আর্থিকখাতে অনিয়ম : সুর চৌধুরীসহ ৫ কর্মকর্তাকে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৪ পিএম, ২২ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৮:২৫ পিএম, ২২ জুন ২০২১
সাবেক প্রভাবশালী ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী

ঘুষের বিনিময়ে আর্থিকখাতে বড় বড় অনিয়ম গোপনের বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা মাসোয়ারা নিতেন। এমন অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী সাবেক দুই ডেপুটি গভর্নর বর্তমান এক নির্বাহী পরিচালকসহ পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে দিনভর তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতি ধরতে গঠিত ‘কারণ উদঘাটন’(ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং) কমিটি।

মঙ্গলবার (২২ জুন) সকাল ১১টা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। ধারাবাহিকভাবে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

শুরুতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সাবেক প্রভাবশালী ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও এস এম মনিরুজ্জামান। তাদের পৃথকভাবে দুই ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এরপর আসেন সাবেক নির্বাহী পরিচালক (ইডি) মাহফুজুর রহমান, সাবেক নির্বাহী পরিচালক (ইডি) শেখ আব্দুল্লাহ ও বর্তমান নির্বাহী পরিচালক (ইডি) শাহ আলম। তাদের সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ চলে।

সোমবার সাবেক ডেপুটি গভর্নরসহ অন্যদের ডেকে পাঠায় তদন্ত কমিটি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তারা কমিটির মুখোমুখি হন।

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রধান ছিলেন এ কে এম সাজেদুর রহমান খান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের পুরো বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানাবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।’

আর এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তরা যা বললেন

তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে এলে প্রশ্ন করা হয় এস কে সুর চৌধুরীকে। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে করা যেসব অভিযোগ তা সবই মিথ্যা। আমার যা বলার তা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে বলেছি।’ এরপর আর কোনো কথা না বলে দ্রুত গাড়িতে উঠে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন এলাকা ত্যাগ করেন তিনি।

সাবেক প্রভাবশালী ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান খান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের কোনো অভিযোগ নেই। সাক্ষাতের জন্য আমাকে ডাকা হয়েছিল। এজন্য আমি সেন্ট্রাল ব্যাংকে এসেছিলাম।’ এ কথা বলেই ব্যক্তিগত গাড়ির মধ্যে বসে দরজা আটকে চালককে দ্রুত চলার নির্দেশ দেন তিনি।

সাবেক নির্বাহী পরিচালক (ইডি) মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘অনিয়ম বিষয়ে আপনারা সবই জানেন। আমি সে সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দায়িত্ব পালন করেছিলাম তাই আমাকে ডাকা হয়েছিলো। তবে কোনো অনিয়মের সাথে আমি জড়িত ছিলাম না।’

তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফসি), পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড-এর অনিয়মে কারণ উদঘাটন (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং) কমিটি গঠন করা হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত এ কমিটির সভাপতি করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খানকে, সদস্য সচিব করা হয় বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. সারোয়ার হোসেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম ফজলুর রহমান, ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক মো. কবির আহাম্মদ, ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-৪-এর মহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আমীন। আর আদালত থেকে কমিটিতে রয়েছেন দুজন। তারা হলেন সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মহিদুল ইসলাম ও সাবেক সচিব নুরুর রহমান।

বিআইএফসির পরিচালনা পর্ষদ অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে বিদেশি অংশীদারি প্রতিষ্ঠান ‘টিজ মার্ট ইনকরপোরেটেড’-এর করা এক আবেদনে গত বছর ১৭ ডিসেম্বর পর্যবেক্ষণসহ আদেশ দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের পর্যবেক্ষণে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তদারকির দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিযুক্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছিল আদালতের পর্যবেক্ষণে। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধান চালানো উচিত বলে মনে করেন হাইকোর্ট।

ইএআর/এসএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]