১৪’র নিচে নামলো ডিএসই’র পিই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৩ পিএম, ২১ মে ২০২২

অব্যাহত টানা পতনের মধ্যে পড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই) ১৪-এর নিচে নেমে গেছে। গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের প্রতিটিতেই দরপতন হওয়ায় পিই এভাবে কমেছে।

সপ্তাহজুড়ে তালিকাভুক্ত সব খাতেরই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এতে কিছু খাতের পিই বাজারের সার্বিক পিই’র নিচে চলে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক, ওষুধ, বিবিধ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত।

তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকি নির্ণয় করা হয় মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও দিয়ে। যে কোম্পানির পিই যত কম ওই কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকি তত কম।

সাধারণত ১০-১৫ পিই থাকা কোম্পানির শেয়ারের বিনিয়োগ করা ঝুঁকি মুক্ত ধরা হয়। আর ১০ নিচে পিই থাকলে ওই কোম্পানির শেয়ার দাম অবমূল্যায়িত ধরা হয়।

তথ্য পর্যালোচনা দেখা যায়, গত সপ্তাহে বড় দরপতনের ফলে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত এখন ১৩ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে।

সার্বিক বাজারের যখন এই চিত্র তখন ব্যাংক খাতের পিই রয়েছে ৭ দশমিক ৮০ পয়েন্টে। ১১ দশমিক ৩০ পয়েন্ট নিয়ে সর্বনিম্ন পিই’র তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। আর তৃতীয় স্থানে থাকা বিবিধ খাতের পিই ১২ দশমিক ১০ পয়েন্ট। সার্বিক বাজারের তুলনায় কম পিই থাকা আর এক খাত ওষুধের পিই ১৩ দশমিক ৫০ পয়েন্ট।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি পিই রয়েছে জীবন বিমা খাতের। এ খাতের পিই ৬৩ দশমিক ৮০ পয়েন্ট। সর্বোচ্চ পিই’র তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা চামড়া খাতের পিই ৫৩ দশমিক ৮০ পয়েন্ট। ২৮ দশমিক ৭০ পিই নিয়ে এর পরের স্থানে রয়েছে সিরামিক খাত।

এছাড়া বাকি খাতগুলোর মধ্যে সাধারণ বিমা খাতের পিই ১৫ দশমিক ৩০ পয়েন্ট, সেবা ও আবাসন খাতের ১৫ দশমিক ৯০ পয়েন্ট, প্রকৌশল খাতের ১৯ দশমিক ৭০ পয়েন্ট, অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং খাতের ২২ পয়েন্ট, খাদ্য খাতের ২৪ পয়েন্ট, সিমেন্ট খাতের ২৫ দশমিক ২০ পয়েন্ট এবং আইটি খাতের পিই ২৬ দশমিক ১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

পিই কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের সংগঠন ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী জাগো নিউজকে বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পিই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডিকেটর। একটি কোম্পানির পিই যত, ধরে নেওয়া হয় ওই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত আসতে ওই পরিমাণ বছর লাগবে। অর্থাৎ একটি কোম্পানির পিই ৫০ হলে, ওই কোম্পানি থেকে বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত আসতে ৫০ বছর লাগবে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পিই ২০ পর্যন্ত আমরা ঝুঁকিমুক্ত ধরে নেই। পিই ২০’র ওপরে চলে গেলে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। তবে সব সময় পিই দিয়ে বিনিয়োগের ঝুঁকি নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। কারণ পিই নির্ধারণ করা হয় গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনকে বেজ ধরে। একটি কোম্পানির পিই বেশি হলেও তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা ভালো হলে তা অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয় না।

এমএএস/এমএইচআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]