পিপিই খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৮ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০২১

‘বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ বিশ্ব বাজারে টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের অন্যতম বৈশ্বিক সরবরাহকারী হিসেবে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছে। চলমান কোভিড-১৯ মহামারিতে এই অবস্থান ধরে রাখা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন সহজ হবে, যদি কিনা তৈরিপোশাক খাতটি টেকনিক্যাল টেক্সটাইল (টিটি) এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামাদি (পিপিই) উৎপাদনে নজর দেয়।’

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) জিআইজেড, জিএফএ এবং বিজিএমইএ’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক ‘হাইব্রিড’ ইভেন্ট এর মাধ্যমে গবেষণা ফলাফল অনুষ্ঠানে এ সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। বিজিএমইএ’র সহযোগিতায় জার্মান উন্নয়ন সংস্থা, জিআইজেড পরিচালিত ‘বাংলাদেশে ব্যক্তিগত সরঞ্জামাদিসহ (পিপিই) টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভব্যতা’ শীর্ষক এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সভায় ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত আচিম ট্রোস্টারের উপস্থিতিতে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, সহ-সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম, সহ-সভাপতি মিরান আলী, জিআইজেড বাংলাদেশের টেক্সটাইল ক্লাস্টার কোঅর্ডিনেটর ওয়েরনার ল্যাঙ্গে এবং কান্ট্রি ডিরেক্টর এনজেলিকা ফ্লেডডারমেন, বিজিএমইএ’র পরিচালক আব্দুল্লাহ হিল রাকিব, জিআইজেডের বিজনেস স্কাউট থমাস হাবনার, জিএফএ’র কনসালটেন্ট চার্লস ডেয়ার ও গবেষণায় তার সহকর্মী ড. রাজেশ ভেদা প্রমুখ সাব সেক্টরের (টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং পিপিই খাতের) জন্য উঠে আসা প্রস্তাবগুলো এবং প্রস্তাবগুলোর চ্যালেঞ্জসমূহ ও সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জিআইজেড বাংলাদেশের টেক্সটাইল ক্লাস্টার কোঅর্ডিনেটর ওয়েরনার ল্যাঙ্গে বলেন, আমরা এই ফলাফলগুলো, বিশেষ করে ঘাটতির জায়গাগুলো, মূল কাজসমূহ এবং এই নতুন বাজারে প্রবেশে বাংলাদেশকে সহায়তা করার সার্বিক কৌশল শেয়ার করতে পেরে গর্বিত। জিআইজেড টেক্সটাইল ক্লাস্টার নামক জার্মান উন্নয়ন সংস্থা এই চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য স্থানীয় অংশীদারদের সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সহযোগিতা প্রদান করছে। টেক্সটাইল ও পোশাক খাতে জিআইজেডের সম্পৃক্ত হওয়ার সাফল্যের রূপরেখা তুলে ধরে জার্মান রাষ্ট্রদূত ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, এই সন্ধিক্ষণে আমাদের প্রয়োজন বিনিয়োগ ও উন্নত বিশ্বের প্রযুক্তিগত জ্ঞান। আমাদের শিল্প টেকনিক্যাল টেক্সটাইল ও পিপিইর সম্প্রসারণশীল বাজার ধরতে প্রস্তুত। টেকনিক্যাল টেক্সটাইল ও পিপিই খাতে যৌথ বিনিয়োগকে আমরা স্বাগত জানাই। সেইসঙ্গে ব্র্যান্ড, টের্স্টিং সার্ভিসেস কোম্পানি এবং প্রযুক্তি সররবাহকারীদের সহায়তা নিয়ে একসঙ্গে এই সম্ভাবনাকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে চাই।

বক্তারা কমপ্লায়েন্ট হওয়ার স্বীকৃতি এবং ইইউ ও মার্কিন বাজারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ট্রেডিং পার্টনার হিসেবে অর্জিত খ্যাতিকে পুঁজি করার জন্য বাংলাদেশকে পরামর্শ দেন। তাদের মতে, একবার বাংলাদেশ টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং পিপিই খাতে আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতা তৈরি করতে সমর্থ হলে তখন উন্নত প্রযুক্তি চালু করা যেতে পারে। এগুলো পণ্যকে বৈচিত্র্যময় এবং পণ্যের পোর্টফোলিও পরিশীলিত হতে সাহায্য করবে, যা থেকে অধিক মুনাফা আসবে। এমনকি সীমিত সংখ্যক পণ্যও যদি উচ্চমান বজায় রেখে উৎপাদিত হয়, তাহলেও তাদের জন্য বাজারে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি ও পণ্যের দরজা খুলে যাবে। প্রারম্ভিক উৎপাদনকারীদের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে পরবর্তীতে আরও কোম্পানি সুযোগ লুফে নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসবে এবং ফলশ্রুতিতে সাব-সেক্টরটি প্রসারিত হবে।

এ সেক্টরে এখনো কিছু বড় বাধা আছে বলে মনে করেন বক্তারা। এর মধ্যে রয়েছে বাজারের চাহিদা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, অপর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উচ্চ মানসম্পন্ন পণ্যের কাঁচামাল সংগ্রহ করার অসুবিধা, কমপ্লায়েন্স ও সার্টিফিকেশনের চাহিদা এবং মূলধন বিনিয়োগের ওপর নির্ভরতা।

ইএআর/কেএসআর/ইএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]