যা প্রয়োজন সবই আছে মিডল্যান্ড ব্যাংকে

ইয়াসির আরাফাত রিপন
ইয়াসির আরাফাত রিপন ইয়াসির আরাফাত রিপন
প্রকাশিত: ১২:০৭ পিএম, ২০ জুন ২০২২

বেসরকারি খাতে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড। এক দুই করে পথচলার নবম বছর পার করে ফেললো ব্যাংকটি। গ্রাহকের চাহিদা বুঝে প্রয়োজন মেটানোর সেবা দিয়ে এরই মধ্যে আস্থা কুড়িয়েছে এই ব্যাংক। ৯ বছর পার হলেও ব্যাংক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেতিবাচক কোনো সংবাদ এই ব্যাংকটি থেকে শোনা যায়নি। দীর্ঘমেয়াদি ঋণ আর ডিজিটাল সেবা দিয়ে এরই মধ্যে সুনাম কুড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০ জুন ব্যাংকের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্প্রতি জাগো নিউজের মুখোমুখি হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আহসান-উজ-জামান। কথা বলেছেন নিজেদের ব্যাংকিং সেবা আর ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় নিজের অবস্থান নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক ইয়াসির আরাফাত রিপন

জাগো নিউজ: মিডল্যান্ড ব্যাংক কেন অন্যদের চেয়ে আলাদা?

আহসান-উজ-জামান: আমাদের যাত্রা ২০১৩ সালে। জন্মলগ্ন থেকেই আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমরা রক্ষণশীল। গ্রাহকদের চাহিদা বুঝে তাদের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করছি। আমরা মনে করি এক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে আমাদের ভিন্নতা আছে।

আমাদের পণ্য সেবা সাজিয়েছি মানুষের লাইফ সাইকেলের মতো করে। যা প্রয়োজন, তার সবই আছে আমাদের সেবায়। একজন মানুষ জন্মগ্রহণ, পড়াশোনা, কর্মজীবন শেষে অবসরে যান। এমন প্রতিটি স্তরের জন্য আলাদা আলাদা সেবা আছে মিডল্যান্ড ব্যাংকে। শৈশবকালের অ্যাকাউন্ট ‘স্কুল সেভার’, কলেজে গেলে ‘কলেজ সেভার’, আবার চাকরিতে থাকলে চলতি বা সেভিংস অ্যাকাউন্টসহ নানা হিসাব খুলতে পারবেন।

আপনার জমানো টাকা আমরা সঞ্চয় করে রাখি। সেখান থেকেও অনেক ভালো মাসিক আয় পাবেন। ব্যক্তি যে অবস্থাতেই থাকুন, আমাদের সেবা প্রস্তুত। আপনার ব্যালেন্স বাড়ছে, এক্ষেত্রে আমাদের সেবা আছে। হজ করতে চান, হজ স্কিমও আছে। আমরা শিগগির একটা সেবা নিয়ে আসবো যেখানে ডাবল বেনিফিট পাবেন গ্রাহক। যেখানে কিছু পুঁজি দিয়ে গ্রাহক শুরু করবেন এবং মাসিক ভিত্তিতে দিয়ে দ্বিগুণ বেনিফিটেড হবেন তারা। এসব কারণে আমাদের প্রতি আস্থা তৈরি হচ্ছে গ্রাহকের।

জাগো নিউজ: আপনাদের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা কী ধরনের...

আহসান-উজ-জামান: আজকাল নানা কারণে অনেকে ব্যাংকে আসতে পারেন না। তাদের জন্য উদ্ভাবনী ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা আছে, যার নাম ‘মিডল্যান্ড অনলাইন।’ এর মাধ্যমে আমাদের সব পণ্যই পাবেন। রেজিস্ট্রেশনের পর অ্যাপসে প্রবেশ করে নিজেই সেবা নিতে পারেন। বাসা থেকেই ব্যালেন্স চেক, অন্য হিসাবে ব্যালেন্স ট্রান্সফার, সবই করতে পারবেন।

জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে মিডল্যান্ড অনলাইন থেকে অ্যাকাউন্টও খুলতে পারবেন। এক্ষেত্রে এক লাখ টাকার নিচে হলে ঝটপট অ্যাকাউন্ট হয়। বেশি টাকার হলে কেওয়াইসি করতে হয়, সেক্ষেত্রে কয়েকদিন বেশি সময় লাগবে।

জাগো নিউজ: নয় বছরে কতদূর এগোলেন...

