ক্রেতা নেই, অলস সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৭ পিএম, ০১ জুলাই ২০২২

আর মাত্র কয়েকদিন পরই পালিত হবে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। দুয়ারে ঈদ কড়া নাড়লেও পোশাকের মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের তেমন আনাগোনা নেই। এমনকি দিনের বেশিরভাগ সময় ক্রেতাদের দেখাই পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে তাদের অলস সময় পার করতে হচ্ছে।

শুক্রবার (১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকার অধিকাংশ মার্কেটে ক্রেতাদের তেমন আনাগোনা নেই। ক্রেতা না থাকায় পোশাক ব্যবসায়ী ও কর্মীদের কেউ কেউ গল্প করে সময় পার করছেন। আবার কেউ কেউ মোবাইলে গেম খেলে কিংবা গান শুনে সময় পার করছেন।

jagonews24

টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেট, খিলগাঁওয়ের তালতলা সিটি কর্পোরেশন মার্কেট, শান্তিনগরের টুইন টাওয়ার মার্কেট, মালিবাগের ফরচুন মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, নয়াপল্টনের পলওয়েল মার্কেটের সব ক'টিতেই ক্রেতাদের সংকট দেখা গেছে। এসব মার্কেটের ব্যবসায়ীরা যেন তীর্থের কাকের মতো ক্রেতার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার ঈদে পোশাকের ভালো বেচা-কেনা হয়েছে। কোরবানীর ঈদকেন্দ্রিক ভালো ব্যবসা হবে না, এমন ধারণা আগেই ছিলো। সে কারণে এবার ব্যবসায়ীরা ঈদকেন্দ্রিক বিনিয়োগ কম করেছেন। তবে যেটুকু প্রত্যাশা ছিলো, সেরকম ক্রেতাও পাওয়া যাচ্ছে না।

তারা বলছেন, সবসময় কোরবানির ঈদে সবার নজর থাকে পশুর হাটের দিকে। এ সময় নতুন পোশাক কম বিক্রি হয়। তার ওপর এবার বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এর ফলে খরচের লাগাম টানতে বেশিরভাগ মানুষই হিমশিম খাচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে পোশাকের ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে।

jagonews24

রাজধানী সুপার মার্কেটের একটি পোশাকের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, তিনজন বসে গল্প করছেন। এদের মধ্যে মো. ফজলুর রহমান নামের একজন বলেন, ঈদকেন্দ্রিক আমাদের কোনো বিক্রি নেই। দেখেন, এখানের সব দোকান খালি। কারও বিক্রি নেই। যে বিক্রি হচ্ছে, তা দিয়ে দোকান ভাড়াই উঠবে না।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির ঈদকেন্দ্রিক নতুন পোশাক বিক্রি কম হয়। তবে এতো কম এর আগে হয়নি। এবার বিক্রি একেবারেই নেই। আমরা খুব কষ্টে আছি। আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না। আমাদের কষ্টের কথা কাউকে বলতেও পারি না।

এ সময় পাশে বসে থাকা সুজন নামের একজন বলেন, সবাই বলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত লাভ করে। কীভাবে লাভ হয়, তার ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারে না। আমাদের দোকান ভাড়া আছে। কর্মীর বেতন আছে। ১০ বছর ধরে নিয়মিত কোরবানি দেই। এবার মনে হচ্ছে, কোরবানি দিতে পারবো না, বিক্রিই নেই। দোকান ভাড়া ও কর্মীর বেতন দেবো কীভাবে, সবসময় সেই চিন্তায় থাকি।

তালতলা সিটি কর্পোরেশন মার্কেট গিয়ে দেখা যায়, এক ব্যবসায়ী মোবাইলে গেম খেলছেন। মো. ফয়সাল নামের ওই ব্যবসায়ী বলেন, এবার ঈদকেন্দ্রিক কোনো বিক্রি নেই। এখন যেমন দেখছেন, দিনের বেশিরভাগ সময় এমন ক্রেতাশূন্যই থাকে। কাপাল ভালো হলে, মাঝেমধ্যে এক-দুজন ক্রেতা পাচ্ছি।

jagonews24

মৌচাক মার্কেটের ব্যবসায়ী ফিরোজের মুখ থেকেও বেরিয়ে আসলো হতাশা। তিনি বলেন, রোজার ঈদে ভালো ব্যবসা হয়েছে। এরপর থেকে আর বিক্রি নেই। দুমাস ধরে যে বিক্রি হচ্ছে, তাতে দোকান ভাড়ার টাকাই উঠছে না। কয়েকদিন পরেই ঈদ, তারপরও দেখেন সব দোকান ক্রেতা শূন্য পড়ে রয়েছে। ভাই, আমাদের কষ্টের কথা একটু লিখেন।

টুইন টাওয়ার মার্কেটের ব্যবসায়ী শামিম হোসেন বলেন, বিক্রি পরিস্থিতি খুবই খারাপ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ লাগার পর চাল, ডাল থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। এখন জিনিসপত্রের যে দাম, মানুষ সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছে। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আমাদের ব্যবসায়।

এদিকে, অভিজাত মার্কেট বসুন্ধরা শপিং মলে ক্রেতাদের কিছু আনাগোনা দেখা গেছে। তবে নিয়ে এখানের ব্যবসায়ীরাও সন্তুষ্ট না। তাদের দাবি, রোজার ঈদে যেমন ক্রেতা ছিলো, এখন তার পাঁচ ভাগের এক ভাগও নেই।

jagonews24

বসুন্ধরা শপিং মল থেকে থ্রি-পিস কেনা ফাহমিদা বলেন, ঈদের সময় মার্কেটে যেমন ভিড় থাকে, এবার তেমন ভিড় নেই। ভালো করে ঘুরে ঘুরে পছন্দমতো দুটি থ্রি-পিস কিনতে পেরেছি। দামও তুলনামূলক কম মনে হয়েছে আমার কাছে।

মার্কেটটির ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের দোকানের বেশিরভাগ মাল বাইরে থেকে আনা। আমরা ভারত ও পাকিস্তান থেকে মানসম্পন্ন পণ্য নিয়ে আসি। গত রোজার ঈদে খুব ভালো বিক্রি হয়েছিলো। কোরবানির ঈদে রোজার মতো বিক্রি হবে না, এ ধারণা আগেই ছিলো। তাই এবার খুব বেশি নতুন মাল আনিনি।

তিনি বলেন, এবার যতটুকু বিক্রি হবে ধারণা করেছিলাম, তাও হচ্ছে না। রোজার ঈদের সঙ্গে তুলনা করলে এখন বিক্রি পাঁচ ভাগের এক ভাগও নেই। অল্প কিছু লাভ পেলেই মাল ছেড়ে দিচ্ছি। এমন কি চালান তোলার জন্য কিছু কিছু থ্রি-পিস কেনা দামেও বিক্রি করে দিচ্ছি।

এমএএস/এমপি/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]