উত্তরা লেক থেকে বাদ গেলো হাতিরঝিলের আদলে ব্রিজ, ফের বাড়ছে মেয়াদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৪ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২২
এমন ব্রিজ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাদ যাচ্ছে, ফাইল ছবি

ফের মেয়াদ বাড়ছে উত্তরা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের। একই সঙ্গে ব্যয় সংকোচন করা হচ্ছে। মূল অনুমোদিত প্রকল্পে মোট ব্যয় ছিল ৩৭ কোটি ৩২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। পরে হাতিরঝিলের আদলে তিনটি নান্দনিক ব্রিজ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কারণে ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয় ২৫০ কোটি টাকা। তবে এবার সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় কমিয়ে ধরা হচ্ছে ৯০ কোটি ৭৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ৮টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে তালিকার চার নম্বরে রাখা হয়েছে প্রকল্পটি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন) উজ্জ্বল মল্লিক জাগো নিউজকে বলেন, উত্তরা লেকে হাতিরঝিলের আদলে তিনটি নান্দনিক ব্রিজ নির্মাণের কথা ছিল। এছাড়া আরও কিছু ব্যয়বহুল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ফলে মূল প্রকল্প থেকে বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৫০ কোটি টাকা। কিন্তু ব্রিজ তিনটি হচ্ছে না। ফলে প্রকল্পের ব্যয় কমে ৯০ কোটি টাকা হচ্ছে। এছাড়া ব্রিজসহ কিছু কাজ বাদ দেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মূল প্রকল্পটি জুলাই ২০১৪ থেকে জুন ২০১৬ মেয়াদে বাস্তবায়নের কথা ছিল। পরে জুন ২০১৯ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তারপরও প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় জুন ২০২০ পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। জুন ২০২০ পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, বাস্তব অগ্রগতি ৮০ শতাংশ। প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য জুন ২০২৩ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়। ফলে ধাপে ধাপে প্রকল্পের মেয়াদ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৭ বছর।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে- লেকের পানি পরিচ্ছন্নকরণ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, মাটি ভরাট, তীর সংরক্ষণ, স্লাজ অপসারণ, অফিস ইক্যুইপমেন্ট, ইন্সপেকশন পিট নির্মাণ, পরিবেশগত সমীক্ষা, অফিস ব্যবস্থাপনা ব্যয়, পরামর্শক ব্যয়, ওয়াকওয়ে ও অন্যান্য স্থাপনা মেরামত ও সংরক্ষণ অঙ্গের পরিমাণ ও ব্যয় বৃদ্ধি করা হবে।

এছাড়া রিটেইনিং ওয়াল, ক্যাচ পিট নির্মাণ এবং ওয়েস্ট বিন স্থাপন ইত্যাদি অঙ্গ নতুনভাবে সংযোজন করা হবে এবং সেতু নির্মাণ, বক্স কালভার্ট নির্মাণ, আরবরিকালচার, যানবাহন ক্রয়, বিদ্যমান কালভার্ট পুনর্বাসন ও ডিওয়াটারিং ইত্যাদি অঙ্গ বাদ দেওয়া হবে।

লেকগুলো বেদখল থেকে রক্ষা করা, লেকের পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে মহানগরীর নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করাসহ চিত্তবিনোদন সুবিধার উন্নয়ন করতে জুলাই, ২০১৪ থেকে জুন, ২০১৬ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য উত্তরা লেক উন্নয়ন প্রকল্পটি নেওয়া হয়। ৮ বছর আগে প্রকল্পটি নেওয়া হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

এমওএস/এমএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।