নির্মাণসামগ্রীর কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সাময়িক স্থগিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ২৬ জুন ২০২২
সালমান এফ রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ ঠিকাদার ঐক্য পরিষদের নেতারা

নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে এই পণ্যটির কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত, চলমান কাজসমূহের মূল্য সমন্বয় এবং নতুন রেট সিডিউল করাসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ঠিকাদার ঐক্য পরিষদ।

দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে জানাতে রোববার (২৬ জুন) দুপুরে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কার্যালয়ে যান সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

সেখানে সালমান এফ রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা।

সভায় ঠিকাদার ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণ প্রকল্পের মূল উপকরণসমূহ যেমন- লোহা ও লোহাজাতীয় দ্রব্য, সিমেন্ট, পাথর, ইট, বিটুমিন, ডিজেল, অ্যালুমিনিয়াম, বিল্ডিং ফিনিশিং আইটেমসহ এ খাতের প্রায় সব ধরনের সামগ্রীর মূল্য অস্বাভাবিক ও লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়ে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তারা বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমদানিকৃত সব নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতির মূল্যও ক্রমান্বয়ে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহৃত পানি ও বিদ্যুৎ বিল চুক্তিকৃত রেটের সঙ্গে সন্নিবেশিত না থাকায় ঠিকাদারকে তা পরিশোধ করতে হয়। গত অর্থবছরে দরপত্র দাখিলের সময় পাঁচ শতাংশ হারে আগাম আয়কর ধার্য ছিল, এখন তা সাত শতাংশ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পের অগ্রগতিতে অতি মন্থরতা দেখা দিয়েছে, বাস্তব অগ্রগতি খুবই হাতাশাব্যঞ্জক। কাজের স্বাভাবিক অগ্রগতি অর্জিত না হওয়ার ফলে ঠিকাদাররা বিল পাচ্ছেন না। ফলে ব্যাংকঋণ পরিশোধ করাও তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বিধায় ব্যাংক হতে আর্থিক সহায়তা প্রাপ্যতা অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে এবং তাদের আর্থিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- চলমান কাজগুলো যেহেতু ফিক্সড রেট কন্ট্রাক্টে সম্পাদিত হচ্ছে তাই বিশেষ ব্যবস্থায় প্রজ্ঞাপন জারি করে পিপিআরএ সন্নিবেশিত ফর্মূলা অনুযায়ী প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট ধারা প্রয়োগ করে কাজের দর সমন্বয় করা, প্রতিটি দরপত্রে কাজ বাস্তবায়নের সময় বিবেচনা ব্যতিরেকে পিপিআর অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় মূল্য সমন্বয় ধার্য করা, প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত পানি ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত খরচ রেড শিডিউলে সন্নিবেশিত করা, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি নির্মাণ কাজের প্রাক্কলনে প্রাইস কন্টিংজেন্সির আওতায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা, সরকারের পরিপত্র ও বিধিনিষেধ আরোপের কারণে নির্মাণসামগ্রীর দরের পরিবর্তনের প্রভাব এবং নির্মাণ ব্যয় সমন্বয় সংক্রান্ত পিপিআরে এ বর্ণিত ধারা ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট ফর চেঞ্জেস ইন লেজিসলেশন’ কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া ও চলমান নির্মাণ চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন উন্নয়ন নির্বাহী প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য একটি মূল্য সংশোধন সেল গঠন পূর্বক চুক্তিবদ্ধ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও নীতিমালা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করা।

বাংলাদেশ ঠিকাদার ঐক্য পরিষদের দাবিসমূহের একটি কপি প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে দেওয়া হয়। এসময় তিনি দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেন।

সভায় বাংলাদেশ ঠিকাদার ঐক্য পরিষদের সভাপতি রফিক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ম. আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বাসি) ডিরেক্টর হাসান মাহমুদ বাবু, ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বশির আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসএম/ইএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]