ঈদের পর ভালো বাজারের প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২৫ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১
ফাইল ছবি

দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে বেশ ফুরফুরে অবস্থায় রয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। প্রায় এক বছর ধরে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় থাকা শেয়ারবাজারে ঈদের আগের শেষ সপ্তাহেও বেশ চাঙ্গা ভাব দেখা যায়। এতে নতুন উচ্চতায় উঠে এসেছে শেয়ারবাজার। ঈদের পরেও শেয়ারবাজারে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

ঈদের ছুটি শেষে আগামী রোববার (২৫ জুলাই) থেকে আবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হবে। তবে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় শেয়ারবাজারে লেনদেন হবে সীমিত পরিসরে।

ব্যাংকের লেনদেনের সঙ্গে সমন্বয় করে শেয়ারবাজারে লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এই লেনদেনে স্বাভাবিক সময়ের মতো ১৫ মিনিট প্রি-ওপেনিং সেশন থাকবে এবং লেনদেন শেষে ১৫ মিনিটের পোস্ট ক্লোজিং সেশন চালু থাকবে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঈদের আগে শেষ দুই কার্যদিবস বড় উত্থান হওয়ায় নতুন উচ্চতায় উঠে এসেছে দেশের শেয়ারবাজার। প্রথমবারের মতো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ৬ হাজার চারশ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে।

সেই সঙ্গে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। বাজার মূলধনও এযাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

ঈদের আগে শেয়ারবাজার এমন উচ্চতায় পৌঁছানোই স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা প্রত্যাশা করছেন, ঈদের পরেও শেয়ারবাজারে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।

অপরদিকে শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়লেও বর্তমানে সার্বিক শেয়ারবাজার বিনিয়োগের জন্য বেশ উপযোগী। ভালো কোম্পানি বাছাই করে বিনিয়োগ করলে এই বাজার থেকে ভালো মুনাফা পাওয়া সম্ভব।

তারা বলছেন, শেয়ারবাজারে যে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে তা অনেকটাই শুরুর পর্যায়ে। বাজারের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কিছু ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কেউ বাজার ম্যানুপুলেট করার চেষ্টা করলে তাদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সেই সঙ্গে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিনিয়োগকারী মো. রাজ্জাক বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর এবার ঈদের আগে একটা ভালো পুঁজিবাজার দেখতে পেয়েছি। পুঁজিবাজারের বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীই ঈদের আগে ভালো মুনাফা তুলে নিয়েছেন। ফলে এবারের ঈদটা পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালোই কেটেছে। আশা করি, ঈদের পরেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে মানুষের সেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন নেই। সবার মধ্যেই নানা দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা। তারপরও এ পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজার ভালো থাকায় বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে আছেন। মহামারির এই পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজার ভালো না থাকলে হয়তো আবার বিনিয়োগকারীদের আত্মহত্যার কথা শুনতে হত।’

মনির হোসেন নামে আরেক বিনিয়োগকারী বলেন, ‘২০১০ সালের মহাধসের পর এতো ভালো শেয়ারবাজার আমরা আর পাইনি। এবার শেয়ারবাজারে যে ইতিবাচক ধারায় দেখা যাচ্ছে, আশা করি তা দীর্ঘ হবে। ঈদের পর শেয়ারবাজারে নতুন নতুন রেকর্ড দেখার অপেক্ষায় আছি।’

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে শেয়ারবাজারের সঙ্গে আছি। ২০১০ সালের মহাধসের ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। তবে কয়েক মাস ধরে কিছু মুনাফা করতে পারছি। আশা করি, ঈদের পর এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’

ইব্রাহিম হোসেন নামে আরেক বিনিয়োগকারী বলেন, ‘২০১০ সালের ধসের পর বেশ কয়েকবার শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরার ইঙ্গিত দেয়। এর মধ্যে ২০১৭ সালে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক রেকর্ড অবস্থানে উঠে আসে। তবে এটা খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। এখন প্রায় এক বছর ধরে বাজার ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। সূচক, বাজার, মূলধনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয় এটা কতদিন স্থায়ী হয়।’

তিনি বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বলতে পারি শেয়ারবাজারে এবারের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অন্যবারের তুলনায় ভিন্ন। অনেক ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম এখন বেশ নিচেই রয়েছে। সুতরাং বাজার সামনে আরও ভালো হবে এমন প্রত্যাশা করাই যায়। তবে আমাদের শেয়ারবাজার ব্যাকরণ মেনে চলে না। তাই কখন কি হয় বলা মুশকিল।’

যোগাযোগ করা হলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, ‘ঈদের আগে দেশের প্রধান মূল্য সূচক রেকর্ড অবস্থানে উঠে এসেছে। আমি মনে করি, এটা কেবল শুরু। এই বাজার অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ আছে। বাজারে যে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে তা ধরে রাখতে হবে। কেউ বাজারে কারসাজি করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাজারের মূল সমস্যা এখানে সবাই ট্রেডার। প্রকৃত বিনিয়োগকারী খুব কম। বাজার শক্তিশালী করার জন্য বিনিয়োগকারী প্রয়োজন। এ জন্য ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করতে হবে।’

এমএএস/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]