দুই সেকেন্ডে ‘শেষ’ জেএমআই হসপিটালের বিডিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫১ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২২

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন পাওয়া জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের কাট-অফ প্রাইস ২৫ টাকা নির্ধারণ করেছেন যোগ্য বিনিয়োগকারীরা।

চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা থেকে ১২ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিডিংয়ে (নিলাম) অংশ নিয়ে এই কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণ করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

এই কোম্পানিটির বিডিংয়ের মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিডিং শুরুর দুই সেকেন্ডের মধ্যে আবেদন করেও অনেক যোগ্য বিনিয়োগকারী কোম্পানিটির শেয়ার বরাদ্দ পাননি। অর্থাৎ মাত্র দুই সেকেন্ডেই কোম্পানিটির বিডিং শেষ হয়ে গেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, বিডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এই টাকার শেয়ার পেতে ৩৮৫ জন যোগ্য বিনিয়োগকারী ১৩৯ কোটি ৭৯ লাখ ২১ হাজার ৪০০ টাকার দর প্রস্তাব করেন।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিটি শেয়ারে ২৫ টাকা করে ১৩৭ কোটি ৬৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকার দর প্রস্তাব জমা পড়ে। যাতে কোম্পানির কাট-অফ প্রাইস ২৫ টাকা নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে বিডিং শুরুর দুই সেকেন্ডের মধ্যেই সর্বোচ্চ দামে ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বেশি শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেন যোগ্য বিনিয়োগকারীরা। ফলে দুই সেকেন্ডের মধ্যে আবেদন করেও অনেক যোগ্য বিনিয়োগকারী কোম্পানিটির শেয়ার পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে ডিএসইর একাধিক সদস্য বলেন, আমরা বিডিং শুরুর দুই সেকেন্ডের মধ্যেই নির্ধারিত নিয়মে দর প্রস্তাব জমা দেয়। কিন্তু এরপরও শেয়ার পাচ্ছি না। এটা কেমন বিডিং হলো। বিডিংয়ের এই পদ্ধতি চলমান থাকলে অল্প কিছু যোগ্য বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার চলে যাবে। ফলে কারসাজির আশঙ্কা থেকে যাবে।

তারা বলেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতির বিডিং নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক চলছে। কারসাজি বন্ধের লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিডিংয়ের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু এরপরও বিডিং নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না।

তারা আরও বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত, এই বিডিং পদ্ধতির পরিবর্তন আনা। বেশি সংখ্যক যোগ্য বিনিয়োগকারী যাতে বিডিংয়ের মাধ্যমে শেয়ার পান সেই রকম পদ্ধতি চালু করতে হবে। তা না হলে কারসাজি করার শঙ্কা থেকেই যাবে।

সমস্যা সমাধানের উপায় হিসেবে তারা বলছেন, কোনো কোম্পানির বিডিংয়ে অংশগ্রহণকারী যোগ্য বিনিয়োগকারীর একটা নূন্যতম সংখ্যা নির্ধারণ করে দিতে হবে। কোনো কোম্পানির বিডিংয়ে সেই সংখ্যার কম যোগ্য বিনিয়োগকারী আবেদন করলে তা বাতিল করতে হবে। সেই সঙ্গে আবেদনকারীদের কমপক্ষে কত শতাংশ শেয়ার পাবেন সে বিষয়েও একটা নির্দেশনা থাকা উচিত।

তারা বলেন, জেএমআই হসপিটালের বিডিংয়ে অংশ নিয়ে যারা শেয়ার পেয়েছেন তাদের প্রায় সম্পূর্ণই মিউচ্যুয়াল ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড। ব্রোকারেজ হাউসের সংখ্যা খুবই কম। অথচ ব্রোকারেজ হাউসগুলোই শেয়ারবাজারের মূল স্টেকহোল্ডার হিসেবে রয়েছে। যেখানে শেয়ারবাজারের সক্রিয় স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণ নেই সেটা আবার কেমন বিডিং? নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত, দ্রুত বুক বিল্ডিং পদ্ধতির পরিবর্তন করে সক্রিয় স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এটা করতে না পারলে বুক বিল্ডিংয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির বিডিংয়ের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক ওঠায় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেয়ারের যৌক্তিক দাম নির্ধারণে পদ্ধতি সুনির্দিষ্ট করে দেয় বিএসইসি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হতে আসা কোম্পানির শেয়ারের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘নেট অ্যাসেট ভ্যালু মেথড’, ‘ইয়েল্ড মেথড’ ও ‘ফেয়ার ভ্যালু মেথড’ ব্যবহার করা যাবে।

শেয়ারের দাম নির্ধারণ হয় যেভাবে

>>> নেট অ্যাসেট মেথডে শেয়ারের দাম নির্ধারণ করতে হলে কোম্পানির নেট অ্যাসেট বা নিট সম্পদ বের করতে হবে।

>> নিট সম্পদ বের করতে হলে মোট সম্পদ থেকে ঋণ বিয়োগ করে দিতে, যেসব সম্পদ নিয়ে সন্দেহ আছে সেগুলো বিয়োগ করে দিতে হবে, প্রেফার্ড শেয়ারহোল্ডারদের পাওনা বিয়োগ করে দিতে হবে, লভ্যাংশ প্রদেয় থাকলে বিয়োগ করে দিতে হবে। নিট সম্পদকে মোট শেয়ার সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে নেট অ্যাসেট ভ্যালু মেথডে শেয়ারের দাম বের হয়ে আসবে।

>>> ইয়েল্ড মেথডে শেয়ারের দাম বের করেতে হলে এক্সপেকটেড আর্নিংকে নরমাল আর্নিং দিয়ে ভাগ করে ভাগফলকে ফেস ভ্যালু দিয়ে গুণ দিতে হবে।

>>> ফেয়ার ভ্যালু মেথডে অ্যাসেট ভ্যালু মেথড ও ইয়েল্ড মেথড থেকে পাওয়া শেয়ারের দামের গড় করতে হবে। শেষ পর্যন্ত ফেয়ার ভ্যালু মেথডে যে দাম আসবে তার থেকে ২০ শতাংশ বেশি পর্যন্ত শেয়ারের দাম হাঁকাতে পারবেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

এই পদ্ধতিতেই যোগ্য বিনিয়োগকারীরা জেএমআই হসপিটালের বিডিংয়ে দর প্রস্তাব করেন। বিডিংয়ে অংশ নেওয়া ৩৮৫ যোগ্য বিনিয়োগকারীর মধ্যে একজন সর্বনিম্ন ১৬ টাকা দর প্রস্তাব করেন। এছাড়া দুজন ২২ টাকা করে, দুজন ২৩ টাকা করে ও একজন ২৪ টাকা করে দর প্রস্তাব করেছেন।

এর আগে গত বছরের ১৬ নভেম্বর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কোম্পানিটির বিডিংয়ের অনুমোদন দেয়। শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে এই কোম্পানিটি জমি ক্রয়, ভবন তৈরি, মেশিনারিজ ক্রয়, ঋণ পরিশোধ কাজে ব্যবহার করবে।

এমএএস/এআরএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]