সূচকের বড় পতন, সাত মাসে সর্বনিম্ন লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩২ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে দেখা দেওয়া মতবিরোধের মধ্যেই করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এতে রোববার (২৮ নভেম্বর) দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্যসূচকের বড় দরপতনের সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। লেনদেন কমে ডিএসইতে সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। সেইসঙ্গে কমেছে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম।

রোববার (২৮ নভেম্বর) শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার আগেই বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজে বিনিয়োগকারীদের করোনার নতুন ধরন নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। আর লেনদেন শুরু হতেই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ান। ফলে লেনদেন শুরু হতেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। যা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত। ফলে সূচকের বড় পতন দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়।

অবশ্য শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দরপতনের পেছনে করোনার নতুন ধরনের তেমন প্রভাব নেই। মূলত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে দেখা দেওয়া মতবিরোধের কারণে শেয়ারবাজারে দরপতন হচ্ছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরুর ১০ মিনিটের মাথায় প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্ট পড়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সূচকের পতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭৮ পয়েন্ট কমে ছয় হাজার ৭৭৩ পয়েন্টে নেমে গেছে।

অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ৫৭৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ১৩ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৪২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

দিনভর ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৬৬ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৯১টির। আর ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

রোববার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮৩৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। যা চলতি বছরের ২৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। ২৭ এপ্রিল ডিএসইতে ৮২৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়।

লেনদেন খরার বাজারে টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৯১ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওয়ান ব্যাংকের ৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৪৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, ওরিয়ন ফার্মা, সাইফ পাওয়ারটেক এবং এনআরবিসি ব্যাংক।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২২০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৬৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯২টির এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

শেয়ারবাজারের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, করোনার নতুন ধরন নিয়ে সবার মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেক দেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর একটি নেতিবাচক প্রভাব শেয়ারবাজারে পড়েছে।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল। যে কোনো নেতিবাচক বিষয় শেয়ারবাজারে খারাপ প্রভাব ফেলে। তবে সার্বিকভাবে বর্তমান শেয়ারবাজার বিনিয়োগবান্ধব। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত আতঙ্কে বিক্রির চাপ না বাড়িয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করে ভালো শেয়ারের বিনিয়োগ করা।

ডিএসইর সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন জাগো নিউজকে বলেন, আমি মনে করি করোনার নতুন ধরনের কোন প্রভাব বাজারে পড়েনি। কয়েকদিন ধরে যে দরপতন হচ্ছে তার মূল কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যকার সমন্বয়হীনতা। এটা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তবে আমরা আশা করছি আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে যে বৈঠক হবে, সেখান থেকে ভালো ফলাফল আসবে। যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কমাবে।

ইব্রাহিম হোসেন নামের এক বিনিয়োগকারী বলেন, দেশে প্রথম যখন করোনার প্রকোপ শুরু হয়, সে সময় বড় দরপতন হয়েছিল। এবার কী হবে বলা যাচ্ছে না। তবে করোনার নতুন ধরন নিয়ে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলে খবর বের হচ্ছে। যেহেতু লাভে আছে তাই কিছু শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিয়েছি।

এদিকে ইসরায়েলসহ পাঁচ দেশ ও অঞ্চলে শনাক্ত হয়েছে করোনাভাইরাসের রূপান্তরিত নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। ইউরোপে সর্ব প্রথম করোনার এই ধরন শনাক্ত হয়েছে বেলজিয়ামে। পাশাপাশি আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানা এবং এশিয়ার দুই দেশ ইসরায়েল ও হংকংয়েও সন্ধান মিলেছে করোনার এই ধরনের।

ইতোমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের নতুন এই ধরনটি মূল ভাইরাস ও তার অন্য রূপান্তরিত ধরনগুলোর চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়তে বা মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সেসব পর্যালোচনা করে বোঝা যাচ্ছে- করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিরাও ওমিক্রনে আক্রান্ত হতে পারেন।

আফ্রিকার নতুন ধরন সম্পর্কে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক আছে বলে উল্লেখ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সুইজারল্যান্ডে যাত্রার আগে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তিনি বলেন, এই ভাইরাসটি খুবই আগ্রাসী। সে কারণে আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ এখন স্থগিত করা হচ্ছে। সব বিমানবন্দর, স্থলবন্দর বা দেশের সব প্রবেশপথে স্ক্রিনিং আরও জোরদার করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এমএএস/কেএসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]