মৌসুমের আগেই বাজারে আম-লিচু, দামও চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৯ পিএম, ১৩ মে ২০২২

আর একদিন পরেই আসছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ। আম লিচুসহ নানা ধরনের রসালো ফলে ভরে যাবে বাজার। তবে এরই মধ্যে রাজধানীর বাজারে দেখা মিলছে গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগ আমের। আগে ভাগেই দেখা মিলছে লিচুরও। পরিপক্ব ও পরিপুষ্ট না হলেও মৌসুমের নতুন এই ফলটির জন্য চাওয়া হচ্ছে চড়া দাম। অন্যদিকে কেজিতে ২০ টাকা কমেছে তরমুজের দাম।

শুক্রবার (১৩ মে) মিরপুর, ক্যান্টনমেন্টের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে পর্যাপ্ত আম, লিচু এখনো ওঠেনি। বোম্বাই বা মাদ্রাজ নামের অপরিপক্ব একশ লিচুর দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে বিক্রেতারা বলছেন- লিচুগুলো যশোর ও দিনাজপুর থেকে আনা হয়েছে। আগামী এক থেকে দুসপ্তাহ এগুলোই বাজারে থাকবে। তারপর বাজারে উঠবে রাজশাহীর রসালো লিচু।

বাজারে দুই-এক জাতের আম উঠলেও সেগুলো নেই ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। গোবিন্দভোগ আম প্রতিকেজি চাওয়া হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা। অন্যদিকে গোপালভোগ আম প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৯০ টাকায়। এছাড়া খিরসাপাত ও লক্ষনভোগ আমও পাওয়া যাচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়।

jagonews24

যদিও ক্রেতারা বলছেন, বাহারি নামের আড়ালে বারোমাসি ও গুটি আম বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

প্রতি বছর রাজশাহী জেলা প্রশাসন আমচাষি, ফল গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে এ ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ নির্ধারণ করে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। যারা পরিপুষ্ট আম খেতে অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের ম্যাংগো ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে আম কিনতে অনুরোধ করেছে প্রশাসন।

যদিও আম চাষিরা বলছেন, জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম সপ্তাহে আম পাকবে। তবে সেটি গুটি আম। চলতি মে মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে যে পাকা আম বাজারে আসবে, তা সবই গুটি জাতের। এরপর আসবে গোপালভোগ। মে মাসের শেষ দিকে এ জাতের আম পাওয়া যাবে।

এছাড়া সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে জুনের শুরুতে ক্ষীরসাপাত ও লক্ষণভোগ আম বাজারে আসবে। জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাজারে মিলবে সুস্বাদু ল্যাংড়া জাতের আম। সবশেষে বাজারে পাওয়া যাবে ফজলি আম। জুনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ফজলি আম পাড়া শুরু হতে পারে।

jagonews24

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘চলতি মে মাসের ২০ তারিখ থেকে পাকা আমের স্বাদ নিতে পারবেন। গুটি আম পাড়া হবে ওই সময়। এরপর গোপালভোগ আম পাড়ার তারিখ জানা যাবে। তবে পরিপুষ্ট ও ভালো মানের আম পেতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।’

মিরপুর ৬ এর ফল বিক্রেতা সজীব আহমেদ জানান, বাজারে যেসব আম পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো কোনোটিই রাজশাহীর না। সাতক্ষীরা, দিনাজপুর থেকে আনা আম এখন বাজারে উঠছে। রাজশাহী থেকে আনা আম আরও ২০ থেকে ২৫ দিন পর বাজারে উঠবে।

অন্যদিকে, বাজারে মাল্টা ১৬০- ১৮০ টাকা, সবুজ আপেল ১৮০-২০০ টাকা আনার ৪৫০-৫০০, পেয়ারা ৬০-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তালের শ্বাস প্রতিপিস ৪০ টাকা, সাদা আঙুর ৩০০-৩৪০ টাকা কেজিতে ও লাল আঙুর ৭৫০-৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে আনারস প্রতিপিস ৩০-৪০ টাকা, ডাব ৬০-১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অল্প হলেও ৩০০-৫০০ টাকায় মিলছে পাকা কাঁঠাল।

jagonews24

গত রমজানে তীব্র চাহিদা থাকলেও বর্তমানে কমেছে তরমুজের চাহিদা। শেষ সময়ে দাম বেশি থাকার পরিবর্তে কেজিতে ২০ টাকা কমেছে তরমুজের দাম। প্রতিকেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৪৫-৫০ টাকা। যারা ভ্যানে করে তরমুজ বিক্রি করছেন, তারা ২৫-২৮ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন।

মিরপুর ৬ নাম্বার শাহাবুদ্দিন নামে এক ফল বিক্রেতা বলেন, এবার তরমুজের অনেক ভাল ফলন হইছে। এই কারণে সিজন শেষেও এখনো প্রচুর পরিমাণের তরমুজ আছে।

তিনি বলেন, এখন বৃষ্টি আর ঠান্ডা থাকায় তরমুজের চাহিদা কম। বেশি দামে ফল আমরা আড়ত থেকে নিয়ে আইসা পড়ছি বিপদে। দাম কমছে কেজি প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা। তাও তেমন বিক্রি হচ্ছে না।

এসএম/আরএডি/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]