উঠে গেল সব প্রতিষ্ঠানের ফ্লোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৯ পিএম, ১৭ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৬:২০ পিএম, ১৭ জুন ২০২১

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস (পতনের সর্বনিম্ন সীমা) উঠিয়ে দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ফ্লোর প্রাইস তুলে দিয়ে দামের ওপর ভিত্তি করে আগামীতে নতুন তালিকাভুক্ত ছয়টি ক্যাটাগরিতে সার্কিট ব্রেকার (দাম কমা বা বাড়ার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা) নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামীতে পুঁজিবাজারে নতুন তালিকাভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম সই করা এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, ২০০ টাকার নিচে থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার ১০ শতাংশ। অর্থাৎ, যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা ইউনিটের দাম ২০০ টাকার নিচে তার শেয়ার বা ইউনিটের দাম একদিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে।

সার্কিট ব্রেকারের অন্য নিয়মগুলো-

>> শেয়ার বা ইউনিটের দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে থাকা প্রতিষ্ঠানের সার্কিট ব্রেকার ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

>> শেয়ার বা ইউনিটের দাম ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ।

>> শেয়ার বা ইউনিটের দাম ১০০০ থেকে ২০০০ টাকার ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

>> শেয়ার বা ইউনিটের দাম ২০০০ থেকে ৫০০০ হাজার টাকার ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার ৫ শতাংশ।

>> শেয়ার বা ইউনিটের দাম ৫০০০ টাকার ওপরে হলে সার্কিট ব্রেকার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

ফ্লোর প্রাইস তুলে দিয়ে নতুন সার্কিট ব্রেকারের নিয়ম চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এটা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেখা গেছে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে কিছু ক্ষেত্রে লেনদেনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। সব প্রতিষ্ঠানের তারল্য প্রবাহ যাতে ঠিক থাকে, সেজন্য ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন সার্কিট ব্রেকারের যে নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে, তা সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

গত বছর দেশে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলে শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস নামে। পতন ঠেকাতে গত বছরের ১৯ মার্চ সে সময়ের কমিশন প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম বেঁধে দিয়ে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে দেয়।

এক বছরেরও বেশি সময় পর নতুন কমিশন প্রথম দফায় চলতি বছরের ৭ এপ্রিল ৬৬টি কোম্পানি থেকে ফ্লোর প্রাইসের (পতনের সর্বনিম্ন সীমা) নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর গত ৩ জুন আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইসের নির্দেশনা তুলে দেয়া হয়। ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়া হলেও এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম একদিনে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারবে বলে নিয়ম করে দেয়া হয়। আর দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেয়া হয় ১০ শতাংশ।

এমএএস/এমএসএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]mail.com