৩০ টাকা কেজিতে নেমেছে শিম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৩৮ এএম, ২৬ নভেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

কিছুদিন আগে দেড়শ টাকার ওপরে কেজি বিক্রি হওয়া শিম এখন ৩০ টাকাতে পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে কিছুদিন আগে বাজারের সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হওয়া সবজিটি এখন সব থেকে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। তবে শীতের অন্য সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম এখনো বেশ চড়া। এর সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পাকা টমেটো ও গাজর। অবশ্য সপ্তাহের ব্যবধানে গাজরের দাম কিছুটা কমেছে।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে শিমের কেজি ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আর চলতি মাসের শুরুর দিকে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি।

শিমের এই দাম কমার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. আলম বলেন, বাজারে আগাম আসায় কিছুদিন আগেই শিমের কেজি ১৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এখন দিন যত যাচ্ছে বাজারে শিমের সরবরাহ বাড়ছে। এ কারণে দামও কমেছে।

তিনি বলেন, শিমের দাম সামনে আরও কমতে পারে। তবে কিছুদিন পর বাজারে বিচি শিম আসবে। তখন বিচি শিমের দাম বেশি থাকবে। আর বিচি ছাড়া শিমের কেজি ২০ টাকাতেই পাওয়া যাবে।

শিমের পাশাপাশি গেলো এক সপ্তাহে গাজরের দামও কিছুটা কমেছে। মানভেদে গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

এ বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী নুর আলম বলেন, কিছুদিন আগে বাজারে যে গাজর পাওয়া যেত তার সবই বাইরে থেকে আমদানি করা। এখন দেশি গাজর বাজারে আসা শুরু হয়েছে। এ কারণে দামও কমছে। কয়দিন আগে যে গাজর ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে তা এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সামনে গাজরের দাম কমে ২০-৩০ টাকার মধ্যে চলে আসবে।

শিম ও গাজরের দাম কিছুটা কমলেও আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পাকা টমেটো। গত সপ্তাহের মতো পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। আর আর কাঁচা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি।

এদিকে পটল, বরবটি, ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। ফুলকপির পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপির পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত থাকার তালিকায় থাকা অন্য সবজির মধ্যে ঝিঙের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচকলার হালি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লালশাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা, মুলাশাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাক বিক্রি হচ্ছে। আর পালংশাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে মুরগির দামও। ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা। পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা। লাল লেয়ার মুরগি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা।

মুরগির পাশাপাশি অপরিবর্তিত রয়েছে ডিম ও পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহের মতো ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পেঁয়াজের কেজি গত সপ্তাহের মতো ৫০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে টাকি মাছ। শোল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। নলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি। সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দাম পরিবর্তন আসেনি।

এমএএস/বিএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]