আহসান-উজ-জামান: যাত্রায় নয় বছরে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ ব্যবসার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সফলতা এসেছে। ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট, ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট, লোন সিন্ডিকেশনে যথেষ্ট পরিমাণ সক্ষমতা অর্জন করেছি।

সারাদেশে প্রায় ১৫০টি আউটলেট আছে, ১০০টি এজেন্ট ব্যাংকিং, ৩৫টি শাখা ও ১৩টি উপশাখা আছে। যেগুলো পল্লী এলাকাতেই বেশি। বাসা থেকে আয়কর দিতে চাইলে দিতে পারবেন। এছাড়া মোবাইলে আর্থিক সেবা দেওয়া কোম্পানিগুলো যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা আনা বা পাঠানো যাবে। এভাবেই আমরা অগ্রসর হচ্ছি। এখানে আমাদের সেবায় অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম আছে। গ্রাহকের জন্য ২৪ ঘন্টার কলসেন্টার আছে।

জাগো নিউজ: ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি...

আহসান-উজ-জামান: আল্লাহর রহমতে গ্রাহকদের পৃষ্ঠপোষকতায় আর্থিক অবস্থা খুবই সুদৃড়। ক্রমাগতভাবে আমাদের অবস্থান আরও বাড়ছে, শক্ত অবস্থা তৈরি হচ্ছে। ব্যবসার প্রসার ঘটছে, আয় বাড়ছে। গত বছর আমাদের সবচেয়ে বেশি ছিল অপারেটিং প্রফিট। তবে সার্বিকভাবে আগের বছরের তুলনায় গত বছর প্রফিট একটু কম হয়েছে, প্রভিশন (নিরাপত্ততা সঞ্চিতি) বেশি রাখায়।

জাগো নিউজ: আপনাদের ঋণ অবলোপন কেমন?

আহসান-উজ-জামান: আমাদের ঋণ কখনো অবলোপনের প্রয়োজন পড়েনি। তবে খেলাপি ঋণ কিছুটা বেড়েছে, সেটা ওভারকাম করার চেষ্টা করছি।

জাগো নিউজ: খাতুনগঞ্জসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে ঋণ দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক বিপদে আছে, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। মিডল্যান্ড ব্যাংকের অবস্থা কেমন?

আহসান-উজ-জামান: অন্যান্য ব্যাংকের মতো আমাদের অবস্থাও একই। বড় বড় সব গ্রাহক দুই এলাকা কেন্দ্রিক। আমরা ক্রমাগতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি যাতে এটা বিকেন্দ্রীকরণ হয়। আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থায় বড় ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম-খাতুনগঞ্জ এলাকার। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি অন্য এলাকাতেও সেবা ছড়িয়ে দিতে।

জাগো নিউজ: মিডল্যান্ড ব্যাংকের খেলাপি কী পরিমাণ?

আহসান-উজ-জামান: এনপিএল কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যেটা ২০২০-এ ছিল ১.১৬ শতাংশ, সেটা ২০২১-এ ৩.১৭ শতাংশে উঠেছে। অর্থাৎ ২০২০ সাল শেষে খেলাপি ছিল ৪৫.৩২ কোটি, ২০২১ শেষে ১৪৫.৫ কোটি হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি, এ বছর শেষে ১০০ কোটির মধ্যে নেমে আসবে খেলাপি। আশা করি সফলতার সাথেই বছরের শেষদিকে ৫০ কোটিতে নিয়ে আসব খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

জাগো নিউজ: গ্রাহকদের জন্য নতুন সেবা কী আসছে?

আহসান-উজ-জামান: আমাদের ব্রাঞ্চ সংখ্যা সারাদেশে অন্যদের তুলনায় কম। তাই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করি গ্রাহকদের সেবা দিতে। চার বছর আগে আমরা দুটি ডিজিটাল পণ্য সেবার উদ্ভাবন করি। এর মধ্যে ছিল ডিজিটাল সেভিংস অ্যাকাউন্ট, অন্যটি হলো ডিজিটাল প্রবাসী সেভিংস অ্যাকাউন্ট। আমাদের শাখায় না এসেও এ সেবা দুটি নিতে পারছেন।

ডিজিটাল হওয়ায় সেবাটিতে কোনো চেক বই থাকে না। তবে ব্যক্তিকে শনাক্ত করার বিষয়টি থাকে। এজন্য ব্যক্তি যদি শাখার ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকেন তাহলে আমাদের প্রতিনিধি তার কাছে যাবে, কেওয়াইসি করবে। আর আপনি যদি ২৫ কিলোমিটারের বাইরে থাকেন তাহলে গ্রাহক একবার শাখা বা উপশাখায় এসে পরিচয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভ করে নিয়ে যান। আর যদি গ্রাহক বিদেশে থাকেন তাহলে যে কোনো শাখায় অন্তত একবার এসে পরিচয় নিশ্চিত করে নিতে হবে। ডিজিটাল সেবার মাধ্যমেই গ্রাহককে এ সেবা দিয়ে যাচ্ছি আমরা।

