কাস্টমস-ভ্যাট-আয়কর নীতিসহায়তা প্রদানে এনবিআরকে বিজিএমইএর অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৯ পিএম, ২৩ জুন ২০২১

পোশাকশিল্পে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত নীতিসহায়তা প্রদানের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ। বুধবার (২৩ জুন) এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ অনুরোধ জানান বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।

সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক সভাপতি ও সংসদ সসদ্য মো. সফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. শহিদউল্লাহ আজিম, মো. নাসির উদ্দিন, রাকিবুল আলম চৌধুরী, পরিচালক আসিফ আশরাফ, মোহাম্মদ মেরাজ-ই-মোস্তফা (কায়সার) ও সাবেক পরিচালক মো. মুনির হোসেন প্রমুখ।

এছাড়া সভায় বিকেএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (আয়করনীতি) মো. আলমগীর হোসেন, সদস্য (শুল্কনীতি) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, সদস্য (ভ্যাটনীতি) মো. মাসুদ সাদিক ও সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) ড. আব্দুল মান্নান শিকদার উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনাকালে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, করোনা মহামারিতে পোশাকশিল্প ক্রান্তিলগ্ন অতিক্রম করছে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে শিল্পকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত নীতিসহায়তা প্রদান করা হলে তা শিল্পকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

সভায় সার্বিকভাবে পোশাকশিল্পে বিদ্যমান কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনাকালে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল পোশাকশিল্পের জন্য জরুরি কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত কিছু প্রস্তাবনাও উত্থাপন করেন।

রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রতিনিধিদলকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, উত্থাপিত প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করে যৌক্তিকতা অনুযায়ী সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল কর্তৃক উত্থাপিত প্রস্তাবনা বিজিএমইএ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি সমন্বয়ে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের বিষয়ের সাথে একমত পোষণ করেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কমিটি গঠিত হলে তা পোশাকশিল্পে বিরাজমান কাস্টমস, আয়কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে কাজ করতে পারে। প্রতিনিধিদলের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি আরও বলেন, ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাদ দেয়া যাবে না। তবে সকল প্রতিষ্ঠান যদি নিয়মিতভাবে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে, অতিরিক্ত কোনো প্রত্যয়নপত্র লাগবে না বলে ইতোমধ্যে রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের উত্থাপিত প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. পোশাকশিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নগদ সহায়তার ওপর আয়কর কর্তনের হার ১০% থেকে হ্রাস করে ০% নির্ধারণ করা এবং তা আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর রাখা।
২. রফতানির বিপরীতে প্রযোজ্য উৎসে কর (০.৫%) চূড়ান্ত কর দায় হিসাবে গণ্য করে আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর রাখা।
৩. তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য করপোরেট করহার ১২% এবং গ্রিন কারখানার জন্য ১০% আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত বলবৎ রাখা।
৪. রফতানির বৃহত্তর স্বার্থে তৈরি পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শুল্কমুক্ত/রেয়াতি হারে আমদানির অনুমতি প্রদান করা।
৫. এসআরও তালিকাভুক্ত সকল অগ্নিনির্বাপণ পণ্য/উপকরণ বিকল বা নষ্ট হলে অগ্নিপ্রতিরোধক দরজার ন্যায় একই শর্তে প্রতিস্থাপনের জন্য রেয়াতি হারে শুল্কায়নের মাধ্যমে আমদানির সুবিধা প্রদান করা।
৬. ইপিজেডের প্রতিষ্ঠানের সাথে সাব-কন্ট্রাকসহ বিভিন্ন কার্য্যক্রম সম্পাদনের জন্য অস্থায়ী বন্ড স্থানান্তর প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা।
৭. ইউডিবহির্ভূত ব্যাক টু ব্যাক এলসির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত কাঁচামাল/উপকরণ ইউডি সংশোধনীর মাধ্যমে নিরীক্ষায় সমন্বয় করে নিরীক্ষাকার্য সম্পাদনের জন্য কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা।
৮. সুতা থেকে নিট গার্মেন্টস উৎপাদনে অপচয়হার বৃদ্ধির কারণে জরিমানা আরোপ ও কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না করে রফতানিতে সহযোগিতা করা।
৯. তৈরি পোশাকশিল্পের ওভেন গার্মেন্টসের ক্ষেত্রে বার্ষিক নিরীক্ষাকালে আমদানি-রফতানির পরিমাণ নির্ধারণে কেজির পরিবর্তে আগের মতো গজ/মিটার বা স্ব-স্ব একক ব্যবহার করা।
১০. বন্ড লাইসেন্সধারী প্রচ্ছন্ন রফতানিকারী প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্য ও সেবা যেমন- প্যাকেজিং, কার্টন, হ্যাঙ্গার, প্লাস্টিকজাত পণ্য, অ্যাক্সেসরিজ ও সোয়েটারের সুতা শতভাগ রফতানিমুখী বন্ড লাইসেন্সবিহীন প্রত্যক্ষ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করার নিমিত্তে আগের মতো ইউডি জারি অব্যাহত রাখা।
১১. বন্ড লাইসেন্সে এইচএস কোর্ড ও কাঁচামালের বিবরণ অন্তর্ভুক্তির জটিলতা নিরসন করা। ফেরত পণ্য পুনঃরফতানির ক্ষেত্রে মেয়াদ ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর পর্যন্ত বর্ধিত করা।
১২. আইএমজি দাখিলের পরবর্তীতে ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র করা হলে জরিমানা না করা। কারখানা এক অধিক্ষেত্র হতে অন্য অধিক্ষেত্রে স্থানান্তরে সৃষ্টি জটিলতা সৃষ্টি নিরসন করা।
১৩. অগ্নিনির্বাপক উপকরণের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন লে-আউট প্ল্যানের ভিত্তিতে একাধিকবার পণ্য চালানের মাধ্যমে আমদানির ক্ষেত্রে জরিমানা/ডিমান্ড না করা। প্রাইভেট আইসিডিগুলো কর্তৃক রফতানিতে ভ্যাট আদায়ে উদ্যোগ বন্ধকরণ।
১৪. বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্য বন্ড লাইসেন্সবিহীন সহযোগী রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করার নিমিত্তে আগের মতো ইউপি জারি অব্যাহত রাখা।
১৫. সুতা থেকে নিট গার্মেন্টস উৎপাদনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত কমিটি কর্তৃক অপচয় বৃদ্ধির হার পুনর্নির্ধারণ ও সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ হিসেবে বিভিন্ন সংস্থার প্রদেয় সার্ভিস ও বার্ষিক নিরীক্ষা, জরিমানা আরোপ ও উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না করে রফতানিতে সহযোগিতা করা।

ইএআর/বিএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]