১৬ আগস্ট বন্ধ হচ্ছে সোনালী ব্যাংক ইউকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ২৩ মে ২০২২

অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থপাচারের অভিযোগ থাকা সোনালী ব্যাংক ইউকে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকটি আগামী ১৬ আগস্ট বন্ধ হয়ে যাবে। এরই মধ্যে ব্যাংকটি নিয়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন সোনালী ব্যাংক ইউকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। সেই আলোকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের জন্য সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে নন-কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সোনালী ব্যাংক ইউকের (যুক্তরাজ্য) পাশাপাশি ব্যাংকটির তৎকালীন সিইও মো. আতাউর রহমান প্রধানকে (বর্তমানে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন) দায়িত্বে অবহেলা, সুপারভাইজরি ঘাটতি ও অন্যান্য কারণে ৭৬ হাজার ৪০০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়। ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর আতাউর রহমান প্রধানের বিরুদ্ধে আরোপিত শাস্তির সিদ্ধান্ত এফসিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ২০১৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই সোনালী ব্যাংক ইউকের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে বর্তমানে এটি ট্রেড ফাইন্যান্স (এল/সি অ্যাভাইজিং, কনফারমেশন অ্যান্ড ডিসকাউন্টিং) ও রেমিট্যান্স কার্যক্রম চালু আছে।

বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের জোগান দেওয়া মূলধনে গঠিত হয় সোনালী ব্যাংক ইউকে। এর মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মালিকানা রয়েছে ৫১ শতাংশ। বাকি ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক সোনালী ব্যাংক লিমিটেড।

এদিকে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে সোনালী ব্যাংক (ইউকে) লি. যুক্তরাজ্যে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রুডেন্সিয়াল রেগুলেশন অথরিটি (পিআরএ) এবং ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটির (এফসিএ)। গত ২৭ জানুয়ারি গৃহীত এ সিদ্ধান্ত ১০ ফেব্রুয়ারি সোনালী ব্যাংক ইউকে’কে জানিয়ে দেওয়া হয়। সোনালী ব্যাংক ইউকের চেয়ারম্যান মো. আসাদুল ইসলাম তিনটি সম্ভাব্য বিকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।

প্রস্তাবগুলোর একটি হচ্ছে পিআরএর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করা। তবে এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। এছাড়া আপিলে সোনালী ব্যাংক ইউকে মামলায় জয়ী হলেও রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকবে। তাই ভবিষ্যতে এর সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা মোটেও সহজ হবে না। ট্রাইব্যুনালে আপিল ব্যর্থ হলে সোনালী ব্যাংক ইউকে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের আর্থিক বাজারে কাজ করার জন্য কখনই অনুমতি দেওয়া হবে না।

কন্টিনজেন্সি প্ল্যান বাস্তবায়ন নামে (প্ল্যান বি) বিকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, সোনালী ব্যাংক ইউকে পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত কন্টিনজেন্সি প্ল্যান অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে ট্রেড ফাইন্যান্স ও রেমিট্যান্স ব্যবসা পরিচালনার জন্য সোনালী (ইউকে) লিমিটেড নামে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্যারেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে পৃথক দুটি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গঠন করা যেতে পারে। বর্তমান শেয়ারহোল্ডাররা অর্থাৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও সোনালী ব্যাংক ওই কোম্পানির শেয়ার ধারণ করবে। প্রস্তাবিত অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুটি প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের মাধ্যমে পরবর্তী দুই-তিন বছর যথাযথ ব্যবসা পরিচালনা ও যাবতীয় রেগুলেটরি ইস্যুর প্রতিকার করবে এবং একটি শক্তিশালী অপারেটিং মডেল স্থাপন করে পরবর্তী সময়ে সোনালী ইউকে লিমিটেড ব্যাংকিং লাইসেন্সের জন্য পুনরায় পিআরএ এবং এফসিএর কাছে আবেদন করবে।

এটি বাস্তবায়ন করতে হলে সোনালী ব্যাংক (ইউকে)-এর নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে সোনালী বাংলাদেশ ইউকে লিমিটেড নামীয় একটি নতুন অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন করতে হবে, যা ট্রেডিংয়ের ওপর মনোযোগ দেবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লোকবল, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া, প্ল্যাটফর্ম সম্পদ-দায় ইত্যাদি বর্তমান কোম্পানির কাছ থেকে স্থানান্তর পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

ব্যবসার পরিসমাপ্তিকে তৃতীয় বিকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক ইউকে বন্ধ করে দিয়ে যুক্তরাজ্যে চলমান সব ব্যবসার পরিসমাপ্তি ঘটাতে হবে। তবে এ পদ্ধতি অবলম্বন করা হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের বাজারে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রবেশকে আরও কঠিন করে তুলবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো যুক্তরাজ্যে তাদের নিজস্ব একটি করেসপন্ডেন্ট ব্যাংক হারাবে।

সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুতকৃত সারসংক্ষেপে চারটি বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, এটি একটি কনফিডেন্সিয়াল বিষয়। এ বিষয়ে কিছু বলার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠানো হলেও সেটি নিয়ে কিছু বলতে পারবো না।

আইএইচআর/ইএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]