বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারানোর শীর্ষে আরামিট সিমেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩৭ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১

গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারানোর শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে আরামিট সিমেন্ট। বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে আগ্রহী না হওয়ায় সপ্তাহজুড়েই দাম কমেছে। এতে গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম কমার শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গেল সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার দাম কমেছে ২১ দশমিক ২০ শতাংশ। টাকার অংকে প্রতিটি শেয়ারের দাম কমেছে ৮ টাকা ১০ পয়সা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দাম দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ছিল ৩৮ টাকা ২০ পয়সা।

অবশ্য এ দাম কমার আগে কোম্পানিটির শেয়ার দাম প্রায় চার মাস ধরে বাড়ে। গত ৪ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ার দাম ছিল ২২ টাকা ৮০ পয়সা। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে প্রতিটি শেয়ারের দাম ৬২ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত উঠে।

হঠাৎ শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিচ্ছে না। সর্বশেষ ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এরপর আর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ফলে শেয়ারবাজারের পঁচা বা ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হয়েছে কোম্পানিটির।

সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটি লোকসানের মধ্যে পতিত হয়েছে। এ তিন মাসের ব্যবসায় কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৯৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ১ টাকা ৩২ পয়সা।

লোকসানে পতিত হওয়ার পাশাপাশি কোম্পানিটির সম্পদেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ১৯ পয়সা, যা গত জুন শেষে ছিল ২৯ টাকা ১৩ পয়সা। এ হিসেবে তিন মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ ১ টাকা ৯৪ পয়সা কমে গেছে।

অন্যদিকে, দাম কমে যাওয়ার পরও গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ কোম্পানিটির শেয়ার কিনতে রাজি হয়নি। ফলে সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ৫৯ লাখ ১ হাজার টাকা। এতে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৭১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

আরামিট সিমেন্টের পরেই গত সপ্তাহে দাম কমার তালিকায় ছিল তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং। সপ্তাহজুড়ে এ কোম্পানিটির শেয়ার দাম কমেছে ১৮ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ দাম কমার মাধ্যমে পরের স্থানে রয়েছে কুইন সাউথ টেক্সটাইল।

এছাড়া গত সপ্তাহে দাম কমার শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে— এইচ আর টেক্সটাইলের ১৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের ১০ শতাংশ, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ, এনআরবিসি ব্যাংকের ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ, ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, জিল বাংলা সুগার মিলের ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং নর্দান ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ দাম কমেছে।

এমএএস/এমএএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]