ইএফডি টেকসই করার পরিকল্পনা এনবিআরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৯ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১

খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ে ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিপণি-বিতানে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) বসানো শুরু করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরপর থেকে চলতি বছরের মধ্যে মোট ২০ হাজার যন্ত্র বসানোর কথা ঘোষণায়ই সীমাবদ্ধ রেখেছে সংস্থাটি। গত আগস্টে পর্যন্ত তিন হাজার ৩৯৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ইএফডি বসিয়েছে এনবিআর।

এবার ইএফডি বসানো নিয়ে বিকল্প চিন্তা করছে সংস্থাটি। ইএফডিকে খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ে কার্যকর মাধ্যম উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম জানিয়েছেন, ইএফডি টেকসই করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ভ্যাট দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইএফডি একটা বার্নিং ইস্যু। আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জও। রিটেইল সেক্টর থেকে ভ্যাট সংগ্রহ করা, তা কোষাগারে জমা করা অনেক বড় সম্ভাবনার জায়গা। এখানে ভ্যাট সংগ্রহে স্বচ্ছতা আনতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। সর্বশেষ আমরা ইএফডি শুরু করলাম। ইএফডির পাইলট প্রজেক্ট থেকে এ পর্যন্ত এটা সাকসেসফুলি রান করছে। রিলায়েবল, ইফেকটিভ রিটেইল ভ্যাট কালেকশনের একটা মাধ্যম হিসেবে ইএফডি প্রমাণিত হয়েছে। আমরা চাচ্ছি এটাকে আরও এক্সপান্ড করতে। আমরা ১ লাখ মেশিন বসানোর পরিকল্পনা করেছিলাম। প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার ইনস্টল করার কথা ছিল।’

ভ্যাট আদায়ের এই যন্ত্রটি কার্যকর হলেও টেকসই নয় উল্লেখ করে রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘ইএফডি কার্যকর হলেও আমরা লক্ষ্য করলাম এটা টেকসই হবে না। আগের বিভিন্ন পদক্ষেপের মতো এটা ইফেক্টিভ, ইফিশিয়েন্ট হলেও সাকসেসফুল হবে না। আমাদের চিন্তা এটাকে কীভাবে টেকসই করা যায়। ১ লাখ মেশিন বসালেও সেটা পুরো দেশ কাভার করবে না। আবার ভ্যাট অফিসের মাধ্যমে মেশিনগুলো বসানো, রক্ষণাবেক্ষণ, রিপ্লেসমেন্ট, মেশিনগুলোর ব্যবহার ঠিক মতো হচ্ছে কি না এগুলো পাহারা দেওয়া, এগুলো যদি এনবিআরের ম্যানপাওয়ার দিয়ে করতে হয় তাহলে এটা টেকসই হবে না। তাই এটার একটা বিকল্প পথ আমরা চিন্তা করেছি। সেটা হলো অনেক মেশিন রিটেইল সেক্টরে ছড়িয়ে দেবো। কিন্তু সেটা যেন হয় খুব সহজ সিস্টেমে।’

তিনি বলেন, ইএফডিকে টেকসই করতে আমরা একটা ফর্মুলা বের করেছি। সেটা ১ সপ্তাহের ভেতর জানতে পারবেন। আমরা একটা পরিকল্পনা করেছি যা পুরো ব্যাপারটাকে টেকসই করবে।

যন্ত্রটিকে জনপ্রিয় করতে চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে ইএফডি চালানের লটারির ব্যবস্থা করে এনবিআর। এরই মধ্যে ১১টি লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে গুটিকয়েক দোকানে ইএফডি থাকায় তা নিয়ে ক্রেতা, বিক্রেতা উভয়ের অস্বস্তি ছিল। আর সেপ্টেম্বর থেকে বিনামূল্যে ইএফডি যন্ত্র দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর এক অফিস আদেশে এনবিআর জানায়, ২০ হাজার ৫৩৩ টাকায় ইএফডি মেশিন ও ২৪ হাজার ৫৯৬ টাকায় এসডিসি (সেলস ডাটা কন্ট্রোলার) মেশিন ক্রয় করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। তবে সেক্ষেত্রে তাদের সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। ইএফডি যন্ত্র ব্যবহার না করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

সবাই ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দিতে চায়
যে যার জায়গা থেকে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে বলে মন্তব্য করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘মুখে আমরা বলি সরকারের উন্নয়নে ভ্যাট, ট্যাক্স দিতে চাই। এনবিআর ঠিকমতো আমার কাছ থেকে ট্যাক্স নিতে পারে না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সবাই ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দিতে চায়। যে যে পর্যায়ে থাকে, ফাঁকি দিতে চায়। এই ফাকিঁর জায়গাটা বন্ধ করা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।’

মামলাজটকে রাজস্ব আহরণে অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভ্যাট সংগ্রহকারী আমাদের ইগনোর করে আদালতের স্মরণাপন্ন হয়। এ জায়গাটা আমরা ঠিক করতে চাই। আমার সিস্টেম বা হিসাব নিকাশ এতো ক্লিয়ার থাকবো যেন ভ্যাট প্রদানকারী কোনো চ্যালেঞ্জ না করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ২৬৭ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৮৭ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে গত বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ। এছাড়া ৬০ হাজারের বেশি রিটার্ন অনলাইনে সাবমিশন হয়েছে। ভ্যাট রিটার্নও অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে। গত মাসে ১ লাখ ১২ হাজার ভ্যাট রিটার্ন দেওয়া হয়েছে। এখন ৬০ শতাংশের বেশি ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সদস্য মাসুদ সাদিক, জাকিয়া সুলতানা, আব্দুল মান্নান শিকদার, শাহীন আক্তার প্রমুখ।

এসএম/এমএইচআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]