কৃষকের বাজারে বিষমুক্ত ফল-শাকসবজি, দাম স্বাভাবিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৪ পিএম, ১১ জুন ২০২১

জাতীয় সংসদ ভবনের উল্টো দিকে থাকা সেচভবন প্রাঙ্গণে শুক্র ও শনিবার সপ্তাহে দুইদিন বসে কৃষকের বাজার। কৃষি বিপণন অধিদফতরের সহায়তায় মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদীসহ কয়েকটি জেলা থেকে আসা কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করেন। এ জন্য তাদের দিতে হয় না কোনো দোকানভাড়া কিংবা পরিবহন খরচ।

বাজারটিতে পটল, লাউ, বেগুন, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, মরিচ, পেঁপে, বেগুনসহ নানান জাতের শাকসবজি বিক্রি করছেন কৃষকরা। তবে দাম অন্য বাজারের মতোই। ক্রেতারা বলছেন, দাম অন্য বাজারের মতোই তবে যেহেতু কৃষকরা সরাসরি বাজারে সবজি আনছেন, তাই এগুলো বিষমুক্ত ও নিরাপদ।

jagonews24

শুক্রবার (১১ জুন) সকালে বাজারটি ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রত্যেকটি দোকানে ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে। বিক্রেতারও বলছেন বিক্রি ভালো।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা সাবনাজ আমিন বলেন, ছয় মাস ধরে এখানে বাজার করি। এখানে ভ্যারাইটি মেলে। এক জায়গায় বিভিন্ন জেলার শাকসবজি মিলছে।

ধানমন্ডি থেকে আসা এই নারী জানান, দাম ধানমন্ডি এলাকার বাজারের তুলনায় অলমোস্ট সেম (প্রায় একই)। কিন্তু এই বাজার একটু খোলামেলা। এখান থেকে এই প্যানডেমিক সিচুয়েশন (মহামারি পরিস্থিতিতে) কেনাকাটা একটু সেফ (নিরাপদ)।

jagonews24

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বাজারটি চালু হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে কৃষি বিপণন অধিদফর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ও হরটেক্স ফাউন্ডেশন এ বাজার পরিচালনা করছে।

মুন্সিগঞ্জ থেকে এসেছেন কৃষক সিরাজ খান। দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে তার খেতের ফসল বিক্রি করছেন। ডাটা ২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪৫ টাকা, করলা ৫৫ টাকা, ধুন্দল ৪৫, লাউ ৫০ টাকা ও কলা ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ফসলে কোনো রাসায়নিক নেই। জৈবসার ব্যবহার করি।’

তিনি বলেন, ‘আগের দিন খেত থেকে ফসল উঠাই। শুক্রবার আইনা বিক্রি করি। এখানে দোকানভাড়া লাগে না। সরকার আমাদের সুযোগ দিয়েছে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করার জন্য।’

jagonews24

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ফার্মার্স গ্রুপের একটি অস্থায়ী দোকানে ডাঁটা আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই আঁটি ৩০, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা পিস, জালি কুমড়া ৪০ টাকা পিস ও চিচিঙ্গা ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়।

শুক্র ও শনিবার দুইদিন সকাল ৭টার দিকে শুরু হয় বাজার, চলে দুপুর পর্যন্ত। তবে ফলের মৌসুমে ফল বিক্রেতারা সবসময়ই আম, কাঁঠাল, লিচুসহ যাবতীয় ফল বিক্রি করতে পারেন বলে ঝিনাইদহের কৃষক জোবায়ের জানান।

তিনি বেনানা ম্যাঙ্গো ১৫০ টাকায়, কাটিমন আম ১৭০ টাকা, চোষা আম ৭০ টাকা, ল্যাংড়া ৬৫ টাকা ও আম্রপালি ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন।

jagonews24

নওগাঁর কৃষক মোহাম্মদ রাব্বি নওগাঁয় ১২ বছরের জন্য ৫৫ একর আমবাগান লিজ নিয়েছেন। তিনি কেজিপ্রতি হিমসাগর আম ৭০ টাকা, নাগফজলি ৯০ টাকা, রানিচন্দন আম ৭০ টাকা, লেবু ডজন ৪০ টাকা ও ১০০ লিচু ৪৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। এই বাজারে জিনিসপত্রের দাম অন্য বাজারের তুলনায় কম বলেও দাবি করেন।

হবিগঞ্জের কৃষক বদু মিয়াও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, এইটা কৃষকদের বাজার। বিষমুক্ত, ফ্রেশ সবজি মানুষকে খাওয়ানোর জন্য কৃষকরা পণ্য বিক্রি করেন। কৃষকরা খুব বেশি দাম রাখছে না।

কিছু দূরেই ইন্দিরা রোডের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকের বাজার ও ইন্দিরা রোডের দুই বাজারে শাকসবজির দাম প্রায়ই সমান।

jagonews24

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শসা ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লেবু হালি ২৫ টাকা ও একহালি কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায় আর ডাঁটাশাক আঁটি ১৫ টাকা ও পুঁই শাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইন্দিরা রোডের বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টিতে কৃষকের অনেক ক্ষতি হইছে, তাই মালের দাম বেশি।’

সেচভবনের কৃষকের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে কেনাকাটা করেন সুপ্রিয়া ও আনিন্দম দম্পতি। সুপ্রিয়া বলেন, দেশি বলে দাম বেশি রাখে। দাম অন্য বাজারের তুলনায় কম এ কথা ঠিক না।’

শাকসবজি-ফল ছাড়াও বাজারে পাওয়া যায় ঘরে বানানো হরেক রকমের আচার, মাশরুম ও মধু। মৎস্য অধিদফতরের ভ্রাম্যমাণ মাছের দোকান ও মিল্কভিটার ভ্রাম্যমাণ দুধের গাড়ি এ বাজারে নতুন সংযোজন।

এসএম/বিএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]