ব্যবসার ক্ষেত্রে মিডল্যান্ড ব্যাংকের ক্যাশ সল্যুশন সেবা রয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে ব্যালেন্স চেক, ব্যালেন্স ট্রান্সফার করা যায়। আমাদের দেশে ক্রেডিট কার্ডের সেবার জন্য ব্যক্তির একটা আয় থাকতে হয়। অনেকেই কোয়ালিফাই করে না সেবাটি নেওয়ার জন্য। আমরা এ প্রয়োজনটা বুঝেই প্রথমে প্রি-পেইড কার্ডে টাকা জমা দিতে বলি। সেখানে যত টাকা গ্রাহক দেবেন, সেটাই তার ক্রেডিট কার্ডের লিমিট হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।

জাগো নিউজ: আপনাদের অগ্রাধিকার খাত কী কী?

আহসান-উজ-জামান: আমাদের অগ্রাধিকার খাত হলো ব্যক্তি ও ক্ষুদ্রঋণ। এছাড়া অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে রয়েছে কৃষিখাত, নারীর ক্ষমতায়ন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ তৃতীয় লিঙ্গকে সহায়তা। আমরা যেহেতু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, আমাদের বটম লাইন শক্তিশালী করতে হবে। খেলাপি ঋণ আছে, সেটা আয় করেই আমাদের সামলাতে হবে। এ কারণে আমরা বড় ঋণেও ফোকাস করি, অবকাঠামোর দিকেও নজর দেই। আমরা দীর্ঘমেয়াদে, ১০ বছর পর্যন্ত সময়ের জন্য ঋণ দেই। বিশ্বব্যাংকের একটা ঋণ কর্মসূচি আছে, সেটার আওতায় আমরা অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেই।

জাগো নিউজ: শিক্ষাবৃত্তিসহ সিএসআর কার্যক্রম কেমন?

আহসান-উজ-জামান: বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু নীতিমালা আছে, তার আওতায় আমরা কাজ করি। এ খাত থেকে শিক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা করা হয়। যারা দুস্থ তাদের জন্য অর্থ ব্যয় করি, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, শারীরিক অক্ষম, তৃতীয় লিঙ্গের ক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ উদ্যোগ নিলে আমরা সেখানেও সহযোগিতার হাত বাড়াই।

জাগো নিউজ: বৈশ্বিক সংকট, বিশেষ করে ডলার সংকট মোকাবিলা কীভাবে করবেন?

আহসান-উজ-জামান: এর আগেও আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল, এখনো আছে। আবার এখন একটা যুদ্ধ চলছে। সেই যুদ্ধের কারণে খাদ্যশস্য সরবরাহে স্বল্পতা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে। কোভিডের সময় সার্বিকভাবে চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও এখন অনেকটা স্বাভাবিকই বলা যায়। কিছুটা সংকট দেখা দিচ্ছে, এক্সচেঞ্জ রেট বেশ বেড়ে যাচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। পণ্য সামগ্রীর দামও বেড়ে যাচ্ছে। ডলারের স্বল্পতা দেখছি। যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে এটা মোকাবিলা করেই এগুতে পারব আমরা, উদ্বেগের কিছু নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংক যতটা পারে এ অবস্থা উত্তরণে সহযোগিতা করছে। আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির আওতায় কাজ করে যাচ্ছি। বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে আমরা বেশ বড় ঋণ পেয়েছি ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন থেকে। যার পরিমাণ ১৫ মিলিয়ন ডলার, সেটা আমাদের সক্ষমতা বেশ বাড়িয়েছে। এতে বর্তমান সংকট মোকাবিলা আমাদের জন্য আরও সহজ হয়েছে।

জাগো নিউজ: রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বাড়ানো উচিত কি না, হুন্ডির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ আসছে

আহসান-উজ-জামান: রেমিট্যান্সে সরকার আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে, এটা বড় উদারতা। বৈদেশিক মুদ্রা দেশে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আর ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না, এটাও উদারতা। তবে হুন্ডির সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলের পার্থক্য বেশি হলে চিন্তার বিষয়। তবে হুন্ডিতে নিরাপত্তা নেই। এ কারণে বেশিরভাগ মানুষই ব্যাংকিং চ্যানেল বেছে নিচ্ছেন। ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে একটা প্রমাণ থাকলো, সঙ্গে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা। এসব কারণে ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স ফ্লো তরান্বিত হবে বলে আশা করি।

জাগো নিউজ: প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংকিং খাতের জন্য আর কি কি থাকা উচিত?

