৯ সপ্তাহ পর পতনে শেয়ারবাজার, মূলধন কমল ২ হাজার কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১৩ পিএম, ১৮ জুন ২০২১

টানা নয় সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গেল সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা দরপতন হয়েছে। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা কমে গেছে।

গেল সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসই শেয়ারবাজার দরপতন হয়। এতে সপ্তাহজুড়ে দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। সেইসঙ্গে কমেছে সবকটি মূল্যসূচক। পাশাপাশি লেনদেনের গতিও কমেছে।

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা।

আগের নয় সপ্তাহে ডিএসই-এর বাজার মূলধন বাড়ে ৫০ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। এ হিসেবে অর্ধালাখ কোটি টাকার ওপরে বাড়ার পর ডিএসই-এর বাজার মূলধন দুই হাজার কোটি টাকার মতো কমল। বাজার মূলধন বাড়া বা কমার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে বা কমেছে।

এদিকে, গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসই-এর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বা দশমিক ২৩ শতাংশ। আগের নয় সপ্তাহ শেয়ারবাজার টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সূচকটি বাড়ে ৮১১ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট।

প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক। গেল সপ্তাহে এই সূচকটি কমেছে ৮ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট বা দশমিক ২৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১ দশমিক ৫১ পয়েন্ট বা দশমিক ২২ শতাংশ।

অপরদিকে, ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচকও গত সপ্তাহে কমেছে। গত সপ্তাহে সূচকটি কমেছে ৮ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৬ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বা দশমিক ৪৯ শতাংশ।

সবকটি মূল্যসূচকের পতনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন অংশ নেয়া বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৪৮টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ২১০টির। আর ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৪৭৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯ হাজার ৭৯৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ১২ হাজার ১৮৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ২ হাজার ৩৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহে ডিএসই-এর মূল বাজারে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- বেক্সিমকো, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ফার্মা, ফরচুন সুজ, লুব-রেফ বাংলাদেশ, ন্যাশনাল ফিড, গ্রীণ ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, এনআরবিসি ব্যাংক, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, প্রগতী ইন্স্যুরেন্স।

এমএএস/এএএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]