ফেসবুকে শেয়ারবাজার নিয়ে গুজব সৃষ্টিকারী পোস্ট, গ্রেফতার এক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫৩ পিএম, ১৮ মে ২০২২

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে শেয়ারবাজার সম্পর্কিত গুজব সৃষ্টিকারী পোস্ট করে শেয়ারবাজারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করায় মো. মাহবুবুর রহমান নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (১৮ মে) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৭ মে) ডিবি পুলিশের একটি দল মো. মাহবুবুর রহমানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্তকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করবেন।

গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর মো. মাহবুবুর রহমান ‘শেয়ার বাজার ২০২১’ নামক ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন, ‘যে যা পারেন সেল দিয়ে বের হয়ে যান। ইনডেক্স ৫৬০০ পর্যন্ত পড়বে ....... পেনিক নয় বাস্তবতা!’। বিএসইসির ‘সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেল’ এর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, তিনি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় শেয়ারবাজার সম্পর্কিত গুজব সৃষ্টিকারী পোস্ট করে শেয়ারবাজারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে বাজার কারসাজি করাই এসব গুজবের উদ্দেশ্য।

গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় কমিশনের উপ-পরিচালক মুন্সি মো. এনামুল হক একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মো. মাহবুবুর রহমান বর্তমানে ক্যাজুয়াল কর্মচারী হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কাজ করছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ারবাজার সম্পর্কিত মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি উল্লিখিত কার্যকলাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্ররোচনা ও প্রলুদ্ধ করে বেআইনিভাবে লাভবান হয়ে আসছেন।

এ রূপ কার্যকলাপের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা পুঁজিবাজারকে প্রভাবিত করাসহ সমূহ ক্ষতিসাধন করছেন, যা পুঁজিবাজার তথা বিনিয়োগকারী এবং সার্বিকভাবে রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কার্যক্রম বটে। পুঁজিবাজারে এ রূপ চক্র বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিনব উপায়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করত পুঁজিবাজারকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে ও স্বীয় অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার নিমিত্ত বিভিন্ন অপকর্ম করছে, যে কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতর্কসহ আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করার সম্ভাবনা আছে- বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব রটনাকারীদের চিহ্নিত করতে ‘সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেল’ গঠন করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসির মার্কেট সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্টের (এমএসআইডি) কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধানে এ মনিটরিং সেলের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পুঁজিবাজারে গুজব নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে আসছে বিএসইসি। ইতোমধ্যে বিএসইসির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১টি গুজব সৃষ্টিকারী ফেসবুক আইডি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে গুজব সৃষ্টিকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব আইডির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে কমিশন।

পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর একটি আদেশ জারি করে। এতে পুঁজিবাজারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট অথবা পুঁজিবাজার বা সিকিউরিটিজ লেনদেনের সঙ্গে যে কোনো উপায়ে সম্পর্কিত সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সিকিউরিটিজ মার্কেট ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিএসইসি, ডিএসই এবং সিএসইর নাম বা লোগো ব্যবহার করে কোনো তথ্য বা প্রতিবেদন প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে আদেশ দেওয়া হয়।

সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে কোনো লিস্টেড সিকিউরিটিজের বাজারমূল্য বা অন্য কোনো বিষয়ে পূর্বানুমান কিংবা বিনিয়োগকারীর স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতেও আদেশ প্রদান করা হয়।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ (১৮ নং আইন, ১৯৬৯) এর সেকশন ২০ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এই আদেশটি জারি করা হয়। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমএএস/বিএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]