটি বিপদকালে রক্ষা করা যায় এবং তার ঋণগুলো যাতে খেলাপি না হয়, তার সিআইবি যদি নষ্ট না হয়, তাহলে কিন্তু তিনি আবার একটি পুনর্জাগরণের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। সুতরাং আমার মনে হয় প্রণোদনার দিক থেকে এসএমইদের সাপোর্ট দেয়া অত্যন্ত দরকার।

‘আমি সবসময় বলি নতুন ব্যবসা, নতুন মার্কেট, নতুন অপরচুনিটি। আমি মনে করি চীন-আমেরিকার বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, চীন-অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা, চীন-ইউরোপের অর্থনৈতিক অবস্থার দিকে যদি নজর রাখা হয়, তাহলে আমি মনে করছি যে, যদি আমরা নতুন অপরচুনিটির সন্ধান করি, তাহলে এক্সপোর্টে আমরা ব্যাপকভাবে রিবাউন্ড করতে পারবো এবং নতুন নতুন সেক্টর অন্বেষণের মাধ্যমে আমরা আগামী দিনে এক্সপোর্টের অনেকগুলো সেক্টর খুঁজে বের করতে পারবো। সেই সঙ্গে ব্যবসাটা আরও সোচ্চার করতে সফল হবো।’ যোগ করেন আহসান খান চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতায় যেটা দেখেছি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় কোভিডের ইমপ্যাক্ট ছিল। কখনো আমেরিকায় ছিল, কখনো ইউরোপে ছিল, কখনো ভারতে ছিল, কখনো মধ্যপ্রাচ্যে ছিল। আমরা যদি আমাদের এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশনের মাধ্যমে আমাদের সেক্টরগুলোকে আরও ডাইভারসিফাই করি এবং বিসিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আরও উৎসাহিত করি এবং তারা যদি আরও প্রডাক্ট ডাইভারসিফিকেশনের মাধ্যমে এগিয়ে আসতে পারে এবং আমরা যারা উদ্যোক্তা আছি, তারা হয়তো ব্যবসা পরিবর্ধনের মাধ্যমে এগিয়েছি, আমাদের সঙ্গে যদি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আরও সামিল করি এবং তারা যদি আমাদের ইকো সিস্টেমের সঙ্গে মিলে যান তাহলে এক্সপোর্টের ব্যবসায় আরও জোয়ার আসতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি একটা বড় শিল্পের সঙ্গে একটা ক্ষুদ্র শিল্প যদি সমন্বয় ঘটানো যায়, তাহলে বিসিকের অবস্থার ভালো উন্নতি হতে পারে এবং সকলের জন্য একটা সুদিন বয়ে আসতে পারে।’

আহসান খান চৌধুরী আরও বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের এক্সপোর্ট বাজারটা অনেক ভালো। আমরা ভালো করছি এবং বাংলাদেশের অসংখ্য সেক্টর ভালো করছে। এখন সময় এসেছে কীভাবে আমরা আরও বেশি জনগোষ্ঠীকে আমাদের কর্মক্ষেত্রে নিয়ে আসতে পারি, সে ব্যাপারে মনোনিবেশ করার দরকার আছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিক্রমার ধারায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আকারে বিসিকের যাত্রার মাধ্যমে আমাদের ব্যবসা শুরু হয়েছিল। আমরা কিন্তু বিসিক সেক্টরটাকে হারিয়ে ফেলেছি। আমরা মনে করছি বাংলাদেশে আবার বিসিকের জোয়ার আসা দরকার। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তরা যাতে বিসিকের মাধ্যমে এগিয়ে আসতে পারেন। কেবলমাত্র বড় বড় স্পেশাল ইকোনমিক জোন না, এর পাশাপাশি যেন বিসিক কেন্দ্রও আগামী দিনে গড়ে ওঠে।’

এসময় কোভিডকে কেবল কোভিড মনে না করে একটি অপরচুনিটি মনে করে কীভাবে আমরা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডকে সামনে এগিয়ে নিতে পারি সে ব্যাপারে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানান আহসান খান চৌধুরী।

ইআরএফ সভাপতি শারমীন রিনভী’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনজি থ্রিংক উপস্থিত ছিলেন।

প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী এবং বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন আবুল কাসেম খান।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থান করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর রিসার্স ডিরেক্টর মনজুর হোসেন।

এমএএস/ইএ/এসএইচএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]