লেনদেনের নেতৃত্বে বিবিধ, পতনের শীর্ষে কাগজ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৪ পিএম, ২৮ মে ২০২২

পতনের বৃত্তে আটকে যাওয়া শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহেও দরপতন হয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে কমেছে সবকয়টি মূল্যসূচক। একইসঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

এই পতনের বাজারে সব থেকে বেশি দাম কমেছে কাগজ ও মুদ্রণ খাতের। অপরদিকে সব থেকে বেশি দাম বেড়েছে অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং খাতের। আর পতনের বাজারে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বিবিধ খাতের।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) খাত ভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিনদিনই শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। এতে এক সপ্তাহেই ডিএসইর বাজার মূলধন এক হাজার ৮৭০ কোটি টাকা কমে গেছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ২০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯৫টির।

অপরদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬১০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৯৮ কোটি ৯ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে বাজারটিতে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৮০৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

এমন পতনের বাজারে গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে গড়ে বিবিধ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওষুধ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৭৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৩ শতাংশ।

এছাড়া বাকি খাতগুলোর মধ্যে লেনদেনে অবদান রেখেছে- খাদ্য খাত ৬ শতাংশ, ব্যাংক খাত ১০ শতাংশ, বস্ত্র খাত ৮ শতাংশ, প্রকৌশল খাত ৭ শতাংশ, সিরামিক খাত ৫ শতাংশ, অব্যাকিং আর্থিক বা লিজিং খাত ১০ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ৪ শতাংশ, সাধারণ বিমা খাত ৪ শতাংশ, জীবন বিমা ৩ শতাংশ, চামড়া ৩ শতাংশ এবং আইটি খাত ৩ শতাংশ।

লেনদেনে বাকি খাতগুলোর অবদান তিন শতাংশের নিচে। এর মধ্যে সেবা ও আবাসন খাত লেনদেনে দুই শতাংশ অবদান রেখেছে। লেনদেনে এক শতাংশ করে অবদান রেখেছে মিউচ্যুয়ার ফান্ড, ভ্রমণ ও অবকাশ, সিমেন্ট, কাগজ ও মুদ্রণ এবং টেলিযোগাযোগ খাত।

অপরদিকে গত সপ্তাহে ৬টি খাত দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বিপরীতে ১৪টি খাত রয়েছে পতনের তালিকায়। এর মধ্যে সব থেকে বেশি পতন হয়েছে কাগজ ও মুদ্রণ খাতের। এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার দাম সম্মিলিতভাবে কমেছে ১৫ দশমিক ২৭ শতাংশ।

দাম কমার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে কমেছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। চার দশমিক ৭৯ শতাংশ দাম কামার মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সাধারণ বিমা খাত।

এছাড়া ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ, আইটির দুই দশমিক ৬৩ শতাংশ, সিরামিকের এক দশমিক ৯৩ শতাংশ, খাদ্যের দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, প্রকৌশলে এক দশমিক ৪৫ শতাংশ, ব্যাংকের এক দশমিক ৫৩ শতাংশ, সিমেন্টের এক দশমিক ১৩ শতাংশ, ওষুধের দশমিক ৬৫ শতাংশ, চামড়ার দুই দশমিক ৭৮ শতাংশ, টেলিযোগাযোগের শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং বিবিধ খাতের শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ দাম কমেছে।

অপরদিকে গত সপ্তাহে সব থেকে বেশি দাম বেড়েছে অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং খাতের। এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর দাম সম্মিলিতভাবে বেড়েছে এক দশমিক ৬৮ শতাংশ। এছাড়া জীবন বিমার এক দশমিক ৫১ শতাংশ, বস্ত্রের এক দশমিক ৩৭ শতাংশ, সেবা ও আবাসনের এক দশমিক ১৪ শতাংশ, পাটের দশমিক ৯০ শতাংশ এবং বিদ্যুৎও জ্বালানির দশমিক ৪৬ শতাংশ দাম কমেছে।

এমএএস/কেএসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]