‘শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনই মূল চ্যালেঞ্জ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫২ পিএম, ০১ আগস্ট ২০২১

বিনিয়োগ, দেশীয় বাজার উন্নয়ন, রফতানি বৈচিত্র্যকরণের লক্ষ্যে দক্ষকর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরি সংক্রান্ত পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ আগস্ট) এটির আয়োজন করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. হেলাল উদ্দিন এফবিসিসিআইয়ের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, উৎপাদন ও সার্ভিস সেক্টরে প্রতি বছর প্রায় দশ লাখ লোকের চাহিদা আছে। ট্রেনিং একাডেমিসহ সব সেক্টরে যেসব গ্যাপ রয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করতে কারিগরি শিক্ষা বিভাগ ইতোমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে।

দক্ষকর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরিতে পাবলিক প্রাইভেট সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এফবিসিসিআইসহ সব সেক্টরকে সমন্বিত করতে পারলে প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য পূরণ ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হবো আমরা।

এ সময় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজের অভাব, কারিগরি শিক্ষা মূল্যায়নে সীমাবদ্ধতা, মাস্টারট্রেনারের অভাবসহ বেশকিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এফবিসিসিআইসহ সব সেক্টরকে সমন্বিত হয়ে খাতভিক্তিক গ্যাপ উত্তরণে কাজ করতে হবে। এতে দেশে-বিদেশে সর্বক্ষেত্রে ভ্যালু অ্যাডিশন হবে, প্রোডাক্টিভিটি বাড়বে।

উন্নয়নশীল দেশের উপযোগী অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দক্ষকর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরির বিষয়ে সুপারিশ তৈরির উদ্যোগ নেয়ায় কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরকে ধন্যবাদ জানায় এফবিসিসিআই।

এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে ব্যাপক ডিজিটালাইজেশন হয়েছে। ফলে নতুন নতুন উদ্ভাবনী অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় দক্ষকর্মী সরবরাহের জন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন এখন মূল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী করে দেশের কর্মক্ষম জনবলকে অবশ্যই প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষকর্মীর পাশাপাশি দক্ষ ব্যবস্থাপক তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য আমাদের নিডবেজ স্পেশালাইজেশন দরকার। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ খাতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করা যেতে পারে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে যথাযথ প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রয়োজনে সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে বিদেশ থেকে মানসম্মত ট্রেইনার আনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ব্যবসার সঙ্গে একাডেমিক যোগাযোগ নেই। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনসহ সরকারের লক্ষ্যগুলো অর্জনে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অত্যন্ত জরুরি। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্প, বাণিজ্য ও অফিস ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ ও ব্যাপক হারে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট জসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী, পরিচালক আবু নাসেরসহ বিভিন্ন চেম্বার-অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেনারেল বডির সদস্যরা।

ইএআর/এমএসএম/এমআরএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]