আহসান-উজ-জামান: এখন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে এবং পেয়েছে। দ্রব্যমূল্যের কারণে সবাই চাপে আছে। এক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো যেতে পারে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ উপকৃত হবেন। বিভিন্ন ভাতা যেটা আছে সেটা বাড়ানো উচিত। ৫০০ টাকা ভাতা দিয়ে এখন কিছুই হয় না। দেশের উন্নতি হয়েছে। ভাতাও বাড়ানো যেতে পারে।

ব্যাংকিং-এর ক্ষেত্রে সরকারের ঋণের চাহিদা বাড়বে। সরকারের ঘাটতি বাজেটের সিংহভাগই কিন্তু ব্যাংকখাত থেকে নেওয়া হবে। ব্যাংকিং চ্যানেল থেকে যখন টাকা যাবে তখন বেসরকারি ব্যাংকের ওপর চাপ বাড়বেই। ওটা আমার মনে হয় যতটা টার্গেট দেওয়া হয় ব্যাংকিং খাত থেকে ততটা নেওয়া হয় না। আশা করছি এবারও সেভাবেই নেওয়া হবে। আর যদি ঘাটতির পুরো (টার্গেটের) টাকাই নেওয়া হয় ব্যাংকে অবশ্যই চাপ আসবে।

এখন বিল বন্ড রেট বেড়েছে, কলমানি মার্কেটের রেটও বেড়েছে এতে চাপ বাড়ছে। এসএলআর’র জন্য ট্রেজারি বন্ড কিনতে হয়, টেজারি বন্ডের ডে মুনাফা করমুক্ত ছিল, এবার করারোপ করা হয়েছে। বর্তমান অবস্থায় এটা যদি আরেকটু চিন্তা করা যায় তাহলে ব্যাংকগুলোর ওপরে চাপ কিছুটা কমতো। সোর্স ট্যাক্সও বাড়ানো হয়েছে, ছোট ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন বাধ্যবাধকতা করা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ঋণকারীরা একটু চাপে পড়তে পারেন। এটা পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

জাগো নিউজ: সামগ্রিক ব্যাংক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আপনাদের অবস্থান...

আহসান-উজ-জামান: ব্যাংকগুলোতে প্রভিশন ঘাটতি যেটা হয় সেক্ষেত্রে সরকার একটা সময় বেঁধে দেয়, যেটা ১০ বছরও হয়। এখানে আমার ঘাটতি নেই। আমরা গ্রাহকের আস্থার ওপর নির্ভর করেই কাজ করে যাচ্ছি। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আমরা যেভাবে করেছি এতে আমাদের কঠিন অবস্থতায় পড়তে হয়নি। আমারা রক্ষণশীলভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রভিশনটা আমরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশিও রাখি।

ব্যাংকে ঋণ খেলাপিকে ব্যাধি হিসেবে দেখি। কিন্তু এটা হয় নৈতিকতা থেকে। নৈতিকতাটা গ্রাহকের থেকেও হয়, আবার ব্যাংকের কর্মচারীর ক্ষেত্রেও হয়। আমি ব্যাংকের কর্মচারী। কিন্তু জেনেশুনেও অ্যাগ্রেসিভ হয়ে যায় কিছু টার্গেট পূরণের জন্য। খেলাপি কমাতে আমাদের নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। গ্রাহকের আমানত ‘চাহিবা মাত্রই ফেরত’ দিতে হবে, এটা স্মরণে রাখতে হবে। এ কথাটা আমাকে চিন্তা করতে হবে। তা না হলে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে আমাকে বেগ পোহাতে হবে। মানুষের যদি নৈতিকতা থাকে, নিয়মের প্রতি যদি শ্রদ্ধাশীল থাকে, তাহলে এটার উন্নতি হবে। এতে কিছুটা সময় হয়তো লাগবে। আবার দেখেশুনেই ঝুঁকি আমাকে নিতে হবে এবং এগুতে হবে।

ইএআর/এমএইচআর/জেআইএম

আমরা দীর্ঘমেয়াদে, ১০ বছর পর্যন্ত সময়ের জন্য ঋণ দেই। বিশ্বব্যাংকের একটা ঋণ কর্মসূচি আছে, সেটার আওতায় আমরা অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেই।

আমি ব্যাংকের কর্মচারী। কিন্তু জেনেশুনেও অ্যাগ্রেসিভ হয়ে যায় কিছু টার্গেট পূরণের জন্য। খেলাপি কমাতে আমাদের নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। গ্রাহকের আমানত ‘চাহিবা মাত্রই ফেরত’ দিতে হবে, এটা স্মরণে রাখতে হবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]