ইভ্যালি পরিচালনায় গঠিত বোর্ড যেভাবে কাজ করবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৯ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২১

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সম্প্রতি আলোচনায় থাকা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায় পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে ওঠা প্রতারণার অভিযোগ ও পরিচালনার নিয়ম পর্যালোচনা করতে বোর্ড গঠনের নির্ধারিত দিনে এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে সোমবার (১৮ অক্টোবর) বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এদিকে, ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে হাইকোর্টের গঠন করে দেওয়া এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব পালন করবেন ওএসডিতে থাকা অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন।

বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল আহসান, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

ইভ্যালির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, আমি তো মাত্র নিয়োগ পেলাম। একটু সময় নিয়ে মন্তব্য করবো। সব কাগজপত্র দেখতে হবে। তবে এ মুহূর্তে যেটা বলতে পারি তা হলো ইভ্যালিকে কার্যকরী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দাঁড় করানো হবে আমাদের প্রথম কাজ।

তিনি আরও বলেন, আমার সঙ্গে আরও চারজন সদস্য আছেন। সবার সঙ্গে আলাপ করে ইভ্যালিকে কার্যকরী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার পাশাপাশি যারা পয়সা দিয়েছেন তাদেরকে তা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

কিভাবে কাজ করবে বোর্ড

ইভ্যালি পরিচালনায় গঠিত বোর্ড কিভাবে কাজ করবে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকারী ভুক্তভোগীদের আইনজীবী এএম মাসুম গণমাধ্যমকে বলেন, এই বোর্ড শুরুতেই ইভ্যালির অবস্থা সম্পর্কে একটা অডিট করবে। দায়-দেনার পরিমাণ হিসাব, কত অর্থ তাদের কাছে ভোক্তাদের পাওনা, তাদের কত সম্পদ আছে এই পুরো বিষয়টা অর্থাৎ কোম্পানিটি কী অবস্থায় আছে সেটার একটা খতিয়ান করতে হবে। এজন্য শুরুতেই অডিট করবেন তারা।

তিনি বলেন, ইভ্যালির যে দেনা রয়েছে তা কিভাবে পরিশোধ করা যাবে, কোম্পানিটি আদৌ আর পরিচালনা করা সম্ভব নাকি বন্ধ ঘোষণা করা উচিত এসব বিষয়ে অডিটের পর বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। যদি কোম্পানিটি পরিচালনা করা সম্ভব হয় তাহলে এই বোর্ড সেটি পরিচালনা করবে। আর পরিচালনা করা সম্ভব না হলে কোম্পানিটি অবসায়ন করে দেওয়া হবে।

আইনজীবী এএম মাসুম আরও বলেন কোম্পানিটির নিয়মিত যেসব কাজ সেটি এই বোর্ড পরিচালনা করবে, এমনকি বাৎসরিক সভাও। অর্থাৎ যেহেতু ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যান কারাগারে আছেন তাই এই কোম্পানিটি পরিচালনা করতে যা যা করতে হয় তার সবই করবে এই বোর্ড।

তিনি জানান, আগামী ২৩ নভেম্বর এই বোর্ড তাদের প্রাপ্ত তথ্য আদালতে পেশ করবে।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর ইভ্যালি পরিচালনার জন্য কমিটি করে দেওয়ার কথা বলেন হাইকোর্ট। ওইদিন একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব, চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট ও একজন আইনজীবীকে কমিটিতে রাখার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন আদালত। ইভ্যালির দুই কর্ণধার কারাগারে থাকায় এ বোর্ড বা কমিটি গঠন করতে আদেশ দেন আদালত।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক আদেশে ১২ অক্টোবরের মধ্যে ইভ্যালির নথিপত্র আদালতে দাখিল করতে রেজিস্ট্রার জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। সে অনুযায়ী নথি দাখিল করা হয়।

এর আগে এক গ্রাহকের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির সব ধরনের সম্পদ বিক্রি এবং হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় ৩০ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির সব ধরনের নথি তলব করা হয়।

আবেদনকারী ইভ্যালিতে গত মে মাসে একটি ওয়াশিং মেশিন অর্ডার করেন। অর্ডারের সময় তিনি অর্থ পরিশোধ করেন মোবাইল ফোনভিত্তিক ডিজিটাল আর্থিক সেবার মাধ্যমে। এরপর কোম্পানিটি অনলাইনে তাকে একটি পণ্য কেনায় ৩৩ হাজার ৩০৮ টাকার রসিদও দেয়।

কিন্তু এতদিনেও তারা পণ্যটি বুঝিয়ে দেয়নি। পণ্য বুঝে পেতে আবেদনকারী যোগাযোগ করলে তাকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়, কিন্তু পণ্য বুঝিয়ে দেয়নি কিংবা টাকাও ফেরত দেয়নি। পরে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ই-ক্যাব, ভোক্তা অধিকারে কয়েকবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন এবং হাইকোর্টে কোম্পানিটির অবসায়ন চেয়ে আবেদন করেন। ওই গ্রাহক ইভ্যালি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠনেরও আবেদন জানান।

আবেদনে ইভ্যালি লিমিটেড, রেজিস্টার জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, কনজুমার রাইটস প্রটেকশন ব্যুরো, নগদ, বিকাশ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, ই-ক্যাব অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বেসিস, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য সচিবকে বিবাদী করা হয়।

এ আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে গত ২২ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না, তা জানতে চান আদালত। এজন্য একটি নোটিশ ইস্যু করা হয়েছিল।

এর আগে ইভ্যালি গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পণ্য সরবরাহ করছে না, এমন অভিযোগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক গুলশান থানায় মামলা করার পরদিন বিকেলে ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

এমআরআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]