পাঁচ বছর পর বাজারে স্পন্দন রাইস ব্র্যান অয়েল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৯ পিএম, ২৮ জুন ২০২২

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উদ্যোগে বন্ধ হওয়ার পাঁচ বছর পর আবার বাজারে ফিরে আসছে স্পন্দন রাইস ব্র্যান অয়েল। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য খাতের কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ধানের কুঁড়া থেকে এই তেল উৎপাদন করছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শেরপুরে অবস্থিত ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন শুরু করেছে কোম্পানিটি। সম্প্রতি জাপানি বিনিয়োগে পরিচালিত মিনোরি বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্পন্দন রাইস ব্র্যান অয়েল বাজারজাত হতে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় এ উপলক্ষে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে স্পন্দন রাইস ব্র্যান অয়েলের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার তিন বছরের মাথায় ২০১৬ সালে কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে মিনোরি বাংলাদেশ নামে জাপানি একটি কোম্পানি এমারেল্ড অয়েলের ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ শেয়ার কিনে মালিকানায় আসে। জাপানি এই কোম্পানির হাত ধরেই প্রতিষ্ঠানটি আবার উৎপাদনে ফিরেছে।

এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মিনোরি বাংলাদেশের পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আন্তরিকতায় এ বছর আমরা উৎপাদন শুরু করেছি। এখন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এবং তিতাস গ্যাস আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে দিলে দেশে চলমান ভোজ্যতেলের সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারবে এমারেল্ড অয়েল।’

তিনি বলেন, ‘এমারেল্ড অয়েলের দুটি প্রোডাকশন ইউনিট আছে। এর একটির ধানের কুঁড়া ক্র্যাশ করার ক্ষমতা ১৮০ টন, অপরটির ক্ষমতা ১৫০ টন। ইউনিট দুটির দৈনিক মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৩৩০ টন। গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবাহের কারণে শুধু ১৮০ টনের ইউনিটটি সচল আছে। এই ইউনিটে ধানের কুঁড়া ক্র্যাশ করে ৩৫ মেট্রিক টনের মতো অপরিশোধিত তেল পাওয়া যায়। এখান থেকে দৈনিক পরিশোধিত তেল পাওয়া যায় প্রায় ২৬ মেট্রিক টন। এ সক্ষমতা নিয়ে আমরা প্রতিদিন প্রায় ২৬ মেট্রিক টন তেল বাজারজাত করতে পারবো।’

আফজাল হোসেন বলেন, ‘উৎপাদন শুরুর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে আমরা ব্রেক ইভেনে চলে আসছি। দিনের পুরো সময় গ্যাস সরবরাহ পেলে আমরা পুরোদমে উৎপাদনে ফিরতে পারব। এমন সহায়তা পেলে আশা করছি খুব শিগগিরই শেয়ারহোল্ডারদের ভালো ডিভিডেন্ড দিতে পারব।’

এমারেল্ডের এমডি বলেন, ‘উৎপাদন শুরুর পর আমাদের দুটি বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রথমটি হলো গ্যাসের সংকট। দ্বিতীয়টি ব্যাংক লোন পুনঃতফসিল। কোম্পানিটি যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন তিতাস গ্যাসের বকেয়া ছিল ৩২ লাখ টাকা। পরবর্তীতে ২০২১ সালে তিতাস গ্যাস লাইন চার্জসহ এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা বকেয়া বিলের একটি স্টেটমেন্ট দেয়। এ টাকার পুরোটাই শোধ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে রেকর্ডকৃত এই কোম্পানির লাভ বা ক্ষতি যাই হোক না কেন, আমাদের বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হল এটিকে একটি লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত করা এবং বছরের এবং বছরের শেষে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রদান করা। কোম্পানি পরিবর্তন হলেও আগের ব্র্যান্ড স্পন্দন নামেই তেল বাজারজাত করা হবে।’

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম ও মিনোরি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মিয়া মামুন।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন, ল্যাবএইড হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল খাদ্য তত্ত্ববিদ ডা. নুসরাত জাহান দীপা, ল্যাবেএইড হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিয়াক বিভাগের ডা. মো. লোকমান হোসেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার রোমানা ইসলাম।

এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ২০১১ সালে স্পন্দন-ব্র্যান্ডেড রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন শুরু করে। ২০১৪ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করে।

লোকসান এবং কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা না করার কারণে কোম্পানিটির শেয়ার ২০১৮ সাল থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরির অধীনে লেনদেন করা হচ্ছিল। ২০১৬ সালে এমারেল্ড অয়েল ১৮ কোটি ২০ লাখ টাকা লাভ করে এবং শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। ওই বছরই কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

বিএসইসির বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর কোম্পানিটিকে আবারও উৎপাদনে ফিরে আনার উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে গত বছর এমারেল্ড অয়েলের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বিএসইসি।

পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হককে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে বিএসইসি। পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য স্বাধীন পরিচালকরা হিসেবে নিয়োগ পান বিআইবিএমের প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার, সজিব হোসেইন ও সন্তোষ কুমার দেব।

বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির দায়ে ২০১৬ সালে কোম্পানিটির পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অনিয়মের মাধ্যমে এমারেল্ড অয়েল বেসিক ব্যাংকের দিলকুশা শাখা থেকে ৭৪ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা নেয়, যা সুদে-আসলে প্রায় ১২৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। ওই ঋণ পরিশোধ না করায় কোম্পানিটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ একাধিক পরিচালক মিলিয়ে মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

মামলায় কোম্পানির প্রধান উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ হাসিবুল গনি গালিব কিছুদিন জেলও খেটেছেন। পরে জামিন নিয়ে গনিসহ মোট তিন উদ্যোক্তা পরিচালক বিদেশে পালিয়ে যান।

এমএএস/এসএইচএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]