ঠিক সময়ে আসে না টিসিবির গাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০১ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২১

সকাল ১০টা থেকে খোলা বাজারে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রি শুরুর কথা থাকলেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দুপুর পর্যন্ত ট্রাকের দেখা মেলে না। তবে বিক্রি শুরুর অনেক আগেই ওইসব স্থানে ক্রেতারা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করে অনেকেই বিরক্তি আর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অন্যান্য প্রয়োজন থাকায় অনেকে অপেক্ষা করতে না পেরে ফিরে যান খালি হাতে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টায় বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সকাল থেকে পণ্যের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কিন্তু তখনও সেখানে ট্রাক আসেনি।

ছোট সন্তানকে নিয়ে আসা হালিমা নামের এক নারী বলেন, ‘প্রতিদিন ট্রাক আসে দেড়ি করে। অনেক অপেক্ষা করতে হয়। অনেক দিন অন্য কাজ থাকায় ফিরে যাই। আজ সকাল ৮টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। অন্যদের বলে ছোট বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য ৯টায় বাসায় গিয়ে আবার এসেছি। এখনো গাড়ি আসেনি।’ অনেক সময় গাড়ি আসতে দুপুর ২টা-৩টা বেজে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

jagonews24

গতকাল বুধবারও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে রামপুরা, মালিবাগ ও শান্তি নগরের ট্রাকসেলের ক্রেতাদের কাছে।

আবার অনেকে একাধিকবার পণ্য কেনেন বলে অভিযোগ করেন ক্রেতা বজলুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘এখানে অনেকে সারাদিন কয়েকবার পণ্য নেন। ওরা টিসিবির ডিলারের পরিচিত হয়ে যায়। কিন্তু কেউ কিছু বলে না। এতে করে অন্যরা পান না, না পেয়ে তারা চলে যান।’ এই অবস্থা বন্ধ করতে করতে সব গাড়ির সঙ্গে একজন করে পুলিশ দেয়ার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে টিসিবির যুগ্ম পরিচালক ও মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বরাদ্দ পেতে দেরি হওয়ার কারণে কোনো কোনো ডিলারের স্পটে পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। তবে সকলেই নির্ধারিত স্থানে পণ্য বিক্রি করবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৮০টি গাড়িতে পণ্য দেয়া হয়। প্রতিটি গাড়িতে পণ্য বুঝিয়ে দিতে ৮ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগে। এরপর পণ্য পেয়ে স্পটে পৌঁছাতে অনেকে দেড়ি করে ফেলে। তবে যারা আগে পণ্য পায়, তারা সময়ের আগেই স্পটে চলে যায়।’

এদিকে, ঈদের ছুটিতে সাতদিন বন্ধ থাকার পর গত সোমবার থেকে আবারও টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। বরাবরের মতই সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে টিসিবির ট্রাকগুলোর সামনে ভিড় করছেন ক্রেতারা। চলমান এ বিক্রয় কার্যক্রম বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর শোকাবহ আগস্ট মাস উপলক্ষে আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ভর্তুকি মূল্যে কতিপয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী নিয়োজিত ডিলারের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে দেশব্যাপী বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সয়াবিন তেল, মশুর ডাল এবং চিনি। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, মশুর ডাল প্রতি কেজি ৫৫ টাকা এবং চিনি প্রতি কেজি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এ ট্রাকসেল আজ থেকে পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার কথা। কিন্তু করোনাকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর শোকাবহ আগস্ট মাস উপলক্ষে আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন বিক্রয় কার্যক্রম চলবে।’

jagonews24

করোনা সংক্রমণের সময় ভোক্তাদের কম দামে পণ্য সরবরাহ করতে গত ৫ জুলাই থেকে এ ট্রাক সেল কার্যক্রম শুরু হয় সারাদেশে। মাঝে ঈদের কয়েকদিন সাধারণ ছুটি বাদে ২৯ জুলাই পর্যন্ত চলার কথা ছিল। কিন্তু বিক্রির সময় বাড়লে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত।

ইতোমধ্যে দেশজুড়ে টিসিবির ৪০০ ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে ৮০টি ও চট্টগ্রাম সিটিতে ২০টি ট্রাক থাকার কথা। এ ছাড়া প্রতিটি মহানগর ও জেলা শহরেও ট্রাক সেলের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি টিসিবির বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে পাওয়া যাবে সকল পণ্য।

বর্তমানে টিসিবির প্রতিটি ট্রাকে ৬০০ থেকে ৮০০ কেজি চিনি, ৩০০ থেকে ৬০০ কেজি মসুর ডাল এবং ৮০০ থেকে ১২০০ লিটার সয়াবিন তেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একজন ব্যক্তি দৈনিক ২ থেকে ৪ কেজি চিনি, ২ কেজি ডাল ও ২ থেকে ৫ লিটার ভোজ্যতেল কিনতে পারবেন।

এনএইচ/ইএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]