হুটহাট বাড়ছে খেজুরের দাম

সাঈদ শিপন
সাঈদ শিপন সাঈদ শিপন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৯ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২২
রাজধানীর বাদামতলীর খেজুরের আড়ত

আর মাত্র দুই সপ্তাহ পরই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। রমজান মাস সামনে রেখে বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার বাদামতলীর খেজুরের আড়তগুলো। তবে রোজাকেন্দ্রিক চাহিদা বাড়ায় কয়েক দিন ধরে হুটহাট করেই খেজুরের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বাদামতলীর পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

তারা জানিয়েছেন, বাদামতলীতে বর্তমানে খেজুরের ব্যবসা করছেন এমন ব্যবসায়ীর সংখ্যা শতাধিক। তবে খেজুর আমদানির সঙ্গে জড়িত গুটিকয়েক ব্যবসায়ী। মূলত এই আমদানিকারকদের ওপরই নির্ভর করে খেজুরের দাম বাড়বে নাকি কমবে। খেজুরের বড় আমদানিকারকদের মধ্যে রয়েছেন- হাজি বরাত মিয়া, হাজি সিরাজুল ইসলাম, হাজি আফসার উদ্দিন এবং সোলাইমান সেলিম।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, পুরো বছর যে পরিমাণ খেজুর বিক্রি হয় তার কয়েকগুণ বেশি বিক্রি হয় শুধু রোজার মাসে। এবারও রোজাকেন্দ্রিক খেজুর বিক্রি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বিক্রি বাড়ার কারণে গত ১৫ দিনে খেজুরের দাম মান অনুযায়ী কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত দু-তিনদিন ধরে খেজুরের দাম হুটহাট বাড়ছে।

jagonews24

তবে রোজাকেন্দ্রিক খেজুরের দাম বাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আমদানিকারকরা। তারা বলেন, খেজুরের পর্যান্ত মজুত রয়েছে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক। গত এক মাসে খেজুরের দাম বাড়েনি বলেও দাবি তাদের। এবার রোজার মধ্যে খেজুরের কোনো ঘাটতি হবে না বলেও উল্লেখ করেন আমদানিকারকরা।

বর্তমানে বাদামতলীতে আম্বার, কালমি, মরিয়ম, আজওয়া, শুককারী, ছড়া, বাটি, ছক্কা, কাউন দাবাস, সুগাই, গাওয়া, তিনপল, মাজদুল, মাবরুম, জিদাহি, সায়ের, মাসরুক, ফরিদা, আদম, ম্যাকজুয়েল, মাবরুল, কিমি, দাবাস, খালাসসহ বিভিন্ন নামের খেজুর বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে (১৫ মার্চ) বাদামতলী বাজারে ১০ কেজির এক কার্টন নাগাল খেজুর বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৪৫০ টাকায়, যা কিছুদিন আগে ছিল এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৩৫০ টাকার মধ্যে। ১০ কেজির এক কার্টন খালাস খেজুর বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা, যা আগে ছিল এক হাজার ১৫০ টাকার মধ্যে।

jagonews24

একইভাবে কিছুদিন আগে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা বিক্রি হওয়া পাঁচ কেজির কিমি খেজুরের কার্টন এখন বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৫৫০ টাকায়। দাবাস ১০ কেজির কার্টন দুই হজার থেকে দুই হাজার ৫০০ এবং পাঁচ কেজির কার্টন এক হাজার ৫০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েকদিনে দাবাস খেজুরের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে।

এছাড়া ১০ কেজির জিহাদি খেজুর এক হাজার ৩০ থেকে এক হাজার ৫০ টাকা, লুলু এক হাজার ৬৫০ থেকে এক হাজার ৭০০, সায়ের এক হাজার ৫০ থেকে এক হাজার ৭০ ও মাসরুক এক হাজার ৯০০ থেকে এক হাজার ৯৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ কেজির ফরিদা ৮০০ থেকে ৮৩০ টাকা, কালমি এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৩৫০, মাবরুম এক হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার ৩০০, আদম এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৭৫০ ও আজওয়া দুই হাজার থেকে দুই হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব খেজুরের দামও গত কয়েকদিনে বেড়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এখন বাদামতলীতে সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ম্যাকজুয়েল খেজুর। এই খেজুর পাঁচ কেজির এক কার্টন বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকায়, যা কিছুদিন আগে ছিল ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। দামি খেজুরের তালিকায় এর পরের স্থানে রয়েছে মাবরুম। পাঁচ কেজির এক কার্টন মাবরুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার ৩০০ টাকায়। তিন কেজির কার্টন বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায়। গত কয়েকদিনে এই খেজুরের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০-১৫ টাকা।

jagonews24

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাদামতলীর একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, এখানে খেজুরের পাইকারি ব্যবসায়ীর অভাব নেই। শতাধিক ব্যবসায়ী খেজুর পাইকারি বিক্রি করেন। কিন্তু খেজুর আমদানি করেন হাতেগোনা কয়েকজন। খেজুরের দাম বাড়া বা কমা নির্ভর করে এই আমদানিকারকদের ওপর। অনেক সময় দেখা যায় আমদানিকারকরা সকালে একদামে দিচ্ছেন, বিকেলে আরেক দাম নিচ্ছেন।

খেজুরের দামের বিষয়ে জীবন এন্টারপ্রাইজের মো. জান্নাত বলেন, এখন খেজুরের দামের কোনো ঠিক নেই। গত ১৫ দিনে সব ধরনের খেজুরের দাম বেড়েছে। এমনকি কয়েকদিন ধরে সকালে এক দাম তো বিকেলে আরেক দাম, এমন ঘটনাও ঘটছে। হুটহাট খেজুরের দাম বাড়ছে। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। আমদানিকারকরা আমাদের কাছ থেকে যে দাম নেবেন, আমাদের তার ওপর ভিত্তি করেই বিক্রি করতে হবে। আমাদের ধারণা রোজা পর্যন্ত খেজুরের দাম এমনই থাকবে। রোজা শেষ হওয়ার আগে দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমরা ১০ কেজি দাবাস খেজুর বিক্রি করেছি দুই হাজার ৪০০ টাকা। এখন সেই খেজুর আমাদের কিনতে হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ টাকার ওপরে। তাহলে এই খেজুর আমরা কতো বিক্রি করবো? গাড়ি ভাড়া, কর্মীর বেতন ও দোকান ভাড়া। এই খেজুর দুই হাজার ৬৫০ টাকার নিচে বিক্রি করলে আমাদের কিছু থাকবে না। শুধু দাবাস নয়, গত কয়েকদিনে এভাবে সব ধরনের খেজুরের দাম বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

মো. মনির নামের বাদামতলীর আরেক ব্যবসায়ী বলেন, কয়েকদিন ধরে খেজুরের দাম একটু বাড়তি। রোজার কারণেই খেজুরের এই দাম বেড়েছে। আসলে পুরো বছর খেজুর বিক্রি হলেও মূল ব্যবসা হয় রোজার মাসে। অতিরিক্ত চাহিদা থাকায় স্বাভাবিকভাবেই রোজার আগে খেজুরের দাম কিছুটা বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

যোগাযোগ করা হলে সাথী ফ্রেস ফ্রুটসের মালিক হাজি সিরাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এক মাস আগে খেজুরের যে দাম ছিল, এখনো ওই দামই রয়েছে। খেজুরের দাম বাড়ার তথ্য সঠিক নয়। বাজারে খেজুরের কোনো অভাব নেই। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত আছে। এবার রোজার মধ্যে খেজুরের কোনো ঘাটতি হবে না।

এমএএস/কেএসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]