মোটরসাইকেলের বাজার রমরমা, তবু ধুঁকছে রাষ্ট্রায়ত্ত এটলাস

নাজমুল হুসাইন
নাজমুল হুসাইন নাজমুল হুসাইন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৫৮ এএম, ০৪ অক্টোবর ২০২১

দেশে মোটরসাইকেল ব্যবসা রমরমা দীর্ঘদিন ধরেই। বাজারে এরই মধ্যে শক্ত অবস্থান গড়েছে মোটরসাইকেল সংযোজন-বিপণনকারী প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানই। এর মধ্যে বেশিভাগ প্রতিষ্ঠান যৌথ বিনিয়োগে এখন বৃহৎ শিল্পে রূপ নিয়েছে। তবে এ পরিস্থিতিতেও ধুঁকছে রাষ্ট্রায়ত্ত ‘এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড’।

শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্র্যান্ড জংশেন-এটলাসের (জেডএস) বিক্রি ‘প্রায় নেই’। পাশাপাশি টিভিএস অটো বাংলাদেশের সঙ্গে করপোরেট চুক্তিও বাস্তবায়ন করতে পারছে না। ফলে টানা লোকসানের দিকে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

যদিও একসময় হিরো মটোকর্পের সঙ্গে একত্রে হিরো-হোন্ডা ব্র্যান্ড নিয়ে বাজারে সর্বোচ্চ মোটরসাইকেল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ছিল এই এটলাস। এটি ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল তখন। কিন্তু ২০১৩ সালে হিরো মটোকর্পের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে নানা প্রতিকূলতা তৈরি হয়।

কয়েক বছর পর চীনের জংশেন কোম্পানির সঙ্গে মিলে মোটরসাইকেল বাজারে আনলেও তা আর বাজার ধরতে পারেনি।

২০১৩ সালের পর থেকে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মোটরসাইকেল সরবরাহের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। তবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালন এবং উন্নয়ন ব্যয়ের আওতায় যানবাহন কেনা বন্ধ করা হয়েছিল। এর প্রভাবে এটলাসের বিক্রি প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে।

গত জুলাইয়ে আবার সরকারি ক্রয় কার্যক্রম ৫০ শতাংশ উন্মুক্ত করা হলেও বিক্রিতে তেমন সুবিধা করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ অবস্থায় এক সময়ের লাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটি গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে। আর শেষ অর্থবছরে এ লোকসান প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে। তার আগের অর্থবছরে ছিল ৩৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল মালেক মোড়ল জাগো নিউজকে বলেন, সরকারের ব্যয় সংকোচনের জন্য গাড়ি বিক্রি বন্ধ হয়েছিল। ফলে গত বছর বিক্রি হয়নি। এখন অর্ধেক উন্মুক্ত হয়েছে, কিছু বিক্রি হবে।

তিনি বলেন, গত বছর ওপেন টেন্ডারে অংশ নিয়ে কিছু গাড়ি বিক্রি করেছি। কিন্তু আমাদের বর্তমান ব্র্যান্ড জংশেন-এটলাস গাড়িতে ক্রেতাদের আগ্রহ কম। এ ব্র্যান্ড দাঁড়াতে পারেনি।

মালেক মোড়ল আরও বলেন, আমাদের টিভিএসের সঙ্গে বছরে ৪ হাজার ৬শ গাড়ি সংযোজনের চুক্তি রয়েছে, পাঁচ বছরের চুক্তি। তবে সেটাও পুরোপুরি সংযোজন সম্ভব হচ্ছে না নানা সমস্যার কারণে। চেষ্টা করা হচ্ছে বিভিন্নভাবে প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে, নতুন কোনো ব্র্যান্ড বাজারে এনে আগের অবস্থায় নিতে।

তথ্য বলছে, প্রতি বছর এটলাসের গাড়ি বিক্রির সংখ্যা ক্রমেই কমছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ২ হাজার ৮৪টি গাড়ি বিক্রি করেছে এটলাস। যা আগের বছরে ছিল ৩ হাজার ৬৬টি।

১৯৬৬ সালে হোন্ডা মোটর কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ব্যক্তিগত মালিকানা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতীয়করণ করে বিএসইসির হাতে দেওয়া হয়। এরপর ১৯৯৩ সাল থেকে হিরো-হোন্ডার ব্যবসা শুরু করে এটলাস। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির স্বর্ণযুগ ছিল।

এরপর ২০১১ সালে হোন্ডা জাপান ও ভারতের হিরো তাদের পার্টনারশিপ বিচ্ছিন্ন করলে হোন্ডা বাংলাদেশে নিজেরাই কারখানা করে। আর দেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করছে ভারতের হিরো। এতে ‘কপাল পোড়ে’ এটলাসের।

এটলাসের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, হিরো-হোন্ডা দুটি ব্র্যান্ড আলাদা হওয়ার সময় এটলাসের সুযোগ ছিল যে কোনো একটির সঙ্গে ব্যবসা করার। কিন্তু সেটা কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে হয়নি। এরপর তারাই চীনের জংশেন মোটরসাইকেল কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা শুরু করে। দেশে চীনের মোটরসাইকেলের চাহিদা না থাকার পরও এ কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসার সিদ্ধান্ত এটলাসকে ডুবিয়েছে।

এদিকে ২০১৮ সালে এটলাসের সঙ্গে টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেডের করপোরেট-পার্টনার সমঝোতা হয়। বছরে ৪ হাজার ৬০০ টিভিএসের বিভিন্ন মডেলের বাইক সংযোজনের চুক্তি থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি সংযোজন করতে পারছে ৩ হাজারেরও কম।

এনএইচ/এমএইচআর/এএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]