কাস্টমসে পণ্য ছাড়ে হয়রানি হলে সরাসরি এনবিআরে জানান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৪ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২২
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম| ছবি- জাগো নিউজ।

কাস্টমস হাউসে পণ্য ছাড়করণে হয়রানির শিকার হলে ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্টভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআরে) জানাতে বলেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২২ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে হবে এনবিআরে। জেনারেল কথা বলে লাভ নেই। আমরা আহ্বান করছি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানোর জন্য। কবে কোথায় কী ঘটনা ঘটেছে যেটার জন্য আপনাকে সাফার করানো হয়েছে। অভিযোগ দেন আমরা ব্যবস্থা নেবো।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা অভিযোগ কোথায় করছে। কাদের কাছে করেছে। সাংবাদিকদের কাছে করেছে। অ্যাসোসিয়েশনের কাছে করেছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট অভিযোগতো আমাদের কাছে করতে হবে। আমরা কোনো প্রতীকার করি কিনা সেটা অভিযোগ না করলে কীভাবে জানা যাবে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন আমার মাল আটকায়ে আছে। তার পেছনের কারণ কী আমরা দেখার চেষ্টা করি? শর্তগুলো পূরণ করছি কিনা সেটা আমরা দেখি না। শর্তে হয়তো ছিল অ্যাটোমিক এনার্জি কমিশনের ছাড়পত্র লাগে বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র লাগে সেগুলো তাদের কাছে নেই। ঢালাওভাবে যদি বলা হয় আমার মাল ছাড় হচ্ছে না কেন। এমন ক্লেইম দেওয়াটা ঠিক হবে না।

jagonews24ছবি- জাগো নিউজ

এনবিআর সদস্য (ভ্যাটনীতি) মাসুদ সাদিক বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে প্রতিদিন আমাদের বিল অব এন্ট্রি হয় ১০ হাজার। এর মধ্যে এক্সপোর্ট রিলেটেড ৫ হাজার। আমদানি বিল অব এন্ট্রি ২ হাজার। এই ২ হাজার পণ্য ছাড়ে বিলম্ব হতে পারে। পণ্য ছাড়ে অনেক রকম প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হয়। কাস্টমস অ্যাসেসমেন্ট করে রেভিনিউ আদায় করবে এইটাই শুধু নয়। কেউ সংক্ষুব্ধ হলে অভিযোগ করতে পারে।

এলডিসি থেকে উত্তরণে কাস্টমস আদায়ে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বাণিজ্য প্রতিযোগিতা কাস্টমস সব সময় মাথায় রাখে। এলডিসি থেকে উত্তরণে আমদানি ও রপ্তানিতে আমাদের যে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে সেটা সক্রিয় বিবেচনায় আছে।

তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে। তার আন্ডারে অনেকগুলো সাব কমিটি করা হয়েছে। তারাও কাজ করছে।

মাসুদ সাদিক বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিটি ধাপেই অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে। কাস্টমসের আয় কমে আসবে। কাস্টমসের আয় হ্রাস কম্পোন্সেট করবো অভ্যন্তরীণ ভ্যাট ও ইনকাম ট্যাক্স থেকে। যত উন্নত হব, তত আমাদের ডমেস্টিক প্রোডাক্টশন বাড়বে। আমাদের ইন্ডিভিজ্যুয়ালের ইনকাম বাড়বে, পার ক্যাপিটা ইনকাম বাড়বে। ভ্যাট, ট্যাক্সের জায়গা তৈরি হবে। আমরা সেই জায়গাটাকে সমন্বয় করার চেষ্টা করছি। কাস্টমসের রেট কমবে। যে পরিমাণ মেশিনারিজ ইম্পোর্ট হবে। এক্সপোর্টের ভলিউম বাড়বে, র ম্যাটিরিয়ালস ইম্পোর্ট হবে। রেট কমলেও একেবারে হতাশাজনক আয় হবে না কাস্টমসের।

চিকিৎসকরা সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে যে অর্থ নেন, তা যথাযথভাবে করের আওতায় আনতে দুদকের সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে ইমপ্লিমেন্ট করতে হবে। রাজস্ব বোর্ডতো চিকিৎসকদের এনফোর্স করতে পারে না, যে তোমরা রিসিপ্ট দিবা। রোগী থেকে কত টাকা নিলা, তাদের এনফোর্স করা এনবিআরের জন্য সুখকর কিছু হবে না। দুদক বরং এই অভিযোগটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দিতে পারতো।

‘আমরা এই সুপারিশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে করতে পারি৷ এখনো করিনি।আমরা সুপারিশটা পর্যালোচনা করছি। রেভিনিউ আদায়ের জন্য হাসপাতালের কাছ থেকে, চিকিৎসকের কাছ থেকে কী ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করবো। তারা কতটা ইম্পলিমেন্ট করতে পারেন, আমরা কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারি। চিকিৎসকদের কাছ থেকে নয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটা সার্কুলার হতে হবে। আমরা ও সেই সার্কুলার ফলো করবো।

জানুয়ারি আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস, ২০২২ পালিত হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন এবারের কাস্টমস দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘তথ্য সংস্কৃতি বিকাশ এবং তথ্য ইকোসিস্টেম বিনির্মাণের মাধ্যমে ডিজিটাল কাস্টমসের সম্প্রসারণ’।

বিশ্ব কভিড-১৯ মহামারির কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করে আমদানি-রপ্তানি নিবিড় রাখা; সরবরাহ চেইনকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে জনগণ ও বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সচল রাখা; সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যকার সহযোগিতার মনোভাব জোরদার করা এবং কাস্টমস নীতিগত ও পদ্ধতিগতভাবে সর্বক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির আত্মীকরণের মাধ্যমে ব্যবসা ও বিনিযোগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এ বছরের আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

আরও জানানো হয়, গত অর্থবছরে মোট রাজস্বের মধ্যে ৭৭ হাজার ১৫০ কোটি টাকা এবং চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত মোট রাজস্বের ৪১ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা বাংলাদেশ কাস্টমস থেকে এসেছে যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এসএম/এমআরএম